রাহুল গান্ধীর আবেদনে ১৪ ত্রুটি ধরল সুপ্রিমকোর্ট
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৫ এএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী জোটের ১১ নেতার করা আবেদনে ১৪টি ত্রুটি পেয়েছে সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রি। এসব ত্রুটির মধ্যে রয়েছে আদালত ফি বাবদ ২২০ রুপি ঘাটতি, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের পরিচয়পত্রের অস্পষ্ট ফটোকপি এবং ৯ আবেদনকারীর আইনজীবী নিয়োগের প্রয়োজনীয় নথি না থাকা।
এ কারণে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) আবেদনটির শুনানি হচ্ছে না। ত্রুটিগুলো সংশোধনের পর বুধবার শুনানির জন্য আবেদনটি তালিকাভুক্ত করার অনুরোধ জানিয়েছেন আবেদনকারীদের আইনজীবীরা। হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
আবেদনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের অভিযোগ তদন্তে স্বাধীন ও নির্দিষ্ট সময়সীমাভিত্তিক তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) কার্যক্রম স্থগিত রাখার আবেদন করা হয়েছে।
আবেদনকারীদের মধ্যে যাদের আইনজীবী নিয়োগের নথি (ভকালতনামা) জমা পড়েনি, তাদের মধ্যে রয়েছেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, রাষ্ট্রীয় জনতা দলের নেতা তেজস্বী প্রসাদ যাদব, ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির (শরদচন্দ্র পাওয়ার) সংসদ সদস্য সুপ্রিয়া সুলে, শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা সঞ্জয় রাউত এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য সৌগত রায়।
এ ছাড়া জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট রিট আবেদনে ‘ব্যক্তিগত পক্ষগুলোকে’ কেন বিবাদী করা হয়েছে, সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রি। আবেদনে ভারতের নির্বাচন কমিশনকে প্রথম বিবাদী করার পাশাপাশি তিন নির্বাচন কমিশনারকেও বিবাদী করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় রাহুল গান্ধী নিজে সুপ্রিমকোর্টে গিয়ে আবেদনটি জমা দেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন রাজ্যসভায় বিরোধীদলীয় নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং বিরোধী জোটের অন্য নেতারা।
এর আগে ‘গণতন্ত্র রক্ষা পদযাত্রা’ নামে সুপ্রিমকোর্টের উদ্দেশে বিরোধীদের একটি মিছিল পুলিশ ব্যারিকেডে আটকে দেওয়া হয়। আদালত থেকে প্রায় ৬০০ মিটার দূরে ভাগবান দাস রোডে মিছিলটি থামিয়ে দেওয়া হয়। ভোটার তালিকা সংশোধন এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিকে কেন্দ্র করে এ কর্মসূচি পালন করেন বিরোধী নেতারা।
আবেদনে বলা হয়েছে, সংবিধান অনুযায়ী সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারের নিশ্চয়তা রক্ষা এবং নির্বাচনি প্রক্রিয়াকে অবাধ, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাখার দায়িত্ব থেকে তারা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।
আইনজীবী এস প্রসন্নের মাধ্যমে জমা দেওয়া আবেদনে নির্বাচন কমিশন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশিকে বিবাদী করা হয়েছে।
আবেদনকারীরা বলেছেন, তারা এসআইআর কার্যক্রমের বৈধতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছেন না। বরং এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে সুপ্রিমকোর্ট স্বীকৃত সুরক্ষাব্যবস্থা মানা হয়েছে কি না এবং নির্বাচন কমিশন সম্মিলিত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানাচ্ছেন।

