সিরিয়ার প্রেসিডেন্টকে ফোন করে কী বলেছিলেন নেতানিয়াহু
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫৮ পিএম
নেতানিয়াহু ও শারা। সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারাকে ফোন করে হুমকি দিয়েছিলেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তার দাবি, দুই নেতার মধ্যে সংক্ষিপ্ত ও কঠোর কথোপকথনের ইস্যু ছিল দ্রুজ সম্প্রদায়ের ওপর চলা হত্যাযজ্ঞ। নেতানিয়াহুর ফোন কলের পর ওই হত্যাযজ্ঞ বন্ধ হয়।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলীয় দ্রুজ অধ্যুষিত ইয়ারকা শহরে নিজের দল লিকুদ পার্টির আয়োজিত এক সম্মেলনে এ কথা বলেন নেতানিয়াহু। তবে ফোনালাপের সুনির্দিষ্ট তারিখ বা বিস্তারিত প্রকাশ করেননি তিনি।
নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমি শারাকে ফোন করেছিলাম। কথোপকথনটি খুব সংক্ষিপ্ত ও কঠোর ছিল। এরপর হত্যাযজ্ঞ বন্ধ হয়ে যায়।’
দ্রুজ সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ভাইদের এবং আপনাদের ভাইদের সুরক্ষায় আমি যা যা করা সম্ভব, সবই করব।’
ইসরাইল-সিরিয়া নেতাদের প্রথম প্রকাশ্য যোগাযোগ
নেতানিয়াহুর এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ইসরাইল ও সিরিয়ার শীর্ষ দুই নেতার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের বিষয়টি প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে এল। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদের সরকারের পতনের পর সিরিয়ার ক্ষমতায় আসেন আহমেদ আল-শারা। দুই দেশের মধ্যে অতীতে একাধিক যুদ্ধ হলেও তাদের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় সুয়েইদা প্রদেশে দ্রুজ সশস্ত্র গোষ্ঠী ও বেদুইন যোদ্ধাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে সিরিয়ার সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীও সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের তথ্য অনুযায়ী, ওই সহিংসতায় দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হন। তাদের মধ্যে ৭৮৯ জন ছিলেন দ্রুজ বেসামরিক নাগরিক।
ওই সময় সিরিয়ার দ্রুজ সম্প্রদায়কে রক্ষার যুক্তিতে দামেস্কে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রেসিডেন্ট প্রাসাদসংলগ্ন এলাকায় বিমান হামলা চালায় ইসরাইল।
ইসরাইলে প্রায় দেড় লাখ দ্রুজ বসবাস করেন। সিরিয়ার দ্রুজদের সঙ্গে তাদের গভীর পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ক রয়েছে। এ কারণে সিরিয়ায় দ্রুজদের ওপর হামলার ঘটনায় ইসরাইলের অভ্যন্তরেও ব্যবস্থা নেওয়ার চাপ তৈরি হয়েছিল।
আসাদের পতনের পর সিরিয়ায় ইসরাইলি হামলা
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আসাদ সরকারের পতনের পর থেকে সিরিয়ায় শত শত বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। পাশাপাশি সিরিয়ার সীমান্তবর্তী একটি বাফার জোনের নিয়ন্ত্রণ নেয় দেশটি। ইসরাইলের দাবি, সীমান্ত এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অবস্থান শক্তিশালী হওয়া ঠেকাতেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, নিরাপত্তা চুক্তি নিয়ে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ইসরাইল ও সিরিয়ার মধ্যে কয়েক দফা সরাসরি আলোচনা হয়েছে। সিরিয়া এসব আলোচনায় নিজেদের ভূখণ্ড থেকে ইসরাইলি সেনা সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।


