Logo
Logo
×

Advertisement

আন্তর্জাতিক

আবারও ইরানে অভিযান শুরুর ইঙ্গিত যুক্তরাষ্ট্রের, মধ্যপ্রাচ্যে বাড়াচ্ছে সেনা ও নৌবহর

Advertisement

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৪ এএম

আবারও ইরানে অভিযান শুরুর ইঙ্গিত যুক্তরাষ্ট্রের, মধ্যপ্রাচ্যে বাড়াচ্ছে সেনা ও নৌবহর

ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

ইরানের বিরুদ্ধে আবারও বড় ধরনের সামরিক হামলা শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সামরিক সরঞ্জাম, নৌবহর ও সেনা মোতায়েন এবং ইসরাইলি বাহিনীর উচ্চ সতর্কাবস্থা নতুন করে হামলার আশঙ্কা বাড়িয়েছে। তবে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে এই সংঘাতের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। 

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে পাল্টাপাল্টি হামলার পর্যায়ে রয়েছে। ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ কার্যকর করার চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন। অন্যদিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে তেহরান।

গত সেপ্টেম্বরের শুরুর পর থেকে দুই দেশের কেউই স্থলভাগের লক্ষ্যবস্তুতে বড় ধরনের হামলা চালায়নি। তবে সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতা পরিস্থিতির পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের পররাষ্ট্রনীতি কর্মসূচির পরিচালক সুজান ম্যালোনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই হামলা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন তিনি। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

ম্যালোনির মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত সামরিক সরঞ্জাম ও সেনা পাঠানো, ওই অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সতর্কবার্তা এবং ইসরাইলি বাহিনীর উচ্চ সতর্কাবস্থা নতুন করে হামলার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তবে নির্বাচনের আগে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বাধাও রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তিনি হামলা চালাবেন না। এ ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ দেশটিতে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়নি। বিশেষ করে যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি নির্বাচনে চাপে পড়তে পারে।

ম্যালোনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে চলতে পারে না। যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে অবরোধ কার্যকর রাখতে ওয়াশিংটনকে বিপুলসংখ্যক নৌসামরিক সম্পদ নিয়োজিত রাখতে হচ্ছে। ফলে কূটনীতি অথবা সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতির কোনো সমাধান প্রয়োজন।

শুক্রবার ইরান পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, চাইলে সংঘাত খুব দ্রুত শেষ করা সম্ভব। তবে যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ করা হবে, নাকি ইরানকে ধীরে ধীরে দুর্বল হতে দেওয়া হবে, সেই সিদ্ধান্তের বিষয়েও কথা বলেন তিনি।


এদিকে তুরস্কে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত এবং সিরিয়া ও ইরাকবিষয়ক বিশেষ দূত টম ব্যারাক বলেছেন, সপ্তাহান্তেই ইরানে হামলা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মঙ্গলবার ইসরাইলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে এমন হামলা হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষক জেসন ক্যাম্পবেল বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে হামলার সম্ভাবনার বেশ কিছু ইঙ্গিত দেখা গেছে। একই সঙ্গে ইরান কিংবা ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায়ও যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে মনে হতে পারে।

তিনি বলেন, ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট বিমানবাহী রণতরিকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এটি মোতায়েন হলে ওই অঞ্চলে সাময়িকভাবে মার্কিন বিমানবাহী রণতরির স্ট্রাইক গ্রুপের সংখ্যা তিনটিতে পৌঁছাতে পারে। এ ছাড়া আরও একটি মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ক্যাম্পবেল আরও জানান, সম্প্রতি ইসরাইলি যুদ্ধবিমানগুলো ইরানে আগের হামলার অনুরূপ একটি শক্তি প্রদর্শন করেছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইসরাইলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

তবে নতুন হামলা ঠিক কখন শুরু হতে পারে, তা অনুমান করা কঠিন বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে চাপ দেওয়াই যদি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য হয়, তাহলে এত বিস্তৃত সামরিক তৎপরতার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

ক্যাম্পবেল বলেন, যুদ্ধের আগের পর্যায়ের তুলনায় ট্রাম্পের সামনে এখন বিকল্প কম। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সম্ভাব্য স্থল অভিযানও আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, এ ধরনের অভিযানে হাজার হাজার, এমনকি কোনো কোনো পরিস্থিতিতে কয়েক দশ হাজার সেনার প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু এত বড় বাহিনী নিরাপদে মোতায়েন করার মতো জায়গা বর্তমানে নেই।

ম্যালোনির মতে, ইরানের অধিকাংশ প্রচলিত সামরিক স্থাপনা আগের হামলাগুলোতে ইতোমধ্যে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে নতুন করে অভিযান শুরু হলে বেসামরিক অবকাঠামো ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলে, এমন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

তবে সামরিক অভিযান বাড়ালেই সংঘাতের সমাধান হবে, এমনটা মনে করেন না তিনি। ম্যালোনি বলেন, শুরু থেকেই এটি এমন একটি যুদ্ধ, যা কোনো পক্ষের হামলা বাড়ানোর মাধ্যমে শেষ করা সম্ভব নয়।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

এবার যুক্তরাষ্ট্রকে যে হুঁশিয়ারি দিল ইরান

এবার যুক্তরাষ্ট্রকে যে হুঁশিয়ারি দিল ইরান

লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করেছে ইরান, সাজিয়েছে বিস্তারিত পরিকল্পনা

লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করেছে ইরান, সাজিয়েছে বিস্তারিত পরিকল্পনা

ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পকে যেভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে ইসরাইল

মিডল ইস্ট মনিটরের প্রতিবেদন ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পকে যেভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে ইসরাইল

নেতানিয়াহুর গাড়ি লক্ষ্য করে বোতল নিক্ষেপ

নেতানিয়াহুর গাড়ি লক্ষ্য করে বোতল নিক্ষেপ

ইরান সরকার পতনে মরিয়া নেতানিয়াহু, কিন্তু স্থলযুদ্ধের সক্ষমতা আছে ইসরাইলের?

ইরান সরকার পতনে মরিয়া নেতানিয়াহু, কিন্তু স্থলযুদ্ধের সক্ষমতা আছে ইসরাইলের?

হরমুজে ৭ জাহাজে মাইন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের

হরমুজে ৭ জাহাজে মাইন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের

আরও পড়ুন

ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দিচ্ছে ইসরাইল

ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দিচ্ছে ইসরাইল

হরমুজে মাইনে আঘাত, দুই তেলবাহী সুপারট্যাংকারে আগুন

হরমুজে মাইনে আঘাত, দুই তেলবাহী সুপারট্যাংকারে আগুন

প্যারিসে বর্ণবাদী হামলা, ১২ বছরের কিশোরীকে আটবার গুলি

প্যারিসে বর্ণবাদী হামলা, ১২ বছরের কিশোরীকে আটবার গুলি

ইউক্রেনের এক শহরে যুদ্ধ থামালেন মেলানিয়া ট্রাম্প

ইউক্রেনের এক শহরে যুদ্ধ থামালেন মেলানিয়া ট্রাম্প

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম