সালমানকে হত্যার ছক, নজরদারিতে আমির-অমিতাভ-অক্ষয়—শেষে হামলা টাইগারের গাড়িতে
Advertisement
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১২ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলির ঘটনায় গ্রেফতার ব্যক্তিরা মুম্বাইয়ে অবস্থানকালে আমির খান, অমিতাভ বচ্চন ও অক্ষয় কুমারসহ একাধিক বলিউড তারকার বাড়িতে নজরদারি চালিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ সূত্র। তদন্তে উঠে এসেছে, হামলাকারীদের মূল লক্ষ্য ছিলেন সালমান খান। তবে তার বাসভবনের কঠোর নিরাপত্তা দেখে পরিকল্পনা পরিবর্তন করে তারা।
সূত্রের বরাতে এনডিটিভি জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বন্দুকধারীরা পুলিশকে বলেছেন, প্রথমে সালমান খানের গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টে নজরদারি চালানো হয়েছিল। কিন্তু সেখানে নিরাপত্তাব্যবস্থা কঠোর হওয়ায় হামলার পরিকল্পনা থেকে সরে আসেন তারা।
পরে আমির খান, অমিতাভ বচ্চন ও অক্ষয় কুমারের বাড়ির আশপাশেও নজরদারি চালানো হয়। তবে এসব তারকার কাছে পৌঁছানো কঠিন হওয়ায় শেষ পর্যন্ত টাইগার শ্রফকে লক্ষ্যবস্তু করা হয় বলে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
গত ১৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় ফুটবল খেলে গাড়িতে করে ফেরার সময় টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালান দুই ব্যক্তি। তখন গাড়ির জানালা দিয়ে ভক্তদের দিকে হাত নাড়ছিলেন অভিনেতা। হামলার পর বন্দুকধারীরা মোটরসাইকেলে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় টাইগার শ্রফ বড় ধরনের আঘাত না পেলেও তার গাড়িচালক ও এক পথচারী আহত হন।
মুম্বাই পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গাড়ি লক্ষ্য করে পাঁচ থেকে ছয় রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছিল। এ ঘটনায় রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ ও হরিয়ানা থেকে এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আমির খানের বাড়িতে এক মাস নজরদারি
মুম্বাই পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনার আগে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্যরা আমির খানের বান্দ্রার বাসভবনের আশপাশে প্রায় এক মাস অবস্থান করেন। এ সময় তারা তিন দফায় বাড়িটির আশপাশে নজরদারি চালান।
সূত্রগুলো এনডিটিভিকে জানিয়েছে, আমির খান প্রায়ই সিনেমার শুটিংয়ের কাজে বাড়ির বাইরে থাকতেন। আবার কখনো দীর্ঘ সময় বাড়ির ভেতরেই অবস্থান করতেন। ফলে তার কাছে পৌঁছানো হামলাকারীদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। আমিরের এসব অভ্যাস এবং তার কাছে সহজে পৌঁছাতে না পারার বিষয়টি শেষ পর্যন্ত তাকে রক্ষা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হামলার দায় স্বীকার অনিল পণ্ডিতের
টাইগার শ্রফের ওপর হামলার ঘটনায় অনিল পণ্ডিত নামে এক গ্যাংস্টারকে পলাতক আসামি হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। তিনি লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সহযোগী বলে অভিযোগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে তিনি গ্যাংটির কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়ে টাইগার শ্রফের ওপর হামলার দায়ও স্বীকার করেছিলেন তিনি।
এদিকে, আমির খানের তৃতীয় বিয়ে এবং তার স্ত্রী গৌরী স্প্র্যাটকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অডিও ক্লিপ ও পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে। ‘আরজু বিষ্ণোই’ ও ‘টাইসন বিষ্ণোই’ নামে ব্যক্তিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করা ওই অডিও ও পোস্টে আমির খানের বিয়েকে ‘লাভ জিহাদ’ এবং ‘সনাতন’ সংস্কৃতির পরিপন্থী হিসেবে উল্লেখ করে অভিনেতাকে শিক্ষা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
তবে ‘লাভ জিহাদ’ শব্দটির কোনো স্বীকৃত সংজ্ঞা ভারতের প্রচলিত আইনে নেই। ২০২০ সালে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় লোকসভায় জানিয়েছিল, দেশের বিদ্যমান আইনে ‘লাভ জিহাদ’ নামে কোনো বিষয় সংজ্ঞায়িত করা হয়নি। শব্দটি প্রায়ই মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিয়ের মাধ্যমে জোরপূর্বক ধর্মান্তরের অভিযোগ তুলতে ব্যবহার করা হয়।
আমির খানের বাড়িতে নজরদারির খবর এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিও ক্লিপ—দুই বিষয়ই খতিয়ে দেখছে মুম্বাই পুলিশ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজর রেখে টাইগারকে লক্ষ্যবস্তু
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের রিলস ও ইনস্টাগ্রাম পোস্ট দেখে হামলাকারীরা জানতে পারেন, টাইগার শ্রফ প্রতি রোববার জুহুর পুষ্পা নারসি গ্রাউন্ডে ফুটবল খেলতে যান।
তার চলাফেরা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের পর হামলাকারীরা তাকে তুলনামূলক সহজ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করেন। কারণ, অন্য তারকাদের তুলনায় তার নিরাপত্তাব্যবস্থা কম কঠোর বলে মনে হয়েছিল তাদের।
পুলিশের ধারণা, বলিউডে আতঙ্ক সৃষ্টি করা এবং একজন বড় তারকাকে লক্ষ্যবস্তু করাই ছিল এই হামলার ষড়যন্ত্রের উদ্দেশ্য।
