নতুন ফ্রন্ট খুলতে পারে ইরান, তিন মাস ধরে চলছে প্রস্তুতি
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১২ এএম
ইরান হুমকিতে পড়লে ঝাঁপিয়ে পড়বে ওই প্রক্সি বাহিনী। সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে মধ্যপ্রাচ্যে খুলতে পারে নতুন ফ্রন্ট। ওই যুদ্ধে সরাসরি জড়ানোর সম্ভাবনা কম লেবাননের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর। তবে ইরানের শাসকগোষ্ঠীর অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়লে যুদ্ধে যোগ দেবে তারা, এজন্য ইরানের থেকে অর্থ নিয়ে প্রস্তুতিও সেরে নিচ্ছে ওই প্রক্সি বাহিনী।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনালের একটি প্রতিবেদনের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট। ওই গ্রুপটি হচ্ছে হিজবুল্লাহ।
লেবাননের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, সামরিক সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়লেও ইরানের শাসনব্যবস্থার টিকে থাকা হুমকির মুখে পড়লে হিজবুল্লাহ যুদ্ধে জড়াতে পারে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার মধ্য দিয়ে এই ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করা হয়েছে বলে মনে করে গোষ্ঠীটি।
তিনি জানান, খামেনি নিহত হলে হিজবুল্লাহ কী ধরনের প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে, সে বিষয়ে আগেই যুক্তরাষ্ট্রকে অবহিত করেছিলেন গোষ্ঠীটির প্রতিনিধিরা।
গত মাসে ইসরাইলি সম্প্রচারমাধ্যম কান জানিয়েছিল, দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় এখনো হিজবুল্লাহর যোদ্ধাদের উপস্থিতি রয়েছে। তারা সেখানে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি নিজেদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের কাজ করছেন।
এদিকে রয়টার্স লেবাননের নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, ইসরাইলের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত শুরু হতে পারে—এমন আশঙ্কায় অন্তত তিন মাস ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছে হিজবুল্লাহ। এ জন্য ইরানের কাছ থেকে অর্থও পেয়েছে গোষ্ঠীটি।
সূত্রগুলোর দাবি, সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে ইরান থেকে কয়েক কোটি ডলার পেয়েছে হিজবুল্লাহ। এর বাইরে আগে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা প্রায় ২০ কোটি ডলারের অর্থও রয়েছে।
রয়টার্সের সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, হিজবুল্লাহ বিস্ফোরক সংগ্রহ, ড্রোন তৈরি এবং নিজেদের কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের কাজ করছে।
তবে এসব ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে হিজবুল্লাহর গণমাধ্যম দপ্তর। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে হিজবুল্লাহর অর্থায়ন বন্ধে ওয়াশিংটনের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

