লেবাননের পাহাড় কেটে সড়ক বানাচ্ছে ইসরাইল, উদ্দেশ্য কী?
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১০:২৯ এএম
লেবাননের ভূখণ্ডে হচ্ছে এসব সড়ক। সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দক্ষিণ লেবাননের পাহাড় ও উপত্যকার মধ্য দিয়ে নতুন সড়ক নির্মাণ করছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। এসব সড়কের মাধ্যমে দখল করা লেবাননের ভূখণ্ডে স্থাপিত সামরিক অবস্থানগুলোর মধ্যে যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করছে দখলদাররা।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) এ তথ্য জানিয়েছে।
সংস্থাটির বরাতে তুরস্কের গণমাধ্যম আনাদলু এজেন্সি জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে এই সড়ক নির্মাণকাজ চলছে। এসব এলাকায় ইসরাইলি বাহিনী লেবাননের ভূখণ্ড দখল করে বেশ কয়েকটি সামরিক অবস্থান স্থাপন করেছে। একই সঙ্গে সেখানে বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংসের অভিযানও চালাচ্ছে ইসরাইলি সেনারা।
মধ্যাঞ্চলের আওতাভুক্ত শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে আইতা আল-শাব, মারুন আল-রাস, বিনত জবেইল ও আইতারুন। এর মধ্যে মারুন আল-রাস থেকে সীমান্তের ওপারে ইসরাইলের আভিভিম বসতি দেখা যায়।
অন্যদিকে পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে রয়েছে নাকুরা, ইয়ারিন, ধাইরা, মারওয়াহিন ও আলমা আল-শাব। এসব এলাকায় লেবাননের সেনাবাহিনীর পাশাপাশি জাতিসংঘের অন্তর্বর্তী বাহিনী ইউনিফিল মোতায়েন রয়েছে।
গত ২০ ও ২১ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ফ্লোরিডার টাম্পায় লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে সামরিক ও কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এর পরই ইসরাইলি বাহিনীর নতুন এই তৎপরতার খবর সামনে এলো।
তবে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয় ওই বৈঠক। দুই পক্ষের মধ্যে যৌথ বিবৃতিও প্রকাশ করা হয়নি। যদিও পরবর্তী সময়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়।
তবে লেবানন থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার এবং হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
গত জুনে হওয়া একটি কাঠামোগত চুক্তিতে বলা হয়েছিল, দখল করা লেবাননের ভূখণ্ড থেকে পর্যায়ক্রমে সেনা প্রত্যাহার করবে ইসরাইল। এর বিনিময়ে ওই এলাকায় লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করার কথা রয়েছে।
তবে চুক্তি সত্ত্বেও লেবাননে সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ৪ হাজার ৩৮৬ জন নিহত এবং ১২ হাজার ৪০৭ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০ লাখের বেশি মানুষ।

