‘নতুন যুদ্ধ আগের চেয়েও দীর্ঘ হতে পারে’, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সতর্কবার্তা
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে তা আগের সংঘাতের চেয়েও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে সতর্ক করেছে ইরান। একই সঙ্গে যুদ্ধ কখন শেষ হবে বা কী শর্তে শেষ হবে, তা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এককভাবে নির্ধারণ করতে পারবেন না বলেও জানিয়েছে দেশটি।
রোববার (১ নভেম্বর) ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামনিয়া এ হুঁশিয়ারি দেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পক্ষ থেকে বারবার নতুন করে হামলা শুরুর হুমকি দেওয়া হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের প্রস্তুতির মধ্যেও এমন পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আকরামনিয়া বলেন, ‘ভবিষ্যতে সম্ভাব্য কোনো যুদ্ধ আগের সংঘাতের চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। আর সেই যুদ্ধ কখন বা কী শর্তে শেষ হবে, তা নির্ধারণ করার অবস্থানে থাকবেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মধ্য দিয়ে যুদ্ধের সূচনা হয়। সংঘাতের সবচেয়ে তীব্র পর্যায়ে ইরান পাল্টা জবাব হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এ সময় লেবানন ও ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোও সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে।
ইরানের এই হুঁশিয়ারির আগে দেশটিতে অবশিষ্ট কিছু লক্ষ্যবস্তুতে দ্রুত হামলা চালানোর ইঙ্গিত দেন ট্রাম্প। ফ্লোরিডায় নিজের বাসভবনে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ইরানে আরও এক বা দুটি স্থাপনা ধ্বংস করার বাকি রয়েছে। তবে চাইলে মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যেই সেগুলোতে হামলা চালানো সম্ভব।
এ সময় ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ নামে পরিচিত সন্দেহভাজন ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
‘যুদ্ধের কোনো ভৌগোলিক সীমা থাকবে না’
ইরানে নতুন করে হামলা হলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক কর্মকর্তারা।
রোববার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের ক্ষেত্রে কোনো ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা থাকবে না। শত্রুপক্ষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি নিশ্চিত করতে বিস্তৃত যুদ্ধক্ষেত্র নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এর আগের দিন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিও লিখিত বার্তায় একই ধরনের সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন।
এদিকে শনিবার ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়ি জানান, আলোচনা পুনরায় শুরুর উদ্যোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাঠানো একটি চিঠি তিনি পেয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যের ধরনে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করলেও চিঠির জবাব এখনো দেননি তিনি।
রেজায়ি বলেন, ইরান আগে থেকেই ওয়াশিংটনকে জানিয়েছে, তাদের শর্ত পূরণ না হলে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে না এবং কোনো আলোচনাও হবে না।
ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে বিদেশে জব্দ করা সম্পদ অবমুক্ত করা, দেশটির বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক মাস ধরে চলা নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রয়েছে বলে দাবি করে আসছে ইরান। দেশটির অনুমতি ছাড়া প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করা জাহাজগুলোতেও একাধিকবার হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে ইরানের বন্দরগুলোতে পাল্টা নৌ অবরোধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্যও প্রস্তুত আমিরাত
নতুন করে সংঘাত শুরু হলে পুরো অঞ্চলের জন্য তা ক্ষতিকর হবে বলে মন্তব্য করেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ। রোববার বাহরাইনের রাজধানী মানামায় এক সম্মেলনে তিনি বলেন, কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান হবে বলে তারা আশা করছেন। তবে একই সঙ্গে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতিও রাখছে আমিরাত।
তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি, কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় একটি অগ্রগতি আসবে। এই অঞ্চলের স্বার্থে নতুন করে আরেক দফা সংঘাত কাম্য নয়। তবে অতীতের মতো এবারও আমরা সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত।’
এদিকে ইরানের রাজধানী তেহরানের বাসিন্দাদের মধ্যেও নতুন করে যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ ও ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
২৭ বছর বয়সি স্বাস্থ্য পরিদর্শক মোহাদেসে এএফপিকে বলেন, ‘যেসব খবর আসছে, তা সত্যিই উদ্বেগজনক। কিন্তু একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে যতই এসব খবর নিয়ে ভাবি না কেন, বাস্তবে আমার কিছুই করার নেই।’
তবে ৪৮ বছর বয়সি বিক্রেতা ইব্রাহিমের মধ্যে তেমন উদ্বেগ দেখা যায়নি। তিনি বলেন, ‘আমরা আরেকটি যুদ্ধকে ভয় পাই না। ৪৮ বছর ধরেই আমরা যুদ্ধের মধ্যে আছি। আমরা সব সময়ই যুদ্ধের মধ্যে রয়েছি।’

