কলকাতায় একাধিক বিয়ে করলেই যাবে সরকারি চাকরি
কলকাতা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:০১ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
একাধিক বিয়ে করলে সরকারি চাকরি হারাতে হবে। শুধু তা-ই নয়, ভবিষ্যতে আর কোনো সরকারি চাকরিতে আবেদন করার সুযোগও থাকবে না। সরকারি কর্মীদের বহুবিবাহের বিরুদ্ধে এমনই কঠোর অবস্থান নিয়েছে ভারতের আসাম রাজ্য সরকার। ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে সব সরকারি কর্মীর জন্য একই নিয়ম কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার নেতৃত্বাধীন রাজ্য মন্ত্রিসভা।
মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) মন্ত্রিসভার বৈঠকে ১৯৬৪ সালের আসাম সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধি সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মী একাধিক বিয়েতে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে চাকরিচ্যুতির ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে রাজ্য সরকারের কোনো সরকারি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও তাঁকে অযোগ্য বলে বিবেচনা করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা জানিয়েছেন, সরকারি কর্মীদের আচরণবিধিতে এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে। তার ভাষায়, আসাম সরকারের কোনো কর্মী বহুবিবাহে যুক্ত থাকলে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে। ভবিষ্যতে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রেও এটি তার সবচেয়ে বড় অযোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে।
সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধির সাত নম্বর বিধিতে নতুন একটি উপধারা যুক্ত করে এই ব্যবস্থা কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, সরকারি চাকরির বিধিতে এটি একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তন। রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, হিন্দু, মুসলিম কিংবা খ্রিস্টান—কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সরকারি কর্মীর জন্যই আলাদা ছাড় থাকবে না। সবার ক্ষেত্রেই একই বিধি কার্যকর হবে। অভিন্ন দেওয়ানি বিধির নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
তবে আসামে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়নি। গত মে মাসে রাজ্য বিধানসভায় এ-সংক্রান্ত বিল পাস হলেও তা কার্যকর হওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতির সম্মতি প্রয়োজন। অক্টোবরের শেষ দিকে বিধি তৈরির কাজ এগিয়ে নিতে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। ফলে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর হওয়ার আগেই সরকারি কর্মীদের জন্য বহুবিবাহের বিরুদ্ধে কঠোর বিধি তৈরির পথে হাঁটল আসাম সরকার।
এদিকে মন্ত্রিসভার বৈঠকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত জুলাই মাসে আসামের শিবসাগর ও চরাইদেও জেলায় ভয়াবহ বন্যার কারণ অনুসন্ধানে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী ১০ দিনের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তের আবেদন জানিয়ে চিঠি পাঠানো হবে। তবে তদন্তের দায়িত্ব গ্রহণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্রীয় সরকার।
হিমন্ত বিশ্বশর্মার বক্তব্য, বন্যার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করাই এই তদন্তের উদ্দেশ্য। এর পেছনে অন্য কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই বলেও দাবি করেছেন তিনি।

