ট্রাম্পকে নীতি পরিবর্তনের জন্য চাপ দিচ্ছে তার দল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৪ এএম
ডোনাল্ড ট্রাম্প। সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভরাডুবির পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর নীতি পরিবর্তনের চাপ বাড়ছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির ভেতর থেকেই এ বার্তা পাচ্ছেন ট্রাম্প।
গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, হোয়াইট হাউসে রদবদল, ইরান যুদ্ধের অবসান এবং শুল্কনীতিতে পরিবর্তনের দাবি তুলেছেন দলের নেতারা ও রাজনৈতিক কৌশলবিদেরা।
গত বুধবার (৪ নভেম্বর) নির্বাচনের ফলাফলে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে রিপাবলিকানরা। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি নির্বাচনী আসনে ট্রাম্পের সমর্থিত প্রার্থীরাও পরাজিত হয়েছেন। এতে আগামী দুই বছর ট্রাম্পের আইন প্রণয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
অভিজ্ঞ রিপাবলিকান রাজনৈতিক কৌশলবিদ জন ফিহেরি এই ফলাফলকে ট্রাম্পের জন্য ‘বড় বিপর্যয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার মতে, হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিবর্তন করে প্রশাসনে নতুন করে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে।
ফিহেরি বলেন, ‘তার উচিত পুরো প্রশাসন ঢেলে সাজানো। এখন থেকে প্রতিটি দিন যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার রাজনৈতিক প্রভাব আরও কমতে থাকবে।’
তবে নির্বাচনের ফলাফলকে নিজের জন্য বড় কোনো ধাক্কা হিসেবে দেখছেন না ট্রাম্প। মঙ্গলবার রাতে ফক্স নিউজকে তিনি বলেন, ‘আমি এটাকে আমার ওপর আঘাত হিসেবে দেখছি না।’
নির্বাচনের পর কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের হাতে ট্রাম্পের আইন প্রণয়নের উদ্যোগ আটকে দেওয়া, তার প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত চালানো এবং প্রশাসনিক নিয়োগে বাধা দেওয়ার ক্ষমতা থাকবে। ফলে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে নীতি বাস্তবায়নে ট্রাম্প আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে উঠতে পারেন।
এদিকে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্ভাব্য রিপাবলিকান প্রার্থীদের মধ্যেও ট্রাম্পের নীতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ট্রাম্পের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচিত ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বুধবার ইরান যুদ্ধকে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এর মধ্য দিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান থেকে কিছুটা দূরত্ব তৈরি করেছেন তিনি।
রিপাবলিকান নেতাদের আশঙ্কা, দলের ভোটারদের ওপর ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের প্রভাব কমতে থাকলে তার কাছ থেকে দূরত্ব তৈরির প্রবণতা আরও বাড়বে।
হোয়াইট হাউসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নির্বাচনের পর প্রশাসনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদায়, মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন এবং ডেমোক্র্যাটদের তদন্ত নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, হোয়াইট হাউসে কর্মীদের মনোবল এখন তলানিতে।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, নির্বাচনের ছয় সপ্তাহ আগেই অভ্যন্তরীণ জনমত জরিপে দুই কক্ষেই রিপাবলিকানদের পরাজয়ের আশঙ্কা দেখা গিয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক ক্ষতির বিষয়ে সতর্ক করা হলেও ট্রাম্প ইরান যুদ্ধের নীতি পরিবর্তনে রাজি হননি।
ট্রাম্প মঙ্গলবার স্বীকার করেন, আট মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধ রিপাবলিকান প্রার্থীদের নির্বাচনি ক্ষতির কারণ হয়েছে। তবে যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্তের পক্ষে নিজের অবস্থান বজায় রাখেন তিনি।
ইরান যুদ্ধের পাশাপাশি হোয়াইট হাউসের বলরুম নির্মাণ ও ওয়াশিংটনের বিভিন্ন স্থাপনা সংস্কার নিয়েও দলের ভেতরে অসন্তোষ রয়েছে। মিশিগান ও আইওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচন নিয়ে পরিচালিত ফোকাস গ্রুপে রিপাবলিকান ও স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে এসব প্রকল্প নিয়ে বিরোধিতা বাড়তে দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন দলের এক রাজনৈতিক উপদেষ্টা।
ওই উপদেষ্টা বলেছেন, ট্রাম্প আগামী দুই বছর একই বিষয় নিয়ে ব্যস্ত থাকলে পরবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের আবারও বড় পরাজয়ের মুখে পড়তে হতে পারে।
তবে বুধবার সাংবাদিকদের নিয়ে হোয়াইট হাউসের বলরুম নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেন ট্রাম্প। প্রকল্পে নিজের সময় ব্যয় করার পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে এটা বেশ স্বস্তিদায়ক।’
অন্যদিকে হোয়াইট হাউস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্পের একটি ছবি প্রকাশ করে জানায়, ‘ট্রাম্প এখনো আপনাদের প্রেসিডেন্ট।’
নির্বাচনে পরাজয়ের পরও ট্রাম্পের হাতে যথেষ্ট নির্বাহী ক্ষমতা রয়েছে। অভিবাসন, শুল্ক, আবাসন ও সরকারি ব্যয়ের মতো বিষয়ে নির্বাহী আদেশ জারির প্রস্তুতি কয়েক মাস ধরেই নিচ্ছে হোয়াইট হাউস। তবে নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করে কংগ্রেসের তদন্ত এড়ানো সম্ভব হবে না।

