রক্ত গড়িয়ে না পড়লে কি অজু ভাঙবে?
Advertisement
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:৫৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইসলামী শরিয়তে অজু ভঙ্গের বিষয়গুলো নির্ভর করে কুরআন-সুন্নাহ ও সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়িদের আমলের ওপর। ক্ষতস্থান থেকে রক্ত বের হওয়া—বিশেষত তা যদি গড়িয়ে না পড়ে—এ নিয়ে ফিকহবিদদের মধ্যে আলোচিত ও সূক্ষ্ম মাসআলা রয়েছে। সংক্ষেপে নির্ভরযোগ্য মতামত তুলে ধরা হলো—
শরীরের ক্ষতস্থান থেকে রক্ত, পুঁজ অথবা পানি বের হয়ে নিজ স্থান অতিক্রম হয়ে একটু গড়িয়ে পড়লেই অজু ভেঙে যায়। নতুন করে অজু করার প্রয়োজন হয়। কিন্তু গড়িয়ে পরার আগেই যদি রক্ত, পুঁজ ও পানি বারবার মুছে ফেলা হয়, তাহলে কী অজু ভাঙবে?
হ্যাঁ, গড়িয়ে পড়ার আগেই যদি বারবার মুছে ফেলা হয় তবুও অজু ভেঙে যাবে। কারণ ইসলামিক স্কলাররা দুই অবস্থায় দুই বিধান হবে বলে মতামত দিয়েছেন। তাহলো—
১. যদি রক্ত এতোটুকু বেশি হয় যে, ওই ব্যক্তি না মুছলে অবশ্যই গড়িয়ে পড়তো, তাহলে তার অজু ভেঙ্গে গেছে। নতুন করে আবার অজু করতে হবে।
২. আর যদি এতো সামান্য রক্ত বের হয় যে, তা না মুছলেও গড়িয়ে পড়তো না, তাহলে অজু ভাঙবে না।
অজু ভঙের কারণ
মৌলিকভাবে অজু ভঙ্গের কারণ ৭টি। যথাক্রমে—
১. পায়খানা ও পেশাবের রাস্তা দিয়ে কোনো কিছু বাহির হলে। যেমন— বায়ু, পেশাব-পায়খানা, পোকা ইত্যাদি। (হেদায়া, হাদিস : ১/৭)
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন—
وَ اِنۡ كُنۡتُمۡ جُنُبًا فَاطَّهَّرُوۡا ؕ
‘তোমরা যদি অপবিত্র অবস্থায় থাক তবে বিধিমত পবিত্রতা অর্জন করবে। (নামাজ পড়তে পবিত্রতা অর্জন করে নাও)।’ (সুরা মায়িদা, আয়াত : ০৬ )
২. রক্ত, পূঁজ, বা পানি বের হয়ে গড়িয়ে পড়া। (হেদায়া : ১/১০)
أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ كَانَ إِذَا رَعَفَ انْصَرَفَ فَتَوَضَّأَ ثُمَّ بَنَى عَلَى صَلَاتِهِ
আবদুল্লাহ বিন উমর (রা.)-এর যখন নাক দিয়ে রক্ত ঝড়তো, তখন তিনি ফিরে গিয়ে অজু করে নিতেন। (মুয়াত্তা মালিক ১১০)
৩. মুখ ভরে বমি করলে
হজরত আয়শা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
مَنْ أَصَابَهُ قَيْءٌ، أَوْ رُعَافٌ، أَوْ قَلْسٌ، أَوْ مَذْيٌ، فَلْيَنْصَرِفْ فَلْيَتَوَضَّأْ، ثُمَّ لِيَبْنِ عَلَى صَلَاتِهِ، وَهُوَ فِي ذَلِكَ لَا يَتَكَلَّمُ
‘যে ব্যক্তির বমি হয়, অথবা নাক দিয়ে রক্ত ঝরে, বা মজি (সহবারের আগে বের হওয়া সাদা পানি) বের হয়, তাহলে ফিরে গিয়ে অজু করে নেবে।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ ১২২১)
৪. থুথুর সঙ্গে রক্তের ভাগ সমান বা বেশি হলে
হজরত হাসান বসরি (রহ.) বলেন—
إِذَا رَأَى الرَّجُلُ فِي بُزَاقِهِ دَمًا فَلَمْ يَكُنِ الدَّمُ غَالِبًا عَلَى الْبُزَاقِ لَمْ يَكُنْ عَلَيْهِ وُضُوءٌ.
‘যে ব্যক্তি তার থুথুতে রক্ত দেখে তাহলে থুথুতে রক্ত প্রবল না হলে তার ওপর অজু করা আবশ্যক হয় না। (মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা ১৩৩০)
৫. চিৎ বা কাত হয়ে হেলান দিয়ে ঘুমালে
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত—
نَّ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَسْجُدُ وَيَنَامُ وَيَنْفُخُ ثُمَّ يَقُومُ فَيُصَلِّي وَلَا يَتَوَضَّأُ . قَالَ فَقُلْتُ لَهُ صَلَّيْتَ وَلَمْ تَتَوَضَّأْ وَقَدْ نِمْتَ فَقَالَ " إِنَّمَا الْوُضُوءُ عَلَى مَنْ نَامَ مُضْطَجِعًا " . زَادَ عُثْمَانُ وَهَنَّادٌ " فَإِنَّهُ إِذَا اضْطَجَعَ اسْتَرْخَتْ مَفَاصِلُهُ
‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদায় গিয়ে (কখনো) ঘুমিয়ে যেতেন, এমনকি তাঁর নাক ডাকার আওয়াজ শোনা যেত। অতঃপর তিনি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতেন, কিন্তু অযু করতেন না। বর্ণনাকারী বলেন, আমি তাঁকে বললাম, আপনি ঘুমানোর পরও অযু না করেই সালাত আদায় করলেন? তিনি বললেনঃ যে ব্যক্তি শুয়ে ঘুমায়, অযু করা তারই কর্তব্য। ’উসমান ও হাম্মাদ আরও বলেন, এর কারণ হলো, শুয়ে ঘুমালে শরীরের বাঁধন ঢিলা হয়ে যায়।’ (আবু দাউদ ২০২)
৬. পাগল, মাতাল বা অচেতন হলে
হজরত হাম্মাদ (রহ.) বলেন, যখন পাগল ব্যক্তি সুস্থ্ হয়, তখন নামাজের জন্য তার অজু করতে হবে। (মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক, হাদিস : ৪৯৩)
৭. নামাজে উচ্চস্বরে হাসলে
হজরত ইমরান বিন হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— ‘যে ব্যক্তি নামাজে উচ্চস্বরে হাসে, সে ব্যক্তি অজু ও নামাজ পুনরায় আদায় করবে। হাসান বিন কুতাইবা (রহ.) বলেন, যখন কোনো ব্যক্তি উচ্চস্বরে হাসি দেয়, সে ব্যক্তি অজু ও নামাজ পুনরায় আদায় করবে।’ (দারাকুতনি ৬১২)

