Logo
Logo
×

Advertisement

ইসলাম ও জীবন

পুরুষের জন্য বাসায় হাফপ্যান্ট পরা কি জায়েজ?

Advertisement

Icon

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ০৫:৪৮ পিএম

পুরুষের জন্য বাসায় হাফপ্যান্ট পরা কি জায়েজ?

ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

পোশাক মানুষের ব্যক্তিত্ব, শালীনতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইসলাম পোশাকের ক্ষেত্রে শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য নয়, বরং লজ্জাশীলতা, মর্যাদা এবং সতর রক্ষার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে— বাসায় অবস্থানকালে পুরুষের জন্য হাঁটু খোলা হাফপ্যান্ট পরা কি বৈধ? বিশেষ করে যখন ঘরে পরিবারের অন্যান্য সদস্য বা সন্তানরা উপস্থিত থাকে, তখন ইসলামের নির্দেশনা কী? এ বিষয়ে কুরআন-সুন্নাহর আলোকে সঠিক বিধান জানা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

ইসলামে সতর রক্ষার গুরুত্ব

ইসলাম মানুষের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার জন্য সতর ঢেকে রাখাকে অপরিহার্য করেছে। পুরুষের সতর সাধারণভাবে নাভি থেকে হাঁটুর নিচ পর্যন্ত অংশকে বোঝায়। তাই অন্যের সামনে এই অংশ খোলা রাখা শরিয়তের দৃষ্টিতে বৈধ নয়।

স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পোশাক ও সতরের বিধান

স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ইসলামে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও পবিত্র। তারা পরস্পরের সামনে সতর প্রকাশ করতে পারেন। এ বিষয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন—

هُنَّ لِبَاسٌ لَّكُمْ وَأَنْتُمْ لِبَاسٌ لَّهُنَّ

‘তারা (স্ত্রীরা) তোমাদের জন্য পোশাক এবং তোমরা তাদের জন্য পোশাক।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ১৮৭)

মুফাসসিরগণ ব্যাখ্যা করেছেন, পোশাক যেমন মানুষের শরীরকে আচ্ছাদিত করে এবং তার সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত থাকে, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কও তেমনি ঘনিষ্ঠ, নিরাপদ ও পরস্পর নির্ভরশীল।

কার সামনে সতর আবৃত রাখা আবশ্যক?

এক সাহাবি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন—

احْفَظْ عَوْرَتَكَ إِلَّا مِنْ زَوْجَتِكَ أَوْ مَا مَلَكَتْ يَمِينُكَ

‘তোমার স্ত্রী অথবা তোমার অধীনস্থ দাসী ছাড়া অন্য সকলের সামনে তোমার সতর সংরক্ষণ করো।’ (আবু দাউদ ৪০১৭, তিরমিজি ২৭৬৯)

এই হাদিস থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সতর সংক্রান্ত সাধারণ বিধিনিষেধ প্রযোজ্য নয়। তাই তারা একান্তে থাকলে পরস্পরের সামনে হাঁটু খোলা হাফপ্যান্ট বা অন্য যেকোনো বৈধ পোশাক পরতে পারেন।

সর্বাবস্থায় শালীনতা রক্ষার নির্দেশনা

ইসলাম শুধু বৈধতার সীমারেখা নির্ধারণ করেই থেমে যায়নি; বরং সর্বোচ্চ শালীনতা ও লজ্জাশীলতার শিক্ষা দিয়েছে। হাদিসে পাকে এসেছে—

إِيَّاكُمْ وَالتَّعَرِّيَ فَإِنَّ مَعَكُمْ مَنْ لَا يُفَارِقُكُمْ إِلَّا عِنْدَ الْغَائِطِ وَحِينَ يُفْضِي الرَّجُلُ إِلَى أَهْلِهِ

‘তোমরা নগ্নতা থেকে বিরত থাকো। কারণ তোমাদের সঙ্গে এমন (ফেরেশতা) রয়েছেন যারা পেশাব-পায়খানা ও স্ত্রীর সঙ্গে নির্জন মুহূর্ত ছাড়া কখনো তোমাদের থেকে পৃথক হন না। সুতরাং তাদের লজ্জা করো এবং সম্মান করো।’ (তিরমিজি ২৮০০)

এই হাদিস মুসলমানকে সবসময় শালীনতা ও লজ্জাশীলতার মানসিকতা ধারণ করতে উৎসাহিত করে।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

অবৈধ সম্পর্ক কি রিজিকে বরকত কমিয়ে দেয়?

অবৈধ সম্পর্ক কি রিজিকে বরকত কমিয়ে দেয়?

১০ বছর বয়সের পর দুই ভাই-বোন কি একই বিছানায় ঘুমাতে পারবে?

১০ বছর বয়সের পর দুই ভাই-বোন কি একই বিছানায় ঘুমাতে পারবে?

নিজের প্রতি জুলুম— যে ১২টি গুনাহে নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি করি

নিজের প্রতি জুলুম— যে ১২টি গুনাহে নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি করি

হাতা গুটিয়ে নামাজ পড়া কি জায়েজ?

হাতা গুটিয়ে নামাজ পড়া কি জায়েজ?

‘চোখের জিনা’ থেকে নিজেকে বাঁচাবেন যেভাবে

‘চোখের জিনা’ থেকে নিজেকে বাঁচাবেন যেভাবে

নবীজিকে (সা.) ভালোবাসার উপায়, যাতে পূর্ণতা পায় ইমান

নবীজিকে (সা.) ভালোবাসার উপায়, যাতে পূর্ণতা পায় ইমান

আরও পড়ুন

নামাজের সময়সূচি: ২৯ অক্টোবর ২০২৬

নামাজের সময়সূচি: ২৯ অক্টোবর ২০২৬

অবৈধ সম্পর্ক কি রিজিকে বরকত কমিয়ে দেয়?

অবৈধ সম্পর্ক কি রিজিকে বরকত কমিয়ে দেয়?

মসজিদুল হারামে এক জামাতে নামাজের ১০০ বছর

মসজিদুল হারামে এক জামাতে নামাজের ১০০ বছর

১০ বছর বয়সের পর দুই ভাই-বোন কি একই বিছানায় ঘুমাতে পারবে?

১০ বছর বয়সের পর দুই ভাই-বোন কি একই বিছানায় ঘুমাতে পারবে?

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম