সহজ আমলের অফুরান নেকি
Advertisement
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আল্লাহ অত্যন্ত দয়ালু এবং তাঁর দয়ার কোনো শেষ নেই। বান্দার ছোট কোনো আমলেও তিনি সন্তুষ্ট হয়ে যান এবং নিজের রহমতের সাগরে জোয়ার এনে বান্দাকে অঢেল পুরস্কার ও ধনভাণ্ডারের দরজা উন্মুক্ত করে দেন। তাই বলে ছোট ও সহজ কোনো নেক আমলকেই অবহেলা করা উচিত নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো সৎ কাজকেই কখনো তুচ্ছ জ্ঞান করবে না; যদিও তা হয় তোমার ভাইয়ের সঙ্গে হাসিমুখে সাক্ষাৎ।
কারণ এই সহজ আমলগুলোর মাঝেই লুকিয়ে থাকে অফুরান প্রাপ্তি। নিচে এমন কিছু বরকতময় ও সহজ আমল এবং তার গুরুত্ব তুলে ধরা হলো।
বিশুদ্ধ নিয়ত (ইখলাস)
মনের সংকল্পই হলো নিয়ত। এতে কোনো শারীরিক কষ্ট-ক্লেশ বা মেহনত নেই। কিন্তু এটি মুমিনের ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় পর্যায় পর্যন্ত যেকোনো সাধারণ কাজকে নেকির কাজে পরিণত করতে পারে। নবীজি (সা.) নিয়তের গুরুত্ব সম্পর্কে এরশাদ করেছেন—
إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ، وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى...
‘নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের উপর নির্ভরশীল। আর প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যার নিয়ত সে করবে।’ (বুখারি ১, মুসলিম ১৯০৭)
এই হাদিসের শিক্ষা হলো, সওয়াবের প্রাপ্তি সম্পূর্ণ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। হিজরতের মতো গুরুত্বপূর্ণ আমলেও বাহ্যিক কাজ এক হলেও নিয়তের ভেদে ফলাফল সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারে।
ফায়েদা
উত্তম নিয়তের বরকতে মানুষ আমল ছাড়াই তার পূর্ণ সওয়াব পেয়ে যায়। নবীজি (সা.) বলেছেন—
مَنْ سَأَلَ اللَّهَ الشَّهَادَةَ بِصِدْقٍ بَلَّغَهُ اللَّهُ مَنَازِلَ الشُّهَدَاءِ، وَإِنْ مَاتَ عَلَى فِرَاشِهِ
‘যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে একনিষ্ঠ মনে শাহাদাতের প্রার্থনা করবে, আল্লাহ তাকে শহীদের মর্যাদা দান করবেন; যদিও সে নিজ বিছানায় মৃত্যুবরণ করে।’ (মুসলিম ১৯০৯)
অন্য এক হাদিসে তাবুক যুদ্ধের সময় ওজরবশত পেছনে থাকা সাহাবিদের সম্পর্কে রাসুল (সা.) বলেন, মদিনায় এমন কিছু মানুষ রয়েছে, যারা প্রতিটি পথে-প্রান্তরে তোমাদের সঙ্গেই ছিল। কারণ পূর্ণ নিয়ত থাকা সত্ত্বেও অসুস্থতা বা ওযর তাদের অংশগ্রহণে বাধা দিয়েছিল। (মুসলিম ১৯১১)
সতর্কতা
বিপরীতে, অসৎ বা ভ্রষ্ট নিয়তের কারণে বড় বড় ইবাদতও বরবাদ হয়ে যেতে পারে। কিয়ামতের দিন শহীদ, আলেম এবং দানবীর ব্যক্তিদের ভুল নিয়তের করুণ পরিণতির কথা হাদিসে এসেছে। লোকদেখানোর বা খ্যাতির উদ্দেশ্যে আমল করার কারণে তাদের জান্নাতে যাওয়ার পরিবর্তে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। হাদিসের বর্ণনায় এসেছে—
নবীজি (সা.) ইরশাদ করেছেন, কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম একজন শহীদকে ডাকা হবে এবং তার উপর আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতগুলো একে একে স্মরণ করানো হবে। অতঃপর জিজ্ঞাসা করা হবে, তুমি কি এসব নেয়ামত ভোগ করেছিলে? সে স্বীকার করে নেবে। বলবে, হ্যাঁ, এসব নেয়ামত আমি ভোগ করেছি। তখন আল্লাহ বলবেন, ওই সব নেয়ামতের শুকরিয়ায় তুমি কী আমল করেছ? সে বলবে, আমি আপনার রাস্তায় লড়াই করে শাহাদাত বরণ করেছি। আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ; তুমি তো এই জন্য লড়াই করেছ, যেন তোমাকে বীর উপাধি দেওয়া হয়। তা তো দেওয়া হয়েছে। অতঃপর আল্লাহ তাআলার নির্দেশে তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।
এরপর দ্বিতীয় ব্যক্তিকে আনা হবে, যে নিজে ইলম শিখেছে, কুরআন পড়েছে এবং অপরকে শিক্ষা দিয়েছে। তাকেও পূর্ববর্তী ব্যক্তির মতো আল্লাহ তাআলার নেয়ামতগুলো স্মরণ করানো হবে এবং সে তা স্বীকার করে নেবে। আল্লাহ তাআলা প্রশ্ন করবেন, এর প্রতিদানে তুমি কী আমল করেছ? সে বলবে, আমি তোমার জন্য ইলম শিখেছি, কুরআন পড়েছি এবং অপরকে শিখিয়েছি। আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলেছ; বরং তুমি তো এই জন্য ইলম শিখেছ যাতে লোকে তোমাকে আলেম বলে। তা তো বলা হয়েছে। অতঃপর তাকে আল্লাহর নির্দেশে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।
তৃতীয় আরেক ব্যক্তিকে হাজির করা হবে যে ছিল বিত্তশালী যাকে আল্লাহ তাআলা প্রচুর সম্পদ ও ঐশ্বর্য দান করেছিলেন। পূর্বোক্ত দুই ব্যক্তির মতো তাকেও আল্লাহর নেয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে প্রশ্ন করা হবে যে, তুমি কী আমল করেছ? সে বলবে, মাওলা! ব্যয়ের জন্য তোমার পছন্দনীয় এমন কোনো খাত বাদ যায়নি, যে খাতে তোমারই সন্তুষ্টির জন্য আমি দান করিনি। আল্লাহ তাআলা বলবেন, তুমি মিথ্যা বলেছ। বরং তুমি তা করেছ শুধু এ জন্যই যাতে লোকেরা তোমাকে দানবীর উপাধি দেয়। তা তো দেওয়া হয়েছে। অতঃপর আল্লাহর নির্দেশে তাকেও জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।’ (মুসলিম ১৯০৫)
সকল কাজে নিয়ত বিশুদ্ধ রাখা জরুরি। ইখলাসের সঙ্গে পরিশুদ্ধ নিয়ত থাকলে কোনো কারণে কাজ সম্পন্ন করতে না পারলেও পুরো সওয়াব পাওয়া যায়, আবার ভ্রষ্ট নিয়তের কারণে বড় আমলও ধুলিসাৎ হয়ে যায়। আল্লাহ তাআলা আমাদের ইখলাসপূর্ণ নিয়তের তৌফিক দান করুন। আমিন।

