কুলখানি-মৃত্যুবার্ষিকীর খাবার খেলে কি অন্তর মরে যায়? হাদিসে কী বলা হয়েছে
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মৃত্যুবার্ষিকী, চল্লিশা বা কুলখানির খাবার খেলে মানুষের অন্তর মরে যায়— সমাজে প্রচলিত এমন কথার নির্ভরযোগ্য ভিত্তি কুরআন ও হাদিসে পাওয়া যায় না। আলেমদের মতে, ‘মৃতের খাবার অন্তরকে মেরে ফেলে’- এ কথাকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস হিসেবে প্রচার করা সঠিক নয়।
ঢাকা বিমানবন্দর এলাকার জামিয়া বাবুস সালামের মুফতি ও মুহাদ্দিস জাওয়াদ তাহের বলেন, ইসলামি ফিকহের বিভিন্ন গ্রন্থে মৃত ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ভোজের আয়োজনের বিষয়ে আপত্তি ও অপছন্দনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ বিধান এবং সেই খাবার খাওয়ার কারণে মানুষের অন্তর মরে যাওয়ার দাবি এক বিষয় নয়।
সুনানে ইবনে মাজাহর ১৬১২ নম্বর হাদিসে সাহাবি জারীর ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তারা মৃত ব্যক্তির পরিবারের কাছে সমবেত হওয়া এবং দাফনের পর তাদের পক্ষ থেকে খাবারের আয়োজন করাকে শোক প্রকাশের অন্তর্ভুক্ত মনে করতেন।
অন্যদিকে, হজরত জাফর ইবনে আবি তালিব (রা.)-এর শাহাদাতের পর রাসুলুল্লাহ (সা.) তার পরিবারের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দেন। কারণ, শোকের কারণে পরিবারটি ব্যস্ত ও বিপর্যস্ত ছিল। এ বর্ণনাটি সুনানে আবু দাউদ (৩১৩২) ও জামে তিরমিজিতে (৯৯৮) এসেছে।
খাবার খেলেই কি গুনাহ হবে?
মৃত্যুবার্ষিকীর খাবার খাওয়ার কারণে কোনো ব্যক্তির অন্তর মরে যায় কিংবা তিনি অবশ্যই গুনাহগার হয়ে যান- এমন সিদ্ধান্ত দেওয়ার নির্ভরযোগ্য দলিল নেই। এ ক্ষেত্রে খাবারের উৎস, আয়োজনের উদ্দেশ্য এবং এর সঙ্গে যুক্ত ধর্মীয় বিশ্বাস বিবেচনা করা প্রয়োজন।
বিশেষ করে মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পদে নাবালক ওয়ারিশের অধিকার থাকলে, তাদের বৈধ অধিকার ক্ষুণ্ন করে কোনো আয়োজন করা গুরুতর অন্যায়। পবিত্র কোরআনের সুরা আন-নিসার ১০ নম্বর আয়াতে অন্যায়ভাবে এতিমের সম্পদ ভক্ষণকারীদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
মৃত ব্যক্তির জন্য করণীয়
ইসলামি নির্দেশনা অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া ও ইস্তিগফার করা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী গরিব-অসহায়দের সদকা দেওয়া উত্তম কাজ। একই সঙ্গে শোকাহত পরিবারের ওপর আনুষ্ঠানিক ভোজের বোঝা চাপানোর পরিবর্তে তাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত।

