স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা থাকলে কী তালাক দেওয়া যায়, আইন কী বলে?
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৭ পিএম
প্রতীকী ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা থাকলেও স্বামী তাকে তালাক দিতে পারেন। তবে গর্ভাবস্থায় তালাক দিলে তা কার্যকর হওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আইনি বিধান রয়েছে। এ ছাড়া তালাকের পর সন্তানের হেফাজত ও ভরণপোষণের দায়িত্ব কার ওপর থাকবে, তা নিয়েও রয়েছে আইনগত নিয়ম।
বাংলাদেশের প্রচলিত মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী, স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা থাকা অবস্থায় তালাক দেওয়া হলে ৯০ দিন পূর্ণ হওয়া এবং সন্তান জন্ম নেওয়ার মধ্যে যেদিনটি পরে ঘটবে, সেদিন তালাক কার্যকর হবে।
অর্থাৎ, তালাক দেওয়ার পর ৯০ দিন পার হলেও সন্তান ভূমিষ্ঠ না হলে তালাক কার্যকর হবে না। আবার সন্তান ৯০ দিন পূর্ণ হওয়ার আগেই জন্ম নিলে ৯০ দিন পূর্ণ হওয়ার পর তালাক কার্যকর হবে।
তবে তালাক কার্যকর হওয়ার আগ পর্যন্ত স্ত্রীর ভরণপোষণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। আইন অনুযায়ী, এ সময় স্ত্রী প্রাপ্য ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকারী। তালাকের ক্ষেত্রে আইন নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করাও জরুরি। স্বামীকে তালাক উচ্চারণের পর সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত নোটিশ দিতে হয় এবং স্ত্রীকে সেই নোটিশের অনুলিপি পাঠাতে হয়। নোটিশ দেওয়ার পর ৯০ দিনের সময় গণনা করা হয়। তবে স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা হলে সন্তান জন্মের সময়ের বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হয়।
তালাকের পর সন্তানের হেফাজত ও ভরণপোষণ
তালাকের পর সন্তানের হেফাজত কার কাছে থাকবে, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে সন্তানের বয়স, কল্যাণ ও প্রযোজ্য আইন বিবেচনা করা হয়। প্রচলিত মুসলিম ব্যক্তিগত আইনের সাধারণ নীতি অনুযায়ী, ছেলে সন্তানের ক্ষেত্রে সাত বছর বয়স পর্যন্ত এবং মেয়ে সন্তানের বয়ঃসন্ধিকাল পর্যন্ত মায়ের হেফাজতের অধিকার স্বীকৃত। তবে এটি সব ক্ষেত্রে চূড়ান্ত নিয়ম নয়। সন্তানের সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনায় আদালত ভিন্ন সিদ্ধান্ত দিতে পারেন।
সন্তান মায়ের হেফাজতে থাকলেও তার ভরণপোষণের দায়িত্ব সাধারণত বাবার ওপর বর্তায়। সন্তানের খাবার, পোশাক, চিকিৎসা, শিক্ষা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয় বহনের বিষয়টি এ দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে পারিবারিক আদালতের মাধ্যমে প্রতিকার চাওয়া যায়।
আইনগত জটিলতা ও করণীয়
তালাকের নোটিশ যথাযথভাবে না দেওয়া, ভরণপোষণ নিয়ে বিরোধ, সন্তানের হেফাজত এবং সন্তানের ব্যয় বহন নিয়ে মতবিরোধ থেকে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইন ও পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হয়।
তাই স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা থাকা অবস্থায় তালাক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে প্রথমে তালাকের আইনগত প্রক্রিয়া, স্ত্রীর প্রাপ্য ভরণপোষণ এবং অনাগত সন্তানের অধিকার সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে পারিবারিক আইনজীবীর পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়াই যুক্তিযুক্ত।

