প্রথম স্বামীর সঙ্গে তালাক ছাড়াই অন্যত্র বিয়ে, এরপর কি আবারও ফিরে আসতে পারবেন স্ত্রী?
Advertisement
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, কোনো নারী প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ থাকা অবস্থায় তালাক বা শরিয়তসম্মতভাবে বিবাহবিচ্ছেদ না ঘটলে অন্য কোনো পুরুষকে বিয়ে করতে পারেন না। এ অবস্থায় দ্বিতীয় বিয়ে শরিয়তসম্মত হবে না।
একটি ঘটনায় জানা যায়, এক নারীর বাবা তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ না ঘটিয়েই অন্য এক পুরুষের সঙ্গে বিয়ে দেন। দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে ওই নারী ২৩ বছর সংসার করার পর তার মৃত্যু হয়। পরে নারীটি প্রথম স্বামীর কাছে ফিরে আশ্রয় চান। এ অবস্থায় তাদের পুনরায় একসঙ্গে থাকার সুযোগ আছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ইসলামি বিধান অনুযায়ী, বিবাহিত নারীকে অন্য পুরুষের জন্য বিয়ে করা নিষিদ্ধ। পবিত্র কোরআনের সূরা আন-নিসার ২৪ নম্বর আয়াতে বিবাহিত নারীদের বিয়ের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ রয়েছে।
আলেমদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, প্রশ্নে বর্ণিত ঘটনা সঠিক হলে এবং প্রথম স্বামী কখনো তালাক না দিয়ে থাকলে, তাদের বিবাহ শরিয়তসম্মতভাবে বহাল ছিল কি না, সেটিই মূল বিবেচ্য বিষয়। যদি প্রথম বিবাহ অক্ষুণ্ণ থাকে এবং পরবর্তী সময়ে কোনো শরিয়তসম্মত বিচ্ছেদ না ঘটে, তাহলে দ্বিতীয় বিয়ের বৈধতা থাকবে না।
এ ক্ষেত্রে দ্বিতীয় পুরুষের সঙ্গে দীর্ঘ ২৩ বছর একসঙ্গে বসবাস করলেও তা বৈধ বিবাহের মর্যাদা পাবে না। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এ বিষয়ে শরিয়তের বিধান অনুযায়ী তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে।
প্রথম স্বামীর কাছে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে বলা হয়েছে, যদি নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয় যে প্রথম বিবাহ কখনো বিচ্ছিন্ন হয়নি, তাহলে আগের বিবাহ বহাল থাকার ভিত্তিতে তারা একসঙ্গে থাকতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে নতুন করে বিয়ে করার প্রয়োজন হবে না।
তবে ঘটনাটির বাস্তবতা, প্রথম বিয়ের শর্ত, জোরপূর্বক বিয়ের পরিস্থিতি এবং পরবর্তী সময়ে কোনো তালাক বা শরিয়তসম্মত বিচ্ছেদ ঘটেছিল কি না—এসব বিষয় যাচাই করে একজন অভিজ্ঞ মুফতি বা ইসলামি আইন বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।

