যে দোয়ায় কেউ খালি হাতে ফিরে না
Advertisement
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দুনিয়াবি নানা দুঃখ-কষ্ট, অভাব-অনটন কিংবা মনের গভীর আকুলতায় আমরা প্রতিনিয়ত মহান আল্লাহর দরবারে হাত তুলি। কিন্তু অনেক সময় সঠিক পদ্ধতি বা ইসমে আজমের মাধ্যমে দোয়া না জানার কারণে তা কবুলের পথ দীর্ঘায়িত হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ ও হাদিসের পাতায় এমন কিছু অনবদ্য আমল তথা দোয়ার কথা বর্ণিত হয়েছে, যা পাঠ করে কোনো বান্দা পরম করুণাময়ের কাছে হাত তুললে মহান আল্লাহ তা ফিরিয়ে দেন না। এমনই এক অতীব মর্যাদাপূর্ণ ও অলৌকিক দোয়া তুলে ধরা হলো। যাতে পরম সুসংবাদ লুকিয়ে রয়েছে।
বান্দা যখন আল্লাহর একত্ববাদ ও অনন্য গুণাবলীর পূর্ণ স্বীকৃতি দিয়ে তার দরবারে আকুতি জানায়, তখন আসমানের মালিক সেই বান্দার ডাকে সাড়া না দিয়ে পারেন না। হাদিসে বর্ণিত মুবারক দোয়াটি হলো—
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِأَنِّي أَشْهَدُ أَنَّكَ أَنْتَ اللَّهُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ الأَحَدُ الصَّمَدُ الَّذِي لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ
উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা বিআন্নি আশহাদু আন্নাকা আনতাল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা আনতাল আহাদুস সামাদ, আল্লাজি লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ, ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ।’
অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি এ কারণে যে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আপনিই আল্লাহ, আপনি ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য বা মাবুদ নেই। আপনি একক ও অমুখাপেক্ষী সত্তা, যিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কাউকেও জন্ম দেওয়া হয়নি, আর কেউই যাঁর সমকক্ষ নয়।’
দোয়াটির অনন্য মর্যাদা ও ঐতিহাসিক পটভূমি
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র জীবনে এই দোয়াটি শোনার পর অত্যন্ত আনন্দিত ও বিস্ময়সূচক মন্তব্য করার এক চমৎকার ঐতিহাসিক ঘটনা হাদিস গ্রন্থে সংরক্ষিত রয়েছে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে বুরায়দা (রা.) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) একদিন এক সাহাবিকে এই বাক্যে দোয়া করতে শুনলেন—
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِأَنِّي أَشْهَدُ أَنَّكَ أَنْتَ اللَّهُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ الأَحَدُ الصَّمَدُ الَّذِي لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ
উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা বিআন্নি আশহাদু আন্নাকা আনতাল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা আনতাল আহাদুস সামাদ, আল্লাজি লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ, ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ।’
অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি এ কারণে যে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আপনিই আল্লাহ, আপনি ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য বা মাবুদ নেই। আপনি একক ও অমুখাপেক্ষী সত্তা, যিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কাউকেও জন্ম দেওয়া হয়নি, আর কেউই যাঁর সমকক্ষ নয়।’
তখন নবীজি (সা.) বললেন—
وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَقَدْ سَأَلَ اللَّهَ بِاسْمِهِ الأَعْظَمِ الَّذِي إِذَا دُعِيَ بِهِ أَجَابَ وَإِذَا سُئِلَ بِهِ أَعْطَى
‘যার হাতে আমার প্রাণ, তার কসম করে বলছি! এই ব্যক্তি আল্লাহর সেই ‘ইসমে আজম’ বা মহান নামের উসিলা দিয়ে প্রার্থনা করেছে, যে নামে তাকে ডাকা হলে তিনি অবশ্যই সাড়া দেন এবং যে নামে কোনো কিছু চাওয়া হলে তিনি নিশ্চিতভাবেই তা দান করেন।’ (আবু দাউদ ১৪৯৩, তিরমিজি ৩৪৭৫)
দোয়ার শিক্ষা ও সারমর্ম
এই দোয়ার প্রথমাংশে আল্লাহর একমাত্র উপাস্য হওয়ার স্বীকৃতি এবং তাওহিদের চরম সত্যটি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। একই সঙ্গে এটি পবিত্র কুরআনের সুপরিচিত ‘সুরা আল-ইখলাস’-এর মহান আয়াতগুলোর মাধ্যমে আল্লাহর তাওহিদ বা একত্ববাদ, তাঁর পূর্ণাঙ্গ অমুখাপেক্ষিতা ও কোনো সমকক্ষ না থাকার মহাসত্যকে নির্দেশ করে। যখন কোনো বান্দা পূর্ণ ঈমান ও বিশ্বাসের সঙ্গে আল্লাহর এই গুণাবলী স্মরণ করে চাওয়ার মতো চায়, তখন তার দোয়া কবুল হওয়া সুনিশ্চিত হয়ে যায়।
দোয়া হলো মুমিনের সেরা অস্ত্র এবং আল্লাহর সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক স্থাপনের অনন্য মাধ্যম। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে যেকোনো বিশেষ প্রয়োজন, সংকট কিংবা মনের নেক মাকসুদ হাসিলের সময় আমরা যদি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো এই ইসমে আজমসমৃদ্ধ দোয়াটি পাঠ করে মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে আকুতি জানাতে পারি, তবে ইনশাআল্লাহ আমাদের চাওয়া কখনো খালি হাতে ফিরে আসবে না। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে মহান এই দোয়ার বরকত অর্জন করার এবং সুন্নাহ মেনে দোয়া করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

