মুড সুইং থেকে চুল পড়া, থাইরয়েডের সমস্যার নীরব লক্ষণ কী কী
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:১৪ পিএম
থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্যহীনতা। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মুড সুইং, অকারণে ওজন বেড়ে যাওয়া কিংবা হঠাৎ চুল পড়া—এই সমস্যাগুলোকে অনেক সময় আমরা মানসিক চাপ বা কাজের স্ট্রেস বলে এড়িয়ে যাই। অথচ এর নেপথ্যে থাকতে পারে শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থি—থাইরয়েড।
বিশেষজ্ঞদের মতে, থাইরয়েড গ্রন্থি শরীরের ‘মাস্টার কন্ট্রোল সুইচ’-এর মতো কাজ করে। এই গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন বিপাকক্রিয়া, শরীরের শক্তির মাত্রা, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতায় সরাসরি প্রভাব ফেলে। থাইরয়েড ঠিকভাবে কাজ না করলে শরীরে একাধিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।
থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্যহীনতায় কী সমস্যা হয়?
ওজন বৃদ্ধি:
থাইরয়েড কম সক্রিয় হলে তাকে হাইপোথাইরয়েডিজম বলা হয়। এ অবস্থায় শরীরের বিপাক গতি ধীর হয়ে যায়। ফলে ক্যালোরি ঠিকভাবে বার্ন না হওয়ায় অল্প খেয়েও ওজন দ্রুত বাড়তে থাকে। নিয়মিত ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর খাবার খেয়েও যদি ওজন নিয়ন্ত্রণে না আসে, তবে থাইরয়েড পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে।
চুল পড়া বেড়ে যাওয়া:
চুলের বৃদ্ধির চক্রের সঙ্গে থাইরয়েড হরমোনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। হরমোনের মাত্রা ওঠানামা করলে চুলের ফলিকল দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে অতিরিক্ত চুল পড়া, চুল পাতলা হয়ে যাওয়া বা নতুন চুল গজানোর হার কমে যেতে পারে। সঙ্গে নখ ভঙ্গুর হয়ে যাওয়া ও শুষ্ক ত্বকও দেখা দেয়।
মেজাজ খিটখিটে ও মানসিক পরিবর্তন:
থাইরয়েডের সমস্যা মানসিক স্বাস্থ্যের উপরও প্রভাব ফেলে। হরমোনের মাত্রা কম হলে ক্লান্তি, মন খারাপ, উদ্বেগ ও বিষণ্ণতা দেখা দিতে পারে। আবার থাইরয়েড অতিরিক্ত সক্রিয় হলে অস্থিরতা, বিরক্তি, ঘুমের সমস্যা ও মনোযোগের ঘাটতি তৈরি হয়। উভয় ক্ষেত্রেই মুড সুইং স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
যে সূক্ষ্ম লক্ষণগুলো অবহেলা করবেন না:
অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরম লাগা, কোষ্ঠকাঠিন্য, শুষ্ক ত্বক, অনিয়মিত মাসিক, বুক ধড়ফড় করা কিংবা অল্প পরিশ্রমেই ক্লান্ত হয়ে পড়া—এই ছোট পরিবর্তনগুলো থাইরয়েড সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
লক্ষণ দেখা দিলে করণীয়:
থাইরয়েডের সন্দেহ হলে রক্তে TSH, T3 ও T4 পরীক্ষা করানো জরুরি। ওজন দ্রুত বাড়া বা কমা, চুল ঝরা, গলার কাছে ফুলে যাওয়া কিংবা অতিরিক্ত ক্লান্তি অনুভব করলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। নিজে থেকে ওষুধ শুরু বা বন্ধ করা বিপজ্জনক। পরীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী চিকিৎসক প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেন। পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ এবং আয়োডিনসমৃদ্ধ সুষম খাদ্য গ্রহণ করলে থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

-6967ca5113613.jpg)