প্রতিদিন আলু খাওয়ার উপকারিতা জানুন
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি পরিবারের রান্নাঘরে আলুর ব্যবহার নিত্যদিনের ব্যাপার। ভর্তা থেকে শুরু করে তরকারি—বিভিন্ন খাবারে আলুর উপস্থিতি খুবই সাধারণ। তবে অনেকের ধারণা, আলু মানেই শুধু কার্বোহাইড্রেট, আর বেশি খেলেই ওজন বেড়ে যায়।
পুষ্টিবিদরা বলছেন, এই ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। সঠিক উপায়ে রান্না করে পরিমিত পরিমাণে খেলে আলু হতে পারে স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাদ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
আলুতে রয়েছে জটিল শর্করা (কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট), খাদ্যআঁশ, পটাশিয়াম, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি৬ এবং বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এসব উপাদান শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সহায়তা করে। গবেষণায়ও দেখা গেছে, স্বাস্থ্যকর উপায়ে প্রস্তুত করা আলু নিয়মিত খেলে হাড়, হৃদযন্ত্র, ত্বক, পরিপাকতন্ত্র এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
আলু খাওয়ার প্রধান উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক-
হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখে
আলুতে থাকা পটাশিয়াম ও ফসফরাস হাড়কে শক্তিশালী রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একটি মাঝারি আকারের আলু দৈনিক প্রয়োজনীয় পটাশিয়ামের উল্লেখযোগ্য অংশ সরবরাহ করতে পারে। ফল ও সবজির সঙ্গে আলু খাওয়ার অভ্যাস হাড়ের ঘনত্ব বজায় রাখতেও সহায়ক।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে
পটাশিয়াম শরীর থেকে অতিরিক্ত সোডিয়াম বের করে দিতে সহায়তা করে, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে সেদ্ধ বা বেক করা আলু নিয়মিত খাওয়ার সঙ্গে রক্তচাপ কমার সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী
ফাইবার ও পটাশিয়ামে সমৃদ্ধ আলু হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে তা হতে হবে সেদ্ধ, স্টিম, বেক বা অল্প তেলে রোস্ট করা। বিপরীতে, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই বা অতিরিক্ত তেলে ভাজা আলুতে বেশি চর্বি ও সোডিয়াম থাকায় হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক
আলুর ভিটামিন সি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। এটি শরীরকে ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিক্যালের প্রভাব থেকে সুরক্ষা দিতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া খোসায় থাকা কোয়েরসেটিন প্রদাহ কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।
হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে
দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় দুই ধরনের ফাইবার এবং রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। ফলে হজম ভালো থাকে, গাটের স্বাস্থ্য উন্নত হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকিও কমে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে
সেদ্ধ, স্টিম বা বেক করা আলুতে ক্যালরি ও চর্বি তুলনামূলক কম থাকে। একই সঙ্গে এটি দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে। তাই সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে পরিমিত পরিমাণে আলু খাওয়া ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।
ত্বকের সুস্থতায় অবদান রাখে
ভিটামিন সি, বি ভিটামিন, ক্যারোটিনয়েড ও অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে, যা ত্বককে সুস্থ রাখতে ভূমিকা রাখে।
ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়াতে পারে
রান্না করা আলু ঠান্ডা করে আবার গরম করলে এতে রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এটি ইনসুলিনের কার্যকারিতা উন্নত করতে সহায়ক হতে পারে। তবে নিয়মিত ফ্রেঞ্চ ফ্রাই বা অতিরিক্ত তেলে ভাজা আলু খেলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন
সবুজ হয়ে যাওয়া বা অঙ্কুর গজানো আলু খাওয়া উচিত নয়। এতে সোলানিন ও চ্যাকোনিন নামের বিষাক্ত উপাদানের মাত্রা বেড়ে যায়, যা রান্নার পরও পুরোপুরি নষ্ট হয় না। এছাড়া অতিরিক্ত তাপে বা পুড়িয়ে রান্না করলে অ্যাক্রিলামাইড নামের ক্ষতিকর রাসায়নিক তৈরি হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের উচ্চ পটাশিয়ামের কারণে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আলু খাওয়া উচিত। কারও কারও ক্ষেত্রে আলুতে অ্যালার্জিও থাকতে পারে।
স্বাস্থ্যকরভাবে আলু খাওয়ার উপায়
আলুর সর্বোচ্চ পুষ্টিগুণ পেতে ডিপ ফ্রাইয়ের পরিবর্তে সেদ্ধ, বেক, স্টিম বা অল্প তেলে রোস্ট করা পদ্ধতি বেছে নিন। আলুকে মূল খাবারের বদলে সাইড ডিশ হিসেবে রাখুন এবং প্লেটের বাকি অংশ শাকসবজি ও চর্বিহীন প্রোটিন দিয়ে পূরণ করুন। অতিরিক্ত মাখন, চিজ, ক্রিম বা লবণ ব্যবহার এড়িয়ে চলুন। সম্ভব হলে খোসাসহ আলু খান, কারণ খোসাতেই ফাইবার ও অনেক প্রয়োজনীয় খনিজ বেশি থাকে।
আলুকে অস্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং সঠিকভাবে রান্না ও পরিমিত পরিমাণে খেলে এটি হতে পারে একটি পুষ্টিকর ও ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্যতালিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।


