মানসিক চাপ কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে গান, বলছে গবেষণা
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৩ পিএম
প্রতীকী ছবি।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গান শোনা কেবল মনকে বিক্ষিপ্ত বা বিভ্রান্ত করে না, বরং মস্তিষ্কের নিজস্ব স্ট্রেস-মোকাবেলা করার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে চাপ থেকে সেরে উঠতে সরাসরি সাহায্য করে।
সম্প্রতি বিজ্ঞান বিষয়ক স্বনামধন্য জার্নাল ‘প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস’-এ প্রকাশিত এক নতুন গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।
চায়নিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের ইনস্টিটিউট অব সাইকোলজির গবেষকরা গান কীভাবে মানবদেহ ও মস্তিষ্কের চাপকে প্রভাবিত করে, তা খতিয়ে দেখতে ১২০ জন সুস্থ তরুণ-তরুণীর ওপর দুটি পরীক্ষামূলক গবেষণা পরিচালনা করেন।
গান যে মনকে শান্ত করতে পারে, তা বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের জানা থাকলেও অন্যান্য প্রশান্তিদায়ক শব্দের তুলনায় এর উপকারিতা কতটা আলাদা এবং চাপের কোন পর্যায়ে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি কার্যকর হয়, তা এতদিন স্পষ্ট ছিল না।
গবেষণার প্রথম ধাপে অংশগ্রহণকারীদের একটি মানসিক চাপের কাজ দেওয়ার আগে ও পরে প্রশান্তিদায়ক গান কিংবা প্রাকৃতিক পানির নরম শব্দ শোনানো হয়।
ফলাফল থেকে দেখা যায়, কাজের আগে গান শুনলে অংশগ্রহণকারীদের প্রাথমিক চাপ সেভাবে কমে না। তবে চাপের কাজটি শেষ হওয়ার পর রিকভারি বা সেরে ওঠার সময়ে গান অনেক বেশি কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।
এ সময় যারা গান শুনেছিলেন, তাদের মানসিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটে এবং চাপের সঙ্গে জড়িত শারীরিক সূচকগুলোও তুলনামূলকভাবে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।
দ্বিতীয় ধাপে গবেষকরা ব্রেন স্ক্যানের মাধ্যমে চাপ থেকে সেরে ওঠার সময় অংশগ্রহণকারীদের মস্তিষ্কের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। স্ক্যানে দেখা যায়, গান শোনার ফলে শ্রবণ বা অডিটরি কর্টেক্স এবং শরীরের অভ্যন্তরীণ অবস্থা পর্যবেক্ষণ, গুরুত্বপূর্ণ সংকেত শনাক্তকরণ এবং মানসিক ও শারীরিক চাপ নিয়ন্ত্রণকারী মস্তিষ্কের অংশগুলোর (যেমন ইনসুলা ও থ্যালামাস) মধ্যকার সংযোগে পরিবর্তন আসে।
গবেষকদের মতে, মস্তিষ্কের এই পরিবর্তনগুলো মূলত চাপমুক্ত হওয়ার ঠিক পরের সময়টিতেই সবচেয়ে বেশি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এটি প্রমাণ করে যে কোনো কঠিন অভিজ্ঞতার পর মস্তিষ্ক কীভাবে চাপকে গ্রহণ করবে এবং তার মোকাবিলা করবে, তাতে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে গান।
সূত্র: সামা টিভি

