ক্রিয়েটিনিনের সঙ্গে কিডনি বিকল হওয়ার কী সম্পর্ক? মাত্রা কমাবেন যেভাবে
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৭ এএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ক্রিয়েটিনিন হলো আমাদের পেশির স্বাভাবিক ক্রিয়াকলাপের ফলে উৎপন্ন একটি বর্জ্য পদার্থ, যা সাধারণত কিডনি রক্ত থেকে ফিল্টার বা ছাঁকন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মূত্রের সাথে শরীর থেকে বের করে দেয়। যখন কোনো কারণে কিডনি তার স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হারায় বা শরীরে পানির তীব্র ঘাটতি দেখা দেয়, তখন এই বর্জ্য পদার্থটি রক্তে জমা হতে শুরু করে এবং ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়।
রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়া মূলত কিডনির কার্যকারিতা কমে যাওয়ার একটি অন্যতম প্রধান লক্ষণ। ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বেড়ে গেলে এবং এর সঠিক চিকিৎসা না হলে তা ক্রনিক কিডনি ডিজিজ বা স্থায়ী কিডনি বিকলতার দিকে মোড় নিতে পারে। তাই সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবনের মাধ্যমে এই মাত্রা কমিয়ে আনা অত্যন্ত জরুরি। চলুন জেনে নিই কীভাবে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা কমাবেন—
রেড মিট বা প্রোটিন কমান
আমরা যখন প্রোটিন (বিশেষ করে লাল মাংস বা রেড মিট) খাই, তখন তা হজম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরাসরি ক্রিয়েটিনিনে রূপান্তরিত হতে পারে। তাই গরুর মাংস, খাসির মাংস এবং প্রক্রিয়াজাত মাংস খাওয়া পুরোপুরি বাদ দেওয়া উচিত। এর পরিবর্তে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী উদ্ভিজ্জ প্রোটিন (যেমন ডাল বা লেন্টিল) বা হালকা মুরগির মাংস ও ডিমের সাদা অংশ পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে।
সোডিয়াম বা লবণের ব্যবহার কমানো
অতিরিক্ত লবণ শরীরে তরল জমিয়ে ফেলে এবং রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়, যা কিডনির নেফ্রনগুলোর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। রান্নায় লবণের ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি কাঁচা লবণ খাওয়া বন্ধ করতে হবে। চিপস, সস, আচার এবং ক্যানজাত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।
পটাশিয়াম ও ফসফরাস নিয়ন্ত্রণ
কিডনির কার্যক্ষমতা কম থাকলে রক্তে পটাশিয়াম ও ফসফরাস জমতে শুরু করে, যা হৃৎপিণ্ড ও হাড়ের জন্য বিপজ্জনক। তাই উচ্চ পটাশিয়ামযুক্ত খাবার (যেমন: কলা, কমলা, টমেটো, আলু, ডাবের পানি) এবং উচ্চ ফসফরাসযুক্ত খাবার (যেমন: ডেইরি প্রোডাক্ট, কোলা বা সফট ড্রিংকস) পরিহার করতে হবে।
আঁশযুক্ত বা ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার বাড়ান
বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, ওটস, হোল-গ্রেন বা লাল চালের ভাত, আপেল, এবং বিভিন্ন সবুজ শাকসবজি (যেমন বাঁধাকপি, ফুলকপি) রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে এবং পরিপাকতন্ত্রকে সুস্থ রাখে।
ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধ
শরীরে পানির ঘাটতি বা ডিহাইড্রেশন হলে রক্তে ক্রিয়েটিনিনের ঘনত্ব সাময়িকভাবে অনেক বেড়ে যায় এবং কিডনি বর্জ্য নিষ্কাশন করতে পারে না। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা উচিত। তবে, যদি আপনার ইতিমধ্যে ক্রনিক কিডনি ডিজিজ থাকে এবং শরীরে বা পায়ে পানি আসার সমস্যা থাকে, তবে অতিরিক্ত পানি পান করা উল্টো ক্ষতিকর হতে পারে। এই অবস্থায় ২৪ ঘণ্টায় ঠিক কতটুকু তরল পান করবেন, তা একজন নেফ্রোলজিস্টের কাছ থেকে জেনে নিতে হবে।
পেইনকিলার বা ব্যথানাশক এড়িয়ে চলা
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ঘনঘন ওভার-দ্য-কাউন্টার পেইনকিলার, বিশেষ করে NSAIDs (যেমন: আইবুপ্রোফেন, ডিক্লোফেনাক, নেপ্রোক্সেন) সেবন করা কিডনির জন্য অত্যন্ত মারাত্মক। এগুলো কিডনিতে রক্তপ্রবাহ কমিয়ে দেয় এবং ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয়।
সাময়িক কোনো পরিবর্তনে রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। কিডনিকে সুস্থ রাখতে চাইলে এটি একটি দীর্ঘ মেয়াদি প্রক্রিয়া। সঠিক খাদ্যাভ্যাস মেনে চলা, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং ক্ষতিকারক ওষুধ এড়িয়ে চলার মাধ্যমে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা অনেকাংশে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

