ডেঙ্গুতে বিপদ বাড়ার আগে যেসব লক্ষণ দেখলে দ্রুত হাসপাতালে নেবেন
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৮ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ডেঙ্গু মূলত এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বাসায় থেকেই সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে রোগটি দ্রুত মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।
জ্বর কমে যাওয়ার পরের ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা অনেক সময় সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এ সময়ে তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত, শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত দুর্বলতা বা প্রস্রাব কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।
ডেঙ্গুর সাধারণ লক্ষণ
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে সাধারণত মশা কামড়ানোর কয়েক দিন পর লক্ষণ প্রকাশ পায়। জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, পেশি ও গিঁটে ব্যথা, বমি বমি ভাব, বমি, শরীরের বিভিন্ন স্থানে গ্রন্থি ফুলে যাওয়া এবং ত্বকে লালচে র্যাশ দেখা দিতে পারে। খাবারে অরুচি ও পেটব্যথাও হতে পারে।
ডেঙ্গুর কারণে একসঙ্গে প্রচণ্ড জ্বর ও শরীরব্যাপী ব্যথা হওয়ায় এ রোগকে অনেক সময় ‘হাড়ভাঙা জ্বর’ বলা হয়। সাধারণত লক্ষণ কয়েক দিন স্থায়ী হয়। জ্বর সেরে যাওয়ার পরও কিছু রোগীর কয়েক সপ্তাহ দুর্বলতা বা ক্লান্তি থাকতে পারে।
শিশুদের ক্ষেত্রে
শিশুদের ডেঙ্গুতেও জ্বর, দুর্বলতা, ঘুম ঘুম ভাব, খিটখিটে মেজাজ, র্যাশ, বমি ও পানিশূন্যতার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। নাক বা মাড়ি থেকে রক্ত পড়া কিংবা ত্বকের নিচে রক্তক্ষরণের কারণে লালচে ছোপও দেখা দিতে পারে।
ছোট শিশু, বিশেষ করে এক বছরের কম বয়সি শিশু, ডেঙ্গুতে দ্রুত গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। তাই তাদের ক্ষেত্রে কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
মারাত্মক ডেঙ্গুর লক্ষণ
ডেঙ্গুর সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময় অনেক ক্ষেত্রে জ্বর কমে যাওয়ার পরের ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা। তাই জ্বর কমে গেলেই রোগী সুস্থ হয়ে যাচ্ছেন, এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া, বমি বা পায়খানার সঙ্গে রক্ত যাওয়া, দ্রুত শ্বাস নেওয়া, অতিরিক্ত দুর্বলতা, অস্থিরতা, শরীর ঠান্ডা ও ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া, রক্তচাপ কমে যাওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, ঝিমুনি, বিভ্রান্তি, খিঁচুনি বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।
মারাত্মক ডেঙ্গুতে রক্তনালি থেকে তরল বেরিয়ে গিয়ে পানিশূন্যতা, শ্বাসকষ্ট, গুরুতর রক্তপাত এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কার্যকারিতায় সমস্যা হতে পারে। এসব জটিলতা জীবনহানির কারণও হতে পারে।
কখন হাসপাতালে যাবেন
সাধারণ ডেঙ্গুতে সব সময় হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন হয় না। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও তরল গ্রহণের মাধ্যমে অনেক রোগী বাসায় সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে গর্ভবতী নারী, এক বছর বা তার কম বয়সি শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্যন্ত্র বা কিডনির রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।
ডেঙ্গু শনাক্তের পরীক্ষা
ডেঙ্গু শনাক্ত করতে রোগের সময়কাল অনুযায়ী এনএস১ অ্যান্টিজেন, আইজিএম অ্যান্টিবডি এবং অন্যান্য রক্ত পরীক্ষা করা হয়। রোগীর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে সিবিসি, প্লাটিলেট ও হেমাটোক্রিট পরীক্ষাও করা হতে পারে। কোন পরীক্ষা কখন করা হবে, তা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করা উচিত।
ডেঙ্গু হলে করণীয়
ডেঙ্গুর নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই। সাধারণত পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পানি ও অন্যান্য তরল গ্রহণ এবং জ্বর ও ব্যথা কমাতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল ব্যবহার করা হয়। অ্যাসপিরিন বা আইবুপ্রোফেনের মতো ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার করা উচিত নয়, কারণ এগুলো রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তিকে মশার কামড় থেকেও সুরক্ষিত রাখতে হবে। এ জন্য মশারি ব্যবহার করা এবং বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি অপসারণ করা জরুরি। জ্বর কমে যাওয়ার সময় রোগীর অবস্থা সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। মারাত্মক ডেঙ্গুর কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।


-6abf7042bd0b7.jpg)