যমজ সন্তান কেন হয়, কী কী ঝুঁকি ও করণীয়
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৫ পিএম
ছবি- সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
একাধিক গর্ভধারণ বলতে একই সময়ে একের বেশি সন্তান গর্ভে ধারণ করাকে বোঝায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি যমজ সন্তান (টুইন) হলেও কখনও ট্রিপলেট বা তারও বেশি সন্তান হতে পারে। একাধিক গর্ভধারণ সাধারণ গর্ভধারণের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন এবং এতে মা ও শিশু উভয়ের জন্যই বাড়তি যত্নের প্রয়োজন হয়।
যমজ সন্তান কীভাবে হয়?
সাধারণত একই সময়ে দুটি শিশুর গর্ভধারণকে যমজ বলা হয়। এটি প্রধানত দুই ধরনের হতে পারে।
ফ্র্যাটার্নাল বা নন-আইডেন্টিকাল টুইন: মাসিক চক্রে একাধিক ডিম্বাণু নিঃসৃত হলে সেগুলো পৃথক পৃথক শুক্রাণুর মাধ্যমে নিষিক্ত হয়। ফলে দুটি ভিন্ন ভ্রূণ তৈরি হয়। এ ধরনের যমজ শিশু সাধারণ ভাইবোনের মতোই আলাদা বৈশিষ্ট্যের হয়ে থাকে।
আইডেন্টিকাল টুইন: একটি ডিম্বাণু শুক্রাণুর মাধ্যমে নিষিক্ত হওয়ার পর সেটি বিভক্ত হয়ে দুটি ভ্রূণে পরিণত হলে আইডেন্টিকাল টুইনের জন্ম হয়। এ ক্ষেত্রে দুই শিশুর জিনগত বৈশিষ্ট্য প্রায় একই থাকে এবং তারা দেখতে অনেকটাই একরকম হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আইডেন্টিকাল টুইনের তুলনায় ফ্র্যাটার্নাল টুইন বেশি দেখা যায়।
যমজ সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা কত?
গবেষণা অনুযায়ী, প্রতি এক হাজার গর্ভধারণে প্রায় ৯ জন মায়ের যমজ সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে কিছু বিশেষ কারণে এই সম্ভাবনা আরও বেড়ে যেতে পারে।
যমজ সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায় যেসব কারণ
বয়স: ৩৫ বছরের বেশি বয়সী নারীদের ক্ষেত্রে যমজ গর্ভধারণের সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি।
পারিবারিক ইতিহাস: পরিবারের কোনো নারী সদস্যের যমজ সন্তান জন্মদানের ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি বাড়তে পারে।
ফার্টিলিটি চিকিৎসা: আইভিএফ বা অন্যান্য প্রজনন চিকিৎসা গ্রহণ করলে একাধিক সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।
অতিরিক্ত ওজন: যেসব নারীর বডি মাস ইনডেক্স (বিএমআই) ৩০-এর বেশি, তাদের ক্ষেত্রে যমজ সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা কিছুটা বেশি দেখা যায়।
পূর্ববর্তী ইতিহাস: আগে যমজ সন্তান জন্ম দিয়ে থাকলে ভবিষ্যতেও যমজ সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
যমজ গর্ভধারণের লক্ষণ
যমজ গর্ভধারণের লক্ষণ অনেকটা সাধারণ গর্ভধারণের মতো হলেও কিছু ক্ষেত্রে লক্ষণগুলো বেশি তীব্র হতে পারে। যেমন—
* স্বাভাবিকের তুলনায় পেট দ্রুত বড় হওয়া
* অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি
* গর্ভের শিশুর নড়াচড়া আগেভাগে অনুভব করা
* একাধিক স্থানে নড়াচড়া টের পাওয়া
* একাধিক হার্টবিট শনাক্ত হওয়া
* গর্ভাবস্থার কিছু হরমোনের মাত্রা বেশি থাকা
* বমি, দুর্বলতা, স্তনে ব্যথা ও ঘন ঘন প্রস্রাবের মতো উপসর্গ বেশি অনুভূত হওয়া
তবে এসব লক্ষণ থাকলেই যমজ সন্তান হবে—এমন নয়। নিশ্চিত হওয়ার জন্য আল্ট্রাসনোগ্রামই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি।
যমজ সন্তানের ধরন
নিষিক্ত ডিম্বাণুর সংখ্যা অনুযায়ী যমজ সন্তানকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়—আইডেন্টিকাল এবং নন-আইডেন্টিকাল টুইন।
এ ছাড়া গর্ভফুল (প্লাসেন্টা) ও গর্ভথলির সংখ্যা অনুযায়ীও যমজ গর্ভধারণের বিভিন্ন ধরন রয়েছে। কোনো ক্ষেত্রে দুই শিশুর আলাদা গর্ভফুল ও গর্ভথলি থাকে, আবার কোনো ক্ষেত্রে তারা একটি গর্ভফুল বা একই গর্ভথলি ভাগাভাগি করে। একই গর্ভফুল ও গর্ভথলি থাকলে জটিলতার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হয়।
যমজ গর্ভধারণের সম্ভাব্য জটিলতা
যমজ গর্ভধারণে মা ও শিশুর জন্য কিছু বাড়তি স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিতে পারে।
মায়ের ক্ষেত্রে:
* রক্তস্বল্পতা
* গর্ভকালীন ডায়াবেটিস
* উচ্চ রক্তচাপ ও প্রি-একলাম্পসিয়া
* প্রসবের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ
শিশুর ক্ষেত্রে:
* অকাল জন্ম
* কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণ
* গর্ভে বৃদ্ধি কমে যাওয়া
* জন্মগত ত্রুটি
* টুইন-টু-টুইন ট্রান্সফিউশন সিনড্রোম
* গর্ভে তরলের পরিমাণের অস্বাভাবিকতা
অকাল জন্ম হলে শ্বাসকষ্ট, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, দৃষ্টিশক্তির সমস্যা ও শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে অসুবিধাসহ আরও নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে।
যমজ গর্ভধারণে করণীয়
গর্ভাবস্থায়
যমজ গর্ভধারণে নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ গর্ভধারণের তুলনায় বেশি সংখ্যক চেকআপ ও আল্ট্রাসনোগ্রামের প্রয়োজন হতে পারে। এর মাধ্যমে সম্ভাব্য জটিলতা দ্রুত শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়।
প্রসবের সময়
যদি কোনো জটিলতা না থাকে, তাহলে যমজ সন্তানেরও স্বাভাবিক প্রসব সম্ভব। তবে শিশুর অবস্থান, গর্ভফুলের অবস্থা বা অন্যান্য জটিলতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে সিজারিয়ান অপারেশনের প্রয়োজন হতে পারে।
প্রসবের পরে
যমজ শিশুর যত্ন নেওয়া কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। তাই পরিবারের সদস্যদের সহায়তা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। একই সময়ে বুকের দুধ খাওয়ানো, প্রয়োজনীয় জিনিস আগে থেকেই গুছিয়ে রাখা এবং শিশুদের পরিচর্যার দায়িত্ব ভাগাভাগি করলে মায়ের কষ্ট অনেকটা কমে।
শেষ কথা
যমজ গর্ভধারণ আনন্দের পাশাপাশি বাড়তি দায়িত্বও নিয়ে আসে। নিয়মিত চিকিৎসা, সঠিক পুষ্টি, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং সচেতন পরিচর্যার মাধ্যমে মা ও শিশু উভয়কেই সুস্থ রাখা সম্ভব। তাই যমজ গর্ভধারণ শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত পর্যবেক্ষণে থাকা জরুরি।
সূত্র- সহায় ডট কম

