Logo
Logo
×

Advertisement

লাইফ স্টাইল

খালি পেটে চা পান করলে অন্ত্রের ক্ষতি হয়? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা

Advertisement

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০১ এএম

খালি পেটে চা পান করলে অন্ত্রের ক্ষতি হয়? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা

Advertisement

দিনের শুরুতে কিংবা বিকেলের অবসরে এক কাপ চা অনেকেরই পছন্দের পানীয়। কর্মব্যস্ত দিনের মাঝে চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে আড্ডা দেওয়ার অভ্যাসও বেশ প্রচলিত। তবে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর খালি পেটে চা পান করা স্বাস্থ্যের জন্য কতটা ভালো, তা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে, এ অভ্যাস অন্ত্রের স্বাস্থ্য ও হজমপ্রক্রিয়ায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলে কি না, তা জানা জরুরি।

চা পান করলেই যে অন্ত্রের ক্ষতি হবে, এমন কোনো প্রমাণ নেই। তবে ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা, চায়ের ধরন, ঘনত্ব এবং ক্যাফেইনের প্রতি সংবেদনশীলতার ওপর নির্ভর করে খালি পেটে চা পান করলে কারও কারও হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

খালি পেটে চা পান করলে কী সমস্যা হতে পারে?

অনেকক্ষণ না খেয়ে থাকার পর কড়া চা পান করলে সংবেদনশীল ব্যক্তিদের পেটে অস্বস্তি হতে পারে। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই অ্যাসিডিটি বা হজমের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে বুকজ্বালা, বমি বমি ভাব, পেট ফাঁপা কিংবা পেটে ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

তবে সবার ক্ষেত্রে এমন সমস্যা হয় না। যারা খালি পেটে চা পান করেও কোনো অস্বস্তি অনুভব করেন না, তাদের শুধু এই অভ্যাসের কারণে চা খাওয়া বন্ধ করার প্রয়োজন নেই।

চা কি অ্যাসিডিটি ও পেট ফাঁপা বাড়ায়?

চায়ে থাকা ক্যাফেইন এবং অন্যান্য উপাদান কিছু মানুষের ক্ষেত্রে অ্যাসিড রিফ্লাক্সের উপসর্গ বাড়াতে পারে। যাদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বা বুকজ্বালার প্রবণতা রয়েছে, তাদের কড়া চা পান করার পর অস্বস্তি হতে পারে।

এ ছাড়া চায়ের সঙ্গে দুধ মিশিয়ে খেলে ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতায় ভোগা ব্যক্তিদের পেট ফাঁপা, পেটে ব্যথা কিংবা পাতলা পায়খানা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে সমস্যার কারণ চা নয়, বরং দুধের ল্যাকটোজ হতে পারে।

তাই চা পানের পর নিয়মিত অস্বস্তি হলে চায়ের ঘনত্ব কমানো, দুধ ছাড়া চা পান করা কিংবা খাবারের পরে চা খেয়ে নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা যেতে পারে।

যাদের খালি পেটে চা পান এড়িয়ে চলা ভালো

অ্যাসিড রিফ্লাক্স, গ্যাস্ট্রাইটিস, বদহজম কিংবা পেটের অন্যান্য সমস্যায় ভুগছেন—এমন ব্যক্তিদের খালি পেটে কড়া চা পান না করাই ভালো হতে পারে। একইভাবে, যারা ক্যাফেইনের প্রতি সংবেদনশীল, তাদের চা পানের পরিমাণ ও সময়ের দিকে খেয়াল রাখা প্রয়োজন।

বিশেষ করে বিকেল বা সন্ধ্যার পর বেশি চা পান করলে কারও কারও ঘুমের সমস্যা হতে পারে। ক্যাফেইনের প্রভাব ব্যক্তিভেদে আলাদা হওয়ায় ঘুমের সমস্যা থাকলে শোয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে থেকেই চা এড়িয়ে চলা উপকারী হতে পারে।

চায়ের সঙ্গে কী খাওয়া ভালো?

খালি পেটে চা পান করলে অস্বস্তি হয়, এমন ব্যক্তিরা চায়ের সঙ্গে হালকা নাশতা খেতে পারেন। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি ভালো বিকল্প হলো—

  • ভাজা ছোলা
  • অল্প পরিমাণ বাদাম
  • তাজা ফল
  • চিড়া বা ওটসের মতো হালকা খাবার

এসব খাবার পুষ্টি সরবরাহের পাশাপাশি দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর ক্ষুধা কমাতেও সাহায্য করতে পারে। তবে নাশতা খেলেই চায়ের কারণে হওয়া সব ধরনের অস্বস্তি দূর হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

অন্ত্রের স্বাস্থ্যে চায়ের ভূমিকা কী?

চা শুধু জনপ্রিয় পানীয়ই নয়, এতে এমন কিছু উদ্ভিজ্জ যৌগ রয়েছে, যা অন্ত্রের অণুজীবের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। নিউট্রিয়েন্টস সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় চায়ের পলিফেনল এবং অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

অন্ত্রের মাইক্রোবায়োম বলতে পরিপাকতন্ত্রে বসবাসকারী অসংখ্য অণুজীবের সমষ্টিকে বোঝায়। এগুলো হজম, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

গ্রিন টি-তে ক্যাটেচিন এবং কালো চায়ে থিয়াফ্ল্যাভিনের মতো পলিফেনল রয়েছে। এসব উপাদান অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করতে পারে। আবার অন্ত্রের কিছু ব্যাকটেরিয়া পলিফেনল ভেঙে বিভিন্ন বিপাকজাত উপাদান তৈরি করে। এভাবে চা ও অন্ত্রের অণুজীবের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

কিছু গবেষণায় গ্রিন টি পান করার সঙ্গে উপকারী অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার পরিবর্তনের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন। চা পান করলেই অন্ত্রের স্বাস্থ্য নিশ্চিতভাবে ভালো হবে, কিংবা প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ চা সবার জন্য উপকারী—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর যথেষ্ট প্রমাণ নেই।

সুস্থ থাকতে কী করবেন?

চা সম্পূর্ণ বাদ দেওয়ার পরিবর্তে নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া বুঝে পান করার অভ্যাস গড়ে তোলা ভালো। খালি পেটে চা পান করলে বুকজ্বালা, বমি বমি ভাব বা পেট ফাঁপার মতো সমস্যা হলে খাবারের পরে চা পান করুন এবং অতিরিক্ত কড়া চা এড়িয়ে চলুন। পাশাপাশি ক্যাফেইনের পরিমাণ ও চিনি ব্যবহারের দিকেও নজর দিন।

সবশেষে মনে রাখা প্রয়োজন, অন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখতে শুধু চায়ের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত পানি, আঁশসমৃদ্ধ খাবার এবং নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রমও গুরুত্বপূর্ণ। চা পান করার পর বারবার পেটে ব্যথা, বুকজ্বালা বা অন্য কোনো সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

এক চা-বিরতিই যেভাবে বাঁচিয়ে দিল ৫ বন্ধুর প্রাণ

নেপালে বন্যা এক চা-বিরতিই যেভাবে বাঁচিয়ে দিল ৫ বন্ধুর প্রাণ

গ্রিন টি পান করলে কেন দ্রুত মলত্যাগের তাগিদ আসে?

গ্রিন টি পান করলে কেন দ্রুত মলত্যাগের তাগিদ আসে?

চা শিল্পের উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

চা শিল্পের উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

মাইগ্রেন কিংবা মাথা ব্যথা, স্বস্তি মিলবে যে চা—এ

মাইগ্রেন কিংবা মাথা ব্যথা, স্বস্তি মিলবে যে চা—এ

গ্রিন টি নাকি হোয়াইট টি— রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কোনটি বেশি উপকারী?

গ্রিন টি নাকি হোয়াইট টি— রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কোনটি বেশি উপকারী?

চা নিয়ে নতুন গবেষণা, উঠে এলো যেসব তথ্য

চা নিয়ে নতুন গবেষণা, উঠে এলো যেসব তথ্য

আরও পড়ুন

খালি পেটে চা পান করলে অন্ত্রের ক্ষতি হয়? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা

খালি পেটে চা পান করলে অন্ত্রের ক্ষতি হয়? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা

ঋতু পরিবর্তনে সুস্থ থাকতে খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার

ঋতু পরিবর্তনে সুস্থ থাকতে খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার

দীর্ঘ সম্পর্কে তীব্র ভালোবাসা ধরে রাখার ৬ উপায়

দীর্ঘ সম্পর্কে তীব্র ভালোবাসা ধরে রাখার ৬ উপায়

সম্পর্কের বয়স বাড়লে কি প্রেম কমে যায়?

সম্পর্কের বয়স বাড়লে কি প্রেম কমে যায়?

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম