বিষণ্নতা কি আসলে মস্তিষ্কজনিত সমস্যা? গবেষণায় মিলল ভিন্ন ৫ ধরন
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৭ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিষণ্নতা কোনো জৈবিক অবস্থা নয়; বরং রোগনির্ণয়ের আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পারে মস্তিষ্কের কার্যকলাপের কয়েকটি স্বতন্ত্র ধরন। সম্প্রতি বিষণ্নতায় আক্রান্ত ২৬৩ জন মানুষের ওপর গবেষণা চালিয়ে বিজ্ঞানীরা মস্তিষ্কের কার্যকলাপের পাঁচটি ভিন্ন ধরন শনাক্ত করেছেন। প্রতিটি ধরনের সঙ্গে মস্তিষ্কের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য এবং উদ্বেগ, মানসিক আঘাত ও মাদকদ্রব্যের অপব্যবহারের মতো উপসর্গের সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
বিষণ্নতা আক্রান্ত দুজন মানুষের অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ আলাদা হতে পারে। একজন হয়তো ক্রমাগত উদ্বেগ ও বারবার নেতিবাচক চিন্তায় ভুগছেন, অন্যজনের মধ্যে দেখা দিতে পারে মানসিক আঘাতজনিত উপসর্গ কিংবা মাদকদ্রব্যের অপব্যবহারের প্রবণতা। কিন্তু এই পার্থক্যগুলো কি তাদের মস্তিষ্কের কার্যকলাপেও প্রতিফলিত হয়?
ফিনল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব হেলসিঙ্কির গবেষকেরা এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে একটি চমকপ্রদ বিষয় আবিষ্কার করেছেন। তাদের গবেষণায় দেখা গেছে, একই বিষণ্নতার রোগনির্ণয় থাকা ব্যক্তিদের মস্তিষ্কের কার্যকলাপের ধরন একে অপরের থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে আলাদা হতে পারে। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি শক্তিশালী, আবার অন্যদের ক্ষেত্রে তা তুলনামূলকভাবে দুর্বল।
বিষণ্নতার সঙ্গে সম্পর্কিত মস্তিষ্কের পাঁচটি ধরন
গবেষকেরা মস্তিষ্কের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগের শক্তি এবং তাদের কার্যকলাপ কোন কোন কম্পাঙ্কে সমন্বিত হয়, তার ভিত্তিতে বিষণ্নতায় আক্রান্ত অংশগ্রহণকারীদের পাঁচটি দলে ভাগ করেন।
প্রতিটি দলের মস্তিষ্কের সংযোগের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ছিল এবং সেগুলোর সঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু উপসর্গের সম্পর্কও পাওয়া গেছে—
গ্রুপ ১: শক্তিশালী সংযোগ ও গুরুতর উপসর্গ
এই দলের অংশগ্রহণকারীদের মস্তিষ্কের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী সংযোগ দেখা গেছে। এই ধরনটির সঙ্গে বিষণ্নতা, উদ্বেগ, একই নেতিবাচক চিন্তা বারবার করতে থাকার মতো একাধিক উপসর্গের সম্পর্ক ছিলো।
গ্রুপ ২: দুর্বল সংযোগ ও তুলনামূলকভাবে মৃদু বিষণ্নতা
এই দলের বৈশিষ্ট্য ছিল মস্তিষ্কের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে তুলনামূলকভাবে দুর্বল যোগাযোগ। অন্য দলগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে, এই দলের অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সাধারণত বিষণ্নতার উপসর্গগুলো কম তীব্র ছিল।
গ্রুপ ৩: মস্তিষ্কজুড়ে দুর্বল সংযোগ ও মানসিক আঘাতজনিত উপসর্গ
এই দলের মানুষের মস্তিষ্কের বিস্তৃত অংশজুড়ে সংযোগের দুর্বলতা দেখা গেছে। বিশেষ করে, পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার বা পিটিএসডি— অর্থাৎ গুরুতর মানসিক আঘাতের পর দেখা দিতে পারে এমন মানসিক সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত উপসর্গগুলো এই দলে বেশি স্পষ্ট ছিল।
গ্রুপ ৪: কোথাও শক্তিশালী, কোথাও দুর্বল সংযোগ এবং একাধিক সমস্যা
এই দলের মস্তিষ্কে কিছু অঞ্চলের মধ্যে অস্বাভাবিকভাবে শক্তিশালী সংযোগ দেখা গেছে, আবার অন্য কিছু অঞ্চলের মধ্যে সংযোগ ছিল দুর্বল। এই ধরনের সঙ্গে তুলনামূলকভাবে গুরুতর বিষণ্নতা, মাদকদ্রব্যের অপব্যবহারের বেশি সমস্যা এবং সামগ্রিক সুস্থতার নিম্নমানের সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
গ্রুপ ৫: সবচেয়ে শক্তিশালী সংযোগ ও মাদকদ্রব্যের অপব্যবহারজনিত উপসর্গ
গবেষণায় শনাক্ত পাঁচটি দলের মধ্যে এই দলের অংশগ্রহণকারীদের মস্তিষ্কের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে সংযোগ ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী।
এই দলে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল। অন্যদিকে, মানসিক আঘাত-সম্পর্কিত উপসর্গগুলো এই দলের তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম প্রকট ছিল।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পাঁচটি দলের মস্তিষ্কের কার্যকলাপই সুস্থ অংশগ্রহণকারীদের মস্তিষ্কের কার্যকলাপ থেকে আলাদা ছিল। এই পার্থক্য শুধু সংযোগ শক্তিশালী না দুর্বল—তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। মস্তিষ্কের কোন কোন অঞ্চল এতে যুক্ত ছিল এবং কী কী কম্পাঙ্কে তাদের কার্যকলাপ সমন্বিত হচ্ছিল, সেসব ক্ষেত্রেও দলগুলোর মধ্যে পার্থক্য দেখা গেছে।
সব মিলিয়ে, এই ফলাফলগুলো ইঙ্গিত দেয় যে বিষণ্নতা নির্ণয় করা হলেও বিভিন্ন মানুষের মস্তিষ্কের স্নায়বিক নেটওয়ার্ক কার্যপ্রণালিতে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকতে পারে।
সূত্র: সাইন্স ডেইলি

-6aca434340937.webp)