কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে চান? খাদ্যতালিকায় রাখুন এই ৫ খাবার
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩২ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে মলত্যাগে অসুবিধা, পেট ফাঁপা এবং পেটে অস্বস্তির মতো সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। দীর্ঘদিন এ সমস্যা চলতে থাকলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও ব্যাহত হতে পারে। তবে খাদ্যাভ্যাসে কিছু পরিবর্তন আনা, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং নিয়মিত শরীরচর্চার মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে কোষ্ঠকাঠিন্য কমানো সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে খাদ্যতালিকায় আঁশসমৃদ্ধ খাবার রাখা গুরুত্বপূর্ণ। এনডিটিভি ফুড-এর এক প্রতিবেদনে কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়ক পাঁচটি খাবারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পুষ্টি ও স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ডা. শিলপা অরোরার পরামর্শের ভিত্তিতে খাবারগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।
১. কাঁচা পেঁপে
পেঁপেতে রয়েছে প্যাপেইন নামের একটি এনজাইম, যা প্রোটিন ভাঙতে ও হজমে সহায়তা করে। এ ছাড়া পেঁপের খাদ্যআঁশ অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। নিয়মিত সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে পেঁপে খেলে মলত্যাগ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা পাওয়া যেতে পারে।
২. ভেজানো কিশমিশ
কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমাতে খাদ্যতালিকায় ভেজানো কিশমিশ রাখা যেতে পারে। কিশমিশে থাকা খাদ্যআঁশ মলের পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এতে সরবিটল নামের একটি প্রাকৃতিক শর্করা অ্যালকোহল রয়েছে, যা অন্ত্রে পানি ধরে রাখতে এবং মল নরম করতে সহায়তা করতে পারে। ফলে মলত্যাগ তুলনামূলক সহজ হতে পারে।
৩. শুকনো বরই বা প্রুন
কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে শুকনো বরই, যা প্রুন নামেও পরিচিত, বেশ উপকারী একটি খাবার। এতে দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয়—দুই ধরনের খাদ্যআঁশ রয়েছে। অদ্রবণীয় আঁশ মলের পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, দ্রবণীয় আঁশ অন্ত্রের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে ভূমিকা রাখে।
এ ছাড়া প্রুনে থাকা সরবিটল মল নরম করতে সহায়তা করতে পারে। ফলে মলত্যাগের সময় চাপ দেওয়ার প্রয়োজন কমতে পারে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া সম্ভব।
৪. পর্যাপ্ত পানি পান
কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে আঁশযুক্ত খাবারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি। শরীরে পানির ঘাটতি দেখা দিলে মল শক্ত ও শুষ্ক হয়ে যেতে পারে, ফলে মলত্যাগ কঠিন হয়ে পড়ে।
তাই সারা দিন নিয়মিত পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। তবে যাদের কিডনি, হৃদ্যন্ত্রের সমস্যা বা অন্য কোনো কারণে চিকিৎসক তরল গ্রহণ সীমিত রাখতে বলেছেন, তাদের সেই নির্দেশনা মেনে চলা প্রয়োজন।
৫. আঁশসমৃদ্ধ খাবার
অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফলমূল, ডাল এবং পূর্ণশস্যজাতীয় খাবার রাখুন। এসব খাবারে থাকা খাদ্যআঁশ মলের পরিমাণ বাড়ায় এবং অন্ত্রের স্বাভাবিক চলাচলে সহায়তা করে।
তবে দীর্ঘদিন কম আঁশযুক্ত খাবার খাওয়ার পর হঠাৎ করে আঁশের পরিমাণ অনেক বাড়িয়ে দিলে পেটে গ্যাস ও ফাঁপা ভাব দেখা দিতে পারে। তাই ধীরে ধীরে আঁশযুক্ত খাবারের পরিমাণ বাড়ানো এবং পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করা ভালো।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের পরও কোষ্ঠকাঠিন্য দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে তীব্র পেটব্যথা, বমি, পেট অস্বাভাবিক ফুলে যাওয়া, মলের সঙ্গে রক্ত যাওয়া কিংবা মল ও গ্যাস একেবারেই বের না হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।
গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিলেও নিজের ইচ্ছায় কোনো ওষুধ সেবন না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।



