দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিক থাকা মানেই কি আপনার চোখ সুস্থ আছে?
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৪ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চোখে স্পষ্ট দেখা গেলেই চোখ সম্পূর্ণ সুস্থ—এমন ধারণা সঠিক নয়। কারণ, চোখের কিছু গুরুতর রোগ কোনো ব্যথা, লালভাব কিংবা দৃষ্টিশক্তির দৃশ্যমান পরিবর্তন ছাড়াই ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। ভারতের গুরুগ্রামের পারাস হেলথের চক্ষুবিজ্ঞান বিভাগের পরামর্শক ডা. ঋষি ভরদ্বাজ এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন।
হিন্দুস্তান টাইমস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, অনেক ক্ষেত্রে চোখের রোগের লক্ষণ প্রকাশ পেতে দীর্ঘ সময় লাগে। রোগী যখন দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন বুঝতে পারেন, তত দিনে চোখের স্থায়ী ক্ষতি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই চোখের যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে শুধু চশমার পাওয়ার পরীক্ষা করাই যথেষ্ট নয়, নিয়মিত পূর্ণাঙ্গ চক্ষু পরীক্ষাও জরুরি।
গ্লুকোমা: অজান্তেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে দৃষ্টিশক্তি
চোখের এমন নীরব রোগের অন্যতম উদাহরণ গ্লুকোমা। চিকিৎসক ঋষি ভরদ্বাজের মতে, এই রোগে দৃষ্টি-স্নায়ু ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, অথচ প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকেরই কোনো স্পষ্ট উপসর্গ দেখা যায় না।
গ্লুকোমার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিক থাকলেও ধীরে ধীরে পার্শ্ববর্তী দৃষ্টিশক্তি কমে যেতে পারে। ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি দৈনন্দিন কাজকর্ম স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে গেলেও বুঝতে পারেন না যে তার দৃষ্টিশক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ কারণে রোগটি শনাক্ত হতে দেরি হলে স্থায়ী দৃষ্টিহানির ঝুঁকি বাড়ে।
ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি: লক্ষণ ছাড়াই বাড়তে পারে জটিলতা
ডায়াবেটিসের কারণে চোখের রেটিনায় যে ক্ষতি হয়, তাকে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি বলা হয়। চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে রেটিনার সূক্ষ্ম রক্তনালিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এর ফলে রেটিনায় ফোলাভাব, রক্তনালি থেকে তরল বের হওয়া কিংবা অস্বাভাবিক রক্তনালি তৈরি হওয়ার মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। উদ্বেগের বিষয় হলো, এসব পরিবর্তন ঘটলেও প্রাথমিক অবস্থায় দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিক থাকতে পারে।
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের তাই নিয়মিত রেটিনা পরীক্ষা করানো প্রয়োজন। পাশাপাশি রক্তে শর্করা, রক্তচাপ ও কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখলে চোখের ক্ষতির ঝুঁকি কমাতে সহায়তা পাওয়া যায়। নিয়মিত পরীক্ষা রোগের প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্ত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পূর্ণাঙ্গ চোখ পরীক্ষায় কী কী দেখা হয়?
ডা. ঋষি ভরদ্বাজের মতে, চোখের স্বাস্থ্য যাচাইয়ের জন্য শুধু দৃষ্টিশক্তির চার্টে অক্ষর পড়তে পারা যথেষ্ট নয়। রোগীর বয়স, পূর্ববর্তী চিকিৎসার ইতিহাস এবং ব্যক্তিগত ঝুঁকির ওপর নির্ভর করে চিকিৎসক বিভিন্ন পরীক্ষা করতে পারেন।
এর মধ্যে রয়েছে চোখের ভেতরের চাপ পরিমাপ, দৃষ্টি-স্নায়ু ও রেটিনা পরীক্ষা, পার্শ্ববর্তী দৃষ্টিশক্তি যাচাই এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চোখের মণি প্রসারিত করে চোখের ভেতরের অংশ পর্যবেক্ষণ। এসব পরীক্ষায় এমন কিছু পরিবর্তন শনাক্ত করা সম্ভব, যা সাধারণ দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষায় ধরা পড়ে না।
কারা নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করাবেন?
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়মিত রেটিনা পরীক্ষা করানো উচিত। একই সঙ্গে যাদের পরিবারে গ্লুকোমার ইতিহাস রয়েছে, বয়স বাড়ছে কিংবা চোখের রোগের অন্যান্য ঝুঁকি রয়েছে, তাদেরও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।
চোখে কোনো সমস্যা অনুভব না করলেও পরীক্ষা এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। কারণ, চোখের কিছু রোগের ক্ষেত্রে উপসর্গ দেখা দেওয়ার আগেই ক্ষতি শুরু হতে পারে। সময়মতো রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু করা গেলে দৃষ্টিশক্তি রক্ষার সম্ভাবনা বাড়ে।


