চোখের স্বাস্থ্য ঠিক আছে তো? কখন পরীক্ষা করানো জরুরি
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫০ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
প্রতিদিনের ব্যস্ততায় শরীরের নানা অঙ্গের যত্ন নিলেও চোখের স্বাস্থ্যের দিকে অনেকেই তেমন নজর দেন না। দৃষ্টিশক্তিতে সমস্যা দেখা দিলে তবেই চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে অনেকের। কিন্তু চোখের কিছু রোগ শুরুতে কোনো স্পষ্ট লক্ষণ ছাড়াই ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। ফলে সমস্যা বোঝার আগেই তা জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
হিন্দুস্তান টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে কোচির গিরিধর আই ইনস্টিটিউটের ভিট্রিও-রেটিনা বিভাগের প্রধান ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. মহেশ চোখের স্বাস্থ্য এবং বিশেষ করে রেটিনা পরীক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে নিয়মিত পরীক্ষা কেন জরুরি, সে বিষয়েও তিনি পরামর্শ দিয়েছেন।
কেন রেটিনার রোগ অনেক সময় নীরব থাকে
চোখের বেশ কিছু রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে তেমন কোনো উপসর্গ তৈরি করে না। ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি বুঝতেই পারেন না যে তার চোখের ভেতরে কোনো সমস্যা তৈরি হচ্ছে। ডা. মহেশ এ ক্ষেত্রে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি এবং বয়সজনিত ম্যাকুলার ডিজেনারেশন বা এএমডির কথা উল্লেখ করেছেন।
ডায়াবেটিস রেটিনার জন্য অন্যতম ঝুঁকির কারণ। দীর্ঘদিন রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে রেটিনায় রক্ত সরবরাহকারী সূক্ষ্ম রক্তনালীগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। উদ্বেগের বিষয় হলো, অনেক ডায়াবেটিস রোগী দৃষ্টিশক্তিতে পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত চোখের সমস্যার বিষয়টি টের পান না।
অন্যদিকে, বয়স বাড়ার সঙ্গেও রেটিনার বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে এএমডি চোখের কেন্দ্রীয় দৃষ্টিশক্তিকে প্রভাবিত করতে পারে।
কোন লক্ষণগুলোকে গুরুত্ব দেবেন
চোখ পরীক্ষা করানোর জন্য দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হওয়ার অপেক্ষা করা ঠিক নয়। নিয়মিত পরীক্ষা করালে অনেক সমস্যা প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত করা সম্ভব। বিশেষ করে চোখে ঝাপসা দেখা, হঠাৎ কালো বা ভাসমান দাগ দেখা এবং আলোর ঝলকানি চোখে পড়লে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
চিকিৎসকদের মতে, এসব লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ রেটিনার অনেক রোগ ধীরে ধীরে বাড়তে পারে এবং দ্রুত শনাক্ত করা গেলে তা নিয়ন্ত্রণের সুযোগও বেশি থাকে।
রেটিনা সুস্থ রাখতে কী করবেন
ডায়াবেটিস থাকলে নিয়মিত পরীক্ষা:
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়মিত রেটিনা পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ। কত সময় পরপর পরীক্ষা প্রয়োজন, তা ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসকের পরামর্শের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা উচিত। দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিক থাকলেও ডায়াবেটিসের কারণে রেটিনায় পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
প্রয়োজনে বিশেষায়িত পরীক্ষা:
সাধারণ চোখের পরীক্ষায় মূলত দৃষ্টিশক্তি কতটা পরিষ্কার, তা যাচাই করা হয়। রেটিনার বিস্তারিত অবস্থা জানতে চিকিৎসকের পরামর্শে ডাইলেটেড আই এক্সাম বা চোখের মণি বড় করে পরীক্ষা এবং ফান্ডাস ফটোগ্রাফির মতো পরীক্ষা করা যেতে পারে।
সতর্ক সংকেত চিনে রাখুন:
চোখের সামনে হঠাৎ নতুন ভাসমান দাগ দেখা, আলোর ঝলকানি, দৃষ্টিতে বিকৃতি কিংবা চোখের সামনে ছায়া বা পর্দার মতো অন্ধকার নেমে আসার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
বয়স বাড়ার সঙ্গে বাড়তি যত্ন:
বয়স বাড়লেই দৃষ্টিশক্তি হারাতে হবে—এমন নয়। তবে বয়স চোখের বিভিন্ন রোগের গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির কারণ হতে পারে। তাই বয়স বাড়ার সঙ্গে নিয়মিত চোখ পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় যত্ন নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
চোখের সমস্যা সবসময় চোখে পড়ার মতো লক্ষণ দিয়ে শুরু হয় না। তাই বিশেষ করে ডায়াবেটিস বা বয়সজনিত ঝুঁকি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত চোখ ও রেটিনা পরীক্ষা করানো দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

