প্রতিদিন চা পান কি স্বাস্থ্যের জন্য ভালো? জানুন গবেষণার তথ্য
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৮ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিশ্বজুড়েই জনপ্রিয় পানীয়ের তালিকায় রয়েছে চা। স্বাদ ও ঘ্রাণের ভিন্নতার কারণে নানা ধরনের চা পান করেন বিভিন্ন বয়সি মানুষ। শুধু শরীরের পানির চাহিদা পূরণ নয়, চায়ে থাকা বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত চা পান করলে হৃদরোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমার সঙ্গে সম্পর্ক থাকতে পারে।
চায়ে ক্যালরির পরিমাণ খুবই কম। এক কাপ পানিতে তৈরি চায়ে মাত্র দুই ক্যালরি থাকে। ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে কম ক্যালরির খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে চা পান করা যেতে পারে।
কফির তুলনায় চায়ে ক্যাফেইনের পরিমাণও কম। আট আউন্স বা প্রায় ২৩৭ মিলিলিটার কালো কফিতে প্রায় ৯৬ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন থাকে। একই পরিমাণ ব্ল্যাক টি বা কালো চায়ে থাকে ৪৭ মিলিগ্রাম এবং গ্রিন টিতে থাকে ২৮ মিলিগ্রাম। অন্যদিকে আদা ও পুদিনার মতো ভেষজ চায়ে সাধারণত ক্যাফেইন থাকে না।
চায়ে রয়েছে যেসব পুষ্টি উপাদান
চায়ে বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও খনিজ উপাদান পাওয়া যায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ফ্ল্যাভোনয়েড, ক্যাটেচিন, পলিফেনল, পটাশিয়াম, ফসফরাস, ম্যাগনেশিয়াম, কপার, জিংক, ক্যালসিয়াম ও ফ্লোরাইড। তবে এসব খনিজের অনেকগুলোই চায়ে অল্প পরিমাণে থাকে। চা প্রস্তুতের সময় প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ফুটানোর কারণে কিছু পুষ্টি উপাদানের পরিমাণও কমে যায়।
কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
কালো চায়ে থিয়াফ্লাভিন ও থিয়ারুবিজিন নামের দুটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে এসব উপাদান গ্রহণ করলে রক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সহায়তা করতে পারে।
রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা
কালো চায়ের এসব অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্তে শর্করার মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে ডায়াবেটিস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে চা উপকারী হতে পারে।
ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সম্ভাব্য ভূমিকা
গ্রিন টি ও কালো চায়ে থাকা পলিফেনল শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এসব উপাদান ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি ও বেঁচে থাকার প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
ঘুম ও মানসিক স্বাস্থ্যে উপকারিতা
ক্যামোমাইলের মতো কিছু ভেষজ চা শরীর ও মনকে প্রশান্ত করতে সহায়তা করে। বিশেষ করে ঘুমানোর আগে এ ধরনের চা পান করলে আরাম পাওয়া যেতে পারে। গবেষণায় প্রসব-পরবর্তী নারীদের ঘুমের মান উন্নত করা এবং বিষণ্নতার উপসর্গ কমানোর ক্ষেত্রেও ক্যামোমাইল চায়ের সম্ভাব্য উপকারিতা পাওয়া গেছে।
মনোযোগ ও সতর্কতা বাড়াতে পারে
কিছু চায়ে থাকা ক্যাফেইন অল্প পরিমাণে গ্রহণ করলে মনোযোগ ও কর্মক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। তবে মস্তিষ্কের কার্যকারিতার ওপর ক্যাফেইনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বুঝতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
অতিরিক্ত চা পানের ঝুঁকি
পরিমিত চা পানে সাধারণত বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই। তবে ব্ল্যাক টি ও গ্রিন টিতে ক্যাফেইন থাকায় অতিরিক্ত পান করলে হৃদ্স্পন্দন বেড়ে যাওয়া, হাত-পা কাঁপা, মাথাব্যথা, অস্থিরতা, উদ্বেগ ও অনিদ্রার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, পরিমিত পরিমাণে চা পান করা এবং অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ থেকে বিরত থাকা। মনে রাখতে হবে, চা কোনো রোগের চিকিৎসা বা প্রতিষেধক নয়; বরং সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে এটি স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে।
সূত্র: ওয়েব এমডি

-6ae48a2a0732a.jpg)