৩০-এর আগেই বাড়ছে চোখের প্রেশার! গ্লকোমার নেপথ্যে লুকিয়ে প্রতিদিনের এক অভ্যাস
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সারাদিন মোবাইল-কম্পিউটারের পর্দায় চোখ রাখা, শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষে দীর্ঘ সময় থাকা কিংবা চোখে অ্যালার্জি—বিভিন্ন কারণে চোখ লাল হওয়া, জ্বালাপোড়া বা শুষ্কতার সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমন উপসর্গ দেখা দিলে অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ওষুধের দোকান থেকে আই ড্রপ কিনে ব্যবহার করেন। এতে সাময়িক আরাম মিললেও কিছু ড্রপের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে চোখের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।
বিশেষ করে স্টেরয়েডযুক্ত আই ড্রপ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার করা বিপজ্জনক। এসব ড্রপ চোখের লাল ভাব ও প্রদাহ দ্রুত কমিয়ে দেয়। ফলে ব্যবহারকারীর মনে হয় সমস্যা সেরে গেছে। কিন্তু দিনের পর দিন এমন ড্রপ ব্যবহার করলে চোখের ভেতরের চাপ বেড়ে গ্লকোমার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ অবস্থাকে বলা হয় ‘স্টেরয়েড ইনডিউসড গ্লকোমা’। এতে চোখের অভ্যন্তরীণ চাপ বেড়ে অপটিক নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, চোখের চাপ বাড়লেও শুরুতে অনেক সময় কোনো লক্ষণ বোঝা যায় না। সমস্যা ধরা পড়ার আগেই অপটিক নার্ভের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে কয়েক সপ্তাহ স্টেরয়েড ড্রপ ব্যবহারের পরও চোখের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।
ছানির ঝুঁকিও বাড়তে পারে
স্টেরয়েডযুক্ত আই ড্রপের আরেকটি পরিচিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো ছানি। দীর্ঘদিন বা বারবার এ ধরনের ড্রপ ব্যবহার করলে অল্প বয়সেও ছানি হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই চোখের লাল ভাব বা জ্বালাপোড়া কমাতে নিজের সিদ্ধান্তে স্টেরয়েড ড্রপ ব্যবহার করা উচিত নয়।
এ ছাড়া চোখে ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের সংক্রমণ থাকলে স্টেরয়েড ড্রপ সাময়িকভাবে লাল ভাব ও প্রদাহ কমিয়ে দিতে পারে। এতে সংক্রমণ সেরে গেছে বলে মনে হলেও জীবাণুর বিস্তার চলতে পারে। ফলে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয় এবং জটিলতা বাড়তে পারে।
চোখের ড্রপ ব্যবহারে যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন
চোখের সমস্যায় অনেকেই কয়েকটি সাধারণ ভুল করেন। যেমন—
১. পুরনো প্রেসক্রিপশনের ড্রপ ব্যবহার: ছয় মাস বা এক বছর আগে চিকিৎসক যে ড্রপ দিয়েছিলেন, চোখ লাল হলেই সেটি আবার ব্যবহার করা।
২. অন্যের ড্রপ ব্যবহার: পরিবারের কারও চোখের সমস্যায় কোনো ড্রপ কাজ করেছে বলে নিজের চোখেও সেটি প্রয়োগ করা।
৩. সমস্যার কারণ না জেনে ড্রপ ব্যবহার: চোখ লাল হওয়ার কারণ অ্যালার্জি, শুষ্কতা কিংবা সংক্রমণ—যেকোনো কিছু হতে পারে। সব সমস্যার চিকিৎসা একই ড্রপে হয় না।
চোখের যত্নে যা করবেন
চোখে জ্বালাপোড়া বা শুষ্কতা দেখা দিলে সব সময় ওষুধের প্রয়োজন হয় না। কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করেও উপকার পাওয়া যেতে পারে।
- ২০-২০-২০ নিয়ম মেনে চলুন: প্রতি ২০ মিনিট পর অন্তত ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরের কোনো কিছুর দিকে তাকান।
- ঘন ঘন চোখের পলক ফেলুন: দীর্ঘ সময় পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকলে পলক ফেলার প্রবণতা কমে যায়। সচেতনভাবে পলক ফেললে চোখের শুষ্কতা কমাতে সাহায্য করে।
- চোখ কচলাবেন না: চোখে হাত দেওয়ার আগে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিন।
- শুষ্কতায় চিকিৎসকের পরামর্শ নিন: প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কৃত্রিম অশ্রু বা লুব্রিকেটিং আই ড্রপ ব্যবহার করা যেতে পারে।
তবে গ্লকোমা বা অন্য কোনো রোগের চিকিৎসায় চিকিৎসক যে ড্রপ দিয়েছেন, তা নিজে থেকে বন্ধ করা যাবে না। চোখে বারবার লাল ভাব, ব্যথা, ঝাপসা দেখা বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সূত্র: আনন্দবাজার
