ভালোবাসার মানুষের কাছে মেসেজ পাঠিয়ে বারবার পড়ার নেপথ্যে কী?
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১০ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কাউকে একটি মেসেজ পাঠানোর পর আবার সেটি খুলে পড়ার অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। মেসেজে কোনো ভুল হয়েছে কি না, কথার ধরন খারাপ শোনাচ্ছে কি না কিংবা প্রাপকের কাছে কথাটি ভুলভাবে পৌঁছাবে কি না—এসব নিয়ে বারবার চিন্তা করেন অনেকে। কখনো একটি কমা, দাঁড়ি, ইমোজি কিংবা ছোট একটি শব্দ নিয়েও শুরু হয় অতিরিক্ত ভাবনা। সাধারণ একটি বার্তাও তখন মানসিক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ডিজিটাল যোগাযোগের যুগে এ ধরনের অভ্যাস ক্রমেই পরিচিত হয়ে উঠছে। কিন্তু কেন মানুষ পাঠানো মেসেজ বারবার পড়েন এবং কীভাবে এই অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসা যায়? এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন মনোবিজ্ঞানীরা।
কেন বারবার পাঠানো মেসেজ পড়েন?
মনোবিজ্ঞানীর মতে, এর অন্যতম কারণ হলো বার্তা পাঠানোর পর সেটির ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলা। কাউকে মেসেজ পাঠানোর পর তিনি সেটি কীভাবে গ্রহণ করছেন, কীভাবে ব্যাখ্যা করছেন কিংবা কথার অর্থ ভুল বুঝছেন কি না, তা সরাসরি বোঝার সুযোগ থাকে না।
মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, কাউকে মেসেজ পাঠানোর পর সেটি তার কাছে কীভাবে পৌঁছাচ্ছে, তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। সামনাসামনি কথা বলার সময় অন্য ব্যক্তির মুখের অভিব্যক্তি দেখে নিজের কথা সংশোধন করা যায়। কিন্তু মেসেজের ক্ষেত্রে সেই সুযোগ থাকে না। ফলে ভুল বোঝাবুঝি বা অন্যের বিচার করার আশঙ্কায় ভোগা ব্যক্তিরা বারবার পাঠানো মেসেজ পড়তে থাকেন।
তারা আরও জানান, বারবার মেসেজ পরীক্ষা করলে সাময়িকভাবে উদ্বেগ কমতে পারে। কিন্তু এই স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। কারণ উদ্বেগের মূল কারণ মেসেজটি নয়, বরং অন্য ব্যক্তি কী ভাবছেন, তা জানতে না পারার অস্বস্তি।
এর আরেকটি কারণ হতে পারে পারফেকশনিজম বা সবকিছু নিখুঁত করার প্রবণতা। এ ধরনের মানুষ সাধারণ একটি মেসেজ পাঠানোর ক্ষেত্রেও প্রতিটি শব্দ, বাক্য ও ইমোজি নিখুঁত করার চেষ্টা করেন। ফলে স্বাভাবিক যোগাযোগও তাদের কাছে মানসিক চাপের বিষয়ে পরিণত হয়।
বারবার মেসেজ পড়ার অভ্যাস ছাড়বেন যেভাবে
মনোবিজ্ঞানীর পরামর্শ, এই অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসার প্রথম পদক্ষেপ হলো অন্য ব্যক্তি কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবেন, তা সব সময় জানা সম্ভব নয়—এটি মেনে নেওয়া।তারা বলেন, মেসেজ পাঠানোর পর সেটি আবার পরীক্ষা না করে অপেক্ষা করতে শেখা জরুরি। নিজের পাঠানো কথার ওপর আস্থা রাখতে হবে এবং সবকিছু নিখুঁত হওয়ার প্রত্যাশা কমাতে হবে। অনিশ্চয়তা সহ্য করার এই মানসিক সক্ষমতা ধীরে ধীরে তৈরি করতে হয়।
তবে বারবার মেসেজ পরীক্ষা করার অভ্যাস যদি ঘুম, কর্মক্ষেত্রে মনোযোগ কিংবা দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত করে, তাহলে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। প্রয়োজনে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।
বিশেষজ্ঞের মতে, বারবার মেসেজ পড়লে সাময়িক স্বস্তি মিললেও তা উদ্বেগের চক্রকে আরও দীর্ঘ করতে পারে। তাই প্রতিটি বার্তা নিখুঁত হয়েছে কি না, তা নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা না করে স্বাভাবিক যোগাযোগের অভ্যাস গড়ে তোলাই ভালো।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

-6ae4980bdd720.jpg)