যৌথ সম্পত্তি ভাগ করতে বাটোয়ারা মামলা, জানুন নিয়ম
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৩৮ এএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
উত্তরাধিকার বা অন্য কোনো সূত্রে পাওয়া যৌথ সম্পত্তি শরিকদের মধ্যে ভাগ করে নিজ নিজ অংশ বুঝে নিতে দেওয়ানি আদালতে যে মামলা করা হয়, সেটিই বাটোয়ারা মামলা বা পার্টিশন স্যুট। শরিকদের মধ্যে আপসের মাধ্যমে সম্পত্তি ভাগ করা সম্ভব না হলে যেকোনো একজন শরিক আদালতের শরণাপন্ন হতে পারেন।
আইনজীবী এম টি উল্যাহর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাটোয়ারা মামলা করার ক্ষেত্রে সম্পত্তির সব শরিককে মামলার পক্ষভুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো শরিককে বাদ রেখে মামলা করলে বণ্টন প্রক্রিয়া জটিল হতে পারে। তাই মামলা করার আগে সম্পত্তির মালিকানা ও উত্তরাধিকার-সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।
বাটোয়ারা মামলা করতে যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন
মামলা করার আগে সম্পত্তির মালিকানা-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে—
- ভূমি জরিপের খতিয়ান
- নামজারি খতিয়ান
- মালিকানার দলিল
- উত্তরাধিকার সনদ
- সম্পত্তির দাগ ও পরিমাণ-সংক্রান্ত তথ্য।
এসব কাগজপত্রের ভিত্তিতে শরিকদের মালিকানার অংশ বা হিস্যা নির্ধারণে সুবিধা হয়।
বণ্টননামা দলিল কী
কোনো যৌথ সম্পত্তির সহশরিকেরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সম্পত্তি পৃথক মালিকানায় ভাগ করে নেওয়ার জন্য যে দলিল তৈরি করেন, সেটিই বণ্টননামা দলিল। এতে প্রত্যেক শরিকের প্রাপ্য অংশ, জমির পরিমাণ ও সীমানার বিবরণ উল্লেখ থাকে।
বণ্টনের ক্ষেত্রে জমি পরিমাপ করে প্রত্যেক শরিকের অংশের সীমানা নির্ধারণ করতে হয়। পাশাপাশি বণ্টন তালিকায় প্রত্যেক সহমালিকের বরাদ্দ স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে। দলিলে সব শরিকের সম্মতি ও স্বাক্ষর থাকা প্রয়োজন। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় স্ট্যাম্প শুল্ক পরিশোধ করে দলিলটি নিবন্ধন করতে হয়।
বণ্টননামা নিবন্ধনের নিয়ম ও খরচ
আপসের মাধ্যমে সম্পত্তি ভাগ করা হলে বণ্টননামা দলিল তৈরি করে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিবন্ধন করতে হয়। নিবন্ধন (সংশোধন) আইন, ২০০৪-এর ১৭(১) ধারার বিধান অনুযায়ী বণ্টননামা নিবন্ধন বাধ্যতামূলক বলে উল্লেখ করেছেন আইনজীবী এম টি উল্যাহ।
তার দেওয়া তথ্যে বলা হয়েছে, বণ্টননামা নিবন্ধনের ক্ষেত্রে দলিলে উল্লেখ করা জমির মূল্যের ওপর ২ শতাংশ হারে স্ট্যাম্প খরচ প্রযোজ্য। এ ছাড়া অন্যান্য নিবন্ধন ফিও দিতে হয়। তবে এসব ফি ও শুল্কের হার সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই দলিল নিবন্ধনের আগে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে হালনাগাদ খরচ জেনে নেওয়া উচিত।
বাটোয়ারা মামলায় দুই ধরনের ডিক্রি
বাটোয়ারা মামলায় সাধারণত আদালত দুই ধাপে ডিক্রি দেন। এগুলো হলো—
প্রাথমিক ডিক্রি: এ পর্যায়ে আদালত প্রত্যেক শরিকের মালিকানার হিস্যা নির্ধারণ করে সম্পত্তি বণ্টনের আদেশ দেন।
চূড়ান্ত ডিক্রি: প্রাথমিক ডিক্রির পর প্রয়োজন অনুযায়ী আদালত আমিন বা কমিশনার নিয়োগ করে সরেজমিনে জমি পরিমাপ ও সীমানা নির্ধারণের ব্যবস্থা করতে পারেন। এরপর প্রত্যেক শরিককে তাঁর প্রাপ্য অংশ বুঝিয়ে দিয়ে চূড়ান্ত ডিক্রি দেওয়া হয়। প্রয়োজনে আদালত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তাও নিতে পারেন।
বণ্টনের পর করণীয়
আদালতের মাধ্যমে সম্পত্তি ভাগ হওয়ার পর কিংবা আপসের ভিত্তিতে বণ্টননামা নিবন্ধন সম্পন্ন হলে প্রত্যেক শরিকের নিজের নামে নামজারি ও জমাভাগের ব্যবস্থা করা উচিত। পাশাপাশি নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করতে হবে।
নামজারির মাধ্যমে সরকারি ভূমি রেকর্ডে নিজের নামে জমির তথ্য হালনাগাদ করা যায়। এতে ভবিষ্যতে জমির মালিকানা ও ভোগদখলসংক্রান্ত জটিলতা কমাতে সহায়তা হয়।
