জমির দলিল লেখায় সামান্য ভুলেই বিপদ, যে ৭ বিষয়ে সতর্ক থাকবেন
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪০ এএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জমি কেনার সময় শুধু দাম ও জমির পরিমাণ ঠিক থাকলেই নিশ্চিন্ত হওয়ার সুযোগ নেই। বিক্রেতার মালিকানা, জমির দাগ-খতিয়ান, সীমানা কিংবা দলিলের তথ্যের সামান্য অসংগতিও ভবিষ্যতে বড় ধরনের আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে। এমনকি অর্থ পরিশোধের পরও জমির দখল বা মালিকানা নিয়ে বিরোধে পড়তে পারেন ক্রেতা।
তাই জমির দলিল লেখার আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই এবং প্রতিটি তথ্য সতর্কতার সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, দলিল সম্পাদনের আগে অন্তত সাতটি বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়া উচিত।
দলিল লেখার আগে যে ৭টি বিষয় যাচাই করবেন
১. বিক্রেতার পরিচয় ও আইনি সক্ষমতা
প্রথমেই নিশ্চিত হতে হবে, যিনি জমি বিক্রি করছেন তিনি প্রকৃত বিক্রেতা কি না। তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্রসহ পরিচয়সংক্রান্ত নথি যাচাই করুন। পাশাপাশি তিনি আইনগতভাবে জমি বিক্রির যোগ্য কি না, আদালতের কোনো নিষেধাজ্ঞা বা অন্য কোনো আইনি বাধা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখুন।
২. জমির মালিকানা যাচাই
বিক্রেতা জমিটির বৈধ মালিক কি না, তা নিশ্চিত করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। জমিটি তিনি কীভাবে পেয়েছেন— ক্রয়, উত্তরাধিকার নাকি অন্য কোনো সূত্রে—তা যাচাই করুন। উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমি হলে উত্তরাধিকার সনদসহ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র এবং আগের মালিকের সঙ্গে সম্পর্কের প্রমাণ দেখতে হবে।
৩. দাগ ও খতিয়ান নম্বর মিলিয়ে দেখা
দলিলে উল্লেখ করা দাগ ও খতিয়ান নম্বর সংশ্লিষ্ট এলাকার রেকর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে নিন। বর্তমান পরচা, জরিপের নথি এবং প্রয়োজনীয় ভূমি রেকর্ড যাচাই করুন। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস বা জেলা রেকর্ড রুমের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।
৪. জমির সীমানা ও অবস্থান স্পষ্ট করা
দলিলে জমির পরিমাণ, অবস্থান এবং চারপাশের সীমানা পরিষ্কারভাবে উল্লেখ থাকতে হবে। জমির উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম পাশের সীমানার বিবরণ অস্পষ্ট থাকলে ভবিষ্যতে প্রতিবেশী বা অন্য মালিকের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হতে পারে। দলিলের বর্ণনার সঙ্গে বাস্তব জমির অবস্থানও মিলিয়ে নিন।
৫. দলিলে কাটাকাটি ও অস্পষ্ট লেখা পরীক্ষা
দলিলের কোনো অংশে কাটাকাটি, ঘষামাজা বা অস্পষ্ট লেখা রয়েছে কি না, ভালোভাবে দেখুন। কোনো ভুল সংশোধন করা হলে তা যথাযথভাবে উল্লেখ এবং প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর ও সত্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে। অস্পষ্ট বা সন্দেহজনক তথ্য রেখে দলিল সম্পাদন করা উচিত নয়।
৬. স্বাক্ষর, সাক্ষী ও শনাক্তকারীর তথ্য যাচাই
দলিল সম্পাদনের সময় বিক্রেতা ও ক্রেতার স্বাক্ষর, সাক্ষীদের পরিচয় এবং শনাক্তকারীর তথ্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। দলিলের প্রতিটি পৃষ্ঠা ও প্রয়োজনীয় স্থানে স্বাক্ষর রয়েছে কি না, তা যাচাই করুন। এ ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন ও নিবন্ধন কার্যালয়ের নিয়ম অনুসরণ করা জরুরি।
৭. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা
দলিল সম্পাদনের আগে জাতীয় পরিচয়পত্র, জমির খতিয়ান বা পরচা, দলিলের পূর্ববর্তী কপি, নামজারির কাগজ, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের দাখিলা এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য প্রমাণপত্র সংগ্রহ করুন। উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমির ক্ষেত্রে উত্তরাধিকারসংক্রান্ত নথিও সঙ্গে রাখতে হবে।
যে বিষয়টি ভুলে গেলে চলবে না
দলিল সম্পাদনই জমি কেনার শেষ ধাপ নয়। দলিল যথাযথভাবে নিবন্ধন হয়েছে কি না, তার কপি সংগ্রহ এবং পরবর্তী সময়ে নামজারিসহ প্রয়োজনীয় ভূমিসেবা সম্পন্ন করাও গুরুত্বপূর্ণ। জমির মালিকানা নিয়ে কোনো সন্দেহ বা বিরোধ থাকলে অর্থ পরিশোধের আগে আইনজীবীর মাধ্যমে কাগজপত্র যাচাই করানো উচিত।

-6ae42ca181f5b.jpg)