শীতের সকালে স্ট্রোকের ঝুঁকি: সতর্ক থাকুন এই ৪ বিষয়ে
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৬ এএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শীতের সকালে আরামদায়ক বিছানায় লেপ বা কম্বল মুড়িয়ে থাকার চেয়ে লোভনীয় আর কিছু হতে পারে না। তবে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা হৃদরোগের সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য শীতকাল মানেই স্বাস্থ্যের প্রতি একটু বাড়তি নজর দেওয়া। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এ নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন ভারতের বিশিষ্ট স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ (নিউ্রোলজিস্ট) ডা. দীপ দাস।
ডা. দাসের মতে, ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে রক্তনালীগুলো সংকুচিত হয়ে যায়, যা রক্তচাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। অনেক মানুষের জন্যই শীতে রক্তচাপ কিছুটা বেশি থাকে। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি এবং যাদের স্ট্রোকের ঝুঁকি রয়েছে, তাদের কার্ডিওভাস্কুলার বা হৃৎপিণ্ডের সিস্টেমের ওপর এই পরিবর্তনের কারণে বাড়তি চাপ পড়তে পারে।
অবশ্য ঠান্ডা আবহাওয়া মানেই যে স্ট্রোক হবে, বিষয়টি এমন নয়। মূলত আবহাওয়া, বর্তমান শারীরিক অবস্থা এবং প্রাত্যহিক অভ্যাসের সংমিশ্রণেই ঝুঁকি তৈরি হয়।
এ প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞ সতর্ক করে বলেন, ‘শীতকালে শারীরিক কার্যকলাপ কমে যাওয়া, খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এবং নিয়মিত ওষুধ না খাওয়ার কারণে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।’
ঘরের বাইরে যাওয়ার আগে যে সতর্কতাগুলো মানবেন
শীতের সকালে ঘুম থেকে উঠেই হঠাৎ করে গরম ঘর থেকে কনকনে ঠান্ডার মধ্যে বের হওয়া ঠিক নয়।
স্তরে স্তরে পোশাক পরুন: পোশাক এমনভাবে বেছে নিন যাতে শরীর উষ্ণ থাকে, খোলা ত্বক ঢেকে রাখুন এবং বাইরে ব্যায়াম শুরু করার আগে শরীরকে মানিয়ে নেওয়ার জন্য কিছুটা সময় দিন।
হঠাৎ ভারী ব্যায়াম নয়: যদি আপনার খুব বেশি ভারী কাজের অভ্যাস না থাকে, তবে ঠান্ডার মধ্যে হঠাৎ করেই কোনো কঠিন হাঁটা বা ব্যায়াম শুরু করবেন না।
ওষুধে অনিয়ম করবেন না: উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত রক্তচাপ মাপুন এবং নির্ধারিত ওষুধ চালিয়ে যান। ‘শুধু সুস্থ বোধ করছেন বলেই ওষুধের মাত্রা বাদ দেবেন না বা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া তা পরিবর্তন করবেন না,’ পরামর্শ দেন ডা. দাস।
নিয়মিত চেকআপ: যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল বা হৃদরোগ রয়েছে, তাদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া উচিত।
স্ট্রোকের লক্ষণ চেনার উপায়: বিফাস্ট (B.E. F.A.S.T.) পদ্ধতি
মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ ব্যাহত হলে বা রক্তনালী ফেটে গেলে স্ট্রোক হতে পারে। এর প্রভাব জীবনঘাতী হতে পারে এবং এর চিকিৎসাও সময়সাপেক্ষ। তাই লক্ষণগুলো দ্রুত চেনার মাধ্যমে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি।
ডা. দাসের মতে, স্ট্রোকের প্রাথমিক লক্ষণগুলো মনে রাখার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো বিফাস্ট পদ্ধতি:
B (Balance): হঠাৎ করে ভারসাম্য বা চলাফেরার সমন্বয় নষ্ট হয়ে যাওয়া।
E (Eyes): চোখের দৃষ্টিতে হঠাৎ কোনো পরিবর্তন আসা।
F (Face): মুখের একপাশ ঝুলে পড়া বা বাঁকা হয়ে যাওয়া।
A (Arms): হাত বা পায়ে হঠাৎ দুর্বলতা বা অবশ ভাব অনুভূত হওয়া, বিশেষ করে শরীরের একপাশে।
S (Speech): কথা জড়িয়ে যাওয়া বা কথা বুঝতে সমস্যা হওয়া।
T (Time): সময় নষ্ট না করে অবিলম্বে জরুরি সেবায় (অ্যাম্বুলেন্স বা হাসপাতালে) যোগাযোগ করা।
বিশেষজ্ঞের মতে, হঠাৎ তীব্র মাথা ব্যথা বা বিভ্রান্তি দেখা দেওয়াও একটি বিপজ্জনক লক্ষণ হতে পারে। লক্ষণগুলো কয়েক মিনিট পর আপনাআপনি ঠিক হয়ে গেলেও অপেক্ষা না করে তা কখন শুরু হয়েছিল তা নোট করুন এবং দ্রুত জরুরি চিকিৎসা সহায়তা নিন।
ছোট ছোট সতর্কতাতেই বড় সুরক্ষা
শীতের সকালে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে ছোট ছোট কিছু অভ্যাস বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। ডা. দাসের পরামর্শ—নিয়মিত ওষুধ সেবন করুন, নিজের শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী সক্রিয় থাকুন এবং অতিরিক্ত ঠান্ডা আবহাওয়া এড়িয়ে চলুন।
এ ছাড়া ঘরে নিয়মিত রক্তচাপ মাপার পরামর্শ দেওয়া হলে তার একটি তালিকা রাখুন এবং কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে তা চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করুন।
শীতকাল মানেই যে প্রাত্যহিক কাজকর্মে ইতি টানতে হবে, বিষয়টি এমন নয়। ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিরা সামান্য প্রস্তুতি এবং স্ট্রোকের লক্ষণগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকলে খুব সহজেই নিরাপদ ও সুস্থ থাকতে পারেন।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

