গ্রিন টির চেয়েও বেশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যে ৫ পানীয়ে
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৫ এএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষকে ফ্রি র্যাডিক্যালের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফ্রি র্যাডিক্যালের কারণে কোষ ও ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর ফলে শরীরে প্রদাহ, অকালবার্ধক্য এবং হৃদরোগসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এসব ক্ষতিকর অণুর প্রভাব নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। পাশাপাশি শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা সচল রাখতেও ভূমিকা রাখে।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ পানীয় হিসেবে গ্রিন টি বেশ পরিচিত। এতে রয়েছে ক্যাটেচিন নামের উপকারী উদ্ভিজ্জ যৌগ, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো এপিগ্যালোক্যাটেচিন গ্যালেট (ইজিসিজি)। এসব যৌগ শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সহায়তা করতে পারে। তবে গ্রিন টি ছাড়াও এমন কিছু পানীয় রয়েছে, যেগুলোতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায়।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বেশি যেসব পানীয়ে
ম্যাচা
ম্যাচা মূলত গুঁড়া করা গ্রিন টি। সাধারণ গ্রিন টি পান করার সময় পাতার নির্যাস পান করা হয়। কিন্তু ম্যাচার ক্ষেত্রে পুরো পাতাই গুঁড়া করে পান করা হয়। ফলে এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গ্রহণের পরিমাণ বেশি হতে পারে। তবে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মাত্রা নির্ভর করে চায়ের গুণমান, প্রস্তুতপ্রণালি ও পরিবেশনের পরিমাণের ওপর।
ডালিমের রস
ডালিমের রসে রয়েছে পলিফেনল, বিশেষ করে অ্যান্থোসায়ানিনসহ বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যৌগ। এসব উপাদান শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে রক্ষায় সহায়তা করতে পারে। তবে বাড়তি চিনি মেশানো রসের পরিবর্তে চিনি ছাড়া বিশুদ্ধ ডালিমের রস বেছে নেওয়া ভালো। পরিমিত পরিমাণে পান করাও গুরুত্বপূর্ণ।
কোকো বা ডার্ক চকলেটের পানীয়
কোকো পাউডার ও ডার্ক চকলেটে ফ্ল্যাভানলসহ বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। এসব যৌগ হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। কোকো দিয়ে পানীয় তৈরি করতে চাইলে চিনি ছাড়া কোকো পাউডার ব্যবহার করা ভালো। এতে অপ্রয়োজনীয় চিনি গ্রহণের পরিমাণও কমানো সম্ভব।
জবা ফুলের চা
জবা ফুলের চা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ একটি পানীয়। এতে অ্যান্থোসায়ানিন ও অন্যান্য পলিফেনল রয়েছে। এসব উপাদান শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সহায়তা করতে পারে। কিছু গবেষণায় জবা ফুলের চা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সম্ভাব্য উপকারের ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে। তবে এর প্রভাব ব্যক্তি ও পান করার পরিমাণ অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।
ব্ল্যাক কফি বা এসপ্রেসো
কফিতে ক্লোরোজেনিক অ্যাসিডসহ বিভিন্ন পলিফেনল রয়েছে, যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। পরিমিত পরিমাণে কফি পান করলে কিছু স্বাস্থ্যগত উপকার পাওয়া যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণে ঘুমের সমস্যা, অস্থিরতা বা বুক ধড়ফড় করার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তাই ব্যক্তিগত সহনশীলতা অনুযায়ী কফি পান করা উচিত। বাড়তি চিনি ও ক্রিম এড়িয়ে চললে কফিতে অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণও কমানো যায়।
কোন পানীয় বেছে নেবেন?
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গ্রহণের জন্য শুধু একটি পানীয়ের ওপর নির্ভর না করে খাদ্যাভ্যাসে বৈচিত্র্য রাখা ভালো। ম্যাচা, ডালিমের রস, জবা ফুলের চা, কোকো ও ব্ল্যাক কফি—প্রতিটি পানীয়তেই ভিন্ন ধরনের উপকারী যৌগ রয়েছে।
তবে কোনো পানীয়তেই সব ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমানভাবে থাকে না। আবার অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পরিমাণ বেশি হলেই সেটি অন্য পানীয়ের তুলনায় সব ক্ষেত্রে বেশি স্বাস্থ্যকর—এমন সিদ্ধান্তেও পৌঁছানো যায় না। পানীয়ের উপাদান, প্রস্তুতপ্রণালি, চিনির পরিমাণ এবং ব্যক্তির শারীরিক অবস্থাও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম ও নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমের পাশাপাশি পরিমিত পরিমাণে এসব পানীয় গ্রহণ সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।
সূত্র: এনডিটিভি
