প্রতিদিন ‘ইনুলিন’ খেলেই কমতে পারে বাতের ব্যথা, বলছে গবেষণা
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
হাঁটুর বাতের ব্যথা কমাতে এবং পেশির শক্তি বাড়াতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় বিশেষ ধরনের আঁশ যুক্ত করার সুফল পাওয়া গেছে নতুন এক গবেষণায়। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব নটিংহ্যামের গবেষকদের পরিচালিত এক পরীক্ষায় দেখা গেছে, প্রিবায়োটিক আঁশ ইনুলিন গ্রহণকারী হাঁটুর অস্টিওআর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ব্যথা কমেছে, হাতের মুঠির শক্তি বেড়েছে এবং ব্যথার প্রতি সংবেদনশীলতা হ্রাস পেয়েছে।
প্রকাশিত গবেষণাটিতে আরও দেখা গেছে, শুধু ইনুলিন গ্রহণকারী অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে গবেষণা ছেড়ে দেওয়ার হার ছিল মাত্র ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। অন্যদিকে, শুধু ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত ফিজিওথেরাপি ব্যায়াম করা ব্যক্তিদের মধ্যে এ হার ছিল ২১ শতাংশ।
গবেষণাটি নিউট্রিয়েন্টস সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। তবে গবেষণাটি মাত্র ছয় সপ্তাহ ধরে ১১৭ জনের ওপর পরিচালিত হওয়ায়, দীর্ঘমেয়াদে এই উপকার বজায় থাকে কি না, তা জানতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
কী এই ইনুলিন?
ইনুলিন এক ধরনের প্রিবায়োটিক আঁশ, যা চিকোরি গাছের শিকড়, জেরুজালেম আর্টিচোকসহ বিভিন্ন উদ্ভিদে পাওয়া যায়। এটি ক্ষুদ্রান্ত্রে সাধারণভাবে হজম হয় না। বরং বৃহদান্ত্রে পৌঁছে উপকারী অন্ত্রীয় ব্যাকটেরিয়ার খাদ্য হিসেবে কাজ করে।
অন্ত্রে থাকা এসব অণুজীব ইনুলিন ভেঙে স্বল্প-শৃঙ্খল ফ্যাটি অ্যাসিড তৈরি করে। এর মধ্যে বিউটিরেট অন্যতম। এটি অন্ত্রের আবরণ সুস্থ রাখতে সহায়তা করে এবং প্রদাহের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু জৈবিক প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখতে পারে।
গবেষণায় ইনুলিন গ্রহণকারীদের শরীরে বিউটিরেটের মাত্রা বেড়েছে বলে দেখা গেছে। এতে ধারণা পাওয়া যায়, এই আঁশ অন্ত্রের অণুজীবের কার্যক্রমে পরিবর্তন আনতে পারে।
অন্ত্রের সঙ্গে ব্যথার সম্পর্ক কোথায়?
গবেষকেরা অন্ত্রের অণুজীবসমষ্টি বা মাইক্রোবায়োমের সঙ্গে শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রমের সম্পর্ক নিয়ে কাজ করছেন। এসব অণুজীব শুধু খাবার হজমেই ভূমিকা রাখে না; রোগপ্রতিরোধব্যবস্থা, প্রদাহ এবং স্নায়ুতন্ত্রের ব্যথা অনুভবের প্রক্রিয়ার সঙ্গেও তাদের সম্পর্ক থাকতে পারে।
গবেষণায় ইনুলিন গ্রহণকারীদের শরীরে গ্লুকাগন-সদৃশ পেপটাইড-১ বা জিএলপি-১ নামের একটি হরমোনের মাত্রাও বেড়েছে। অন্ত্র থেকে নিঃসৃত এই হরমোন রক্তে শর্করা ও ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। ব্যথা নিয়ন্ত্রণ এবং পেশির কার্যক্ষমতার সঙ্গেও এর সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা হচ্ছে।
অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে জিএলপি-১-এর বেশি মাত্রার সঙ্গে হাতের মুঠির বেশি শক্তির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে এ থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না যে হরমোনটির বৃদ্ধিই পেশির শক্তি বাড়িয়েছে। বিষয়টি আরও বিশদভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
কীভাবে পরিচালিত হয় গবেষণা?
গবেষণাটিতে হাঁটুর অস্টিওআর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত ১১৭ জন প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নেন। তাঁদের চারটি দলে ভাগ করা হয়। এক দল প্রতিদিন ইনুলিন গ্রহণ করেন, আরেক দল ডিজিটাল সহায়তায় ফিজিওথেরাপির ব্যায়াম করেন। তৃতীয় দল ইনুলিন ও ব্যায়াম—দুটিই করেন। চতুর্থ দলকে দেওয়া হয় প্লাসিবো বা কার্যকর উপাদানবিহীন বিকল্প।
ছয় সপ্তাহের এই পরীক্ষায় ইনুলিন ও ফিজিওথেরাপি— দুটিই আলাদাভাবে হাঁটুর ব্যথা কমাতে সহায়তা করেছে। তবে ইনুলিন গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে হাতের মুঠির শক্তি বৃদ্ধি এবং ব্যথার প্রতি সংবেদনশীলতা কমার অতিরিক্ত সুবিধাও দেখা গেছে, যা শুধু ব্যায়াম করা দলের মধ্যে একইভাবে পাওয়া যায়নি।
গবেষণায় ইনুলিন গ্রহণকারী দলের অংশগ্রহণকারীরা তুলনামূলকভাবে বেশি সময় চিকিৎসাপদ্ধতি অনুসরণ করেছেন। তবে এই ফলাফল থেকে বলা যায় না যে ইনুলিন ব্যায়ামের চেয়ে ভালো চিকিৎসা। কারণ, দুই পদ্ধতির উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতার ধরন আলাদা হতে পারে।
বাতের ব্যথায় নতুন সম্ভাবনা, তবে সতর্কতা জরুরি
হাঁটুর অস্টিওআর্থ্রাইটিসে অস্থিসন্ধির তরুণাস্থি ও আশপাশের টিস্যু ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হতে পারে। এতে ব্যথা, শক্ত হয়ে থাকা, ফোলা এবং হাঁটাচলা বা সিঁড়ি ভাঙার মতো দৈনন্দিন কাজে অসুবিধা দেখা দেয়।
এ ধরনের সমস্যায় ব্যথা নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম এবং ফিজিওথেরাপি গুরুত্বপূর্ণ। নতুন গবেষণাটি ইঙ্গিত দিচ্ছে, অন্ত্রের স্বাস্থ্যকে লক্ষ্য করে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনাও ভবিষ্যতে চিকিৎসার সহায়ক পদ্ধতি হতে পারে।
তবে গবেষণাটি প্রাথমিক পর্যায়ের। অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম এবং পর্যবেক্ষণের সময়ও মাত্র ছয় সপ্তাহ। ইনুলিনের উপকার কত দিন স্থায়ী হয়, কোন রোগীরা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হন এবং ঠিক কোন জৈবিক প্রক্রিয়ায় ব্যথা কমে— এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে বড় পরিসরে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা প্রয়োজন।

-6ae1bdd4c59f8.jpg)