হেপাটাইটিস বি ও সি যেভাবে লিভার ক্যানসারে রূপ নেয়, জানালেন বিশেষজ্ঞ
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
লিভার ক্যানসার বিশ্বজুড়ে অন্যতম প্রাণঘাতী রোগ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। বাংলাদেশেও হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাসের সংক্রমণ, ফ্যাটি লিভার, স্থূলতা ও ডায়াবেটিসের মতো কারণে এ রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত স্পষ্ট উপসর্গ দেখা না দেওয়ায় অনেক রোগীর ক্ষেত্রে ক্যানসার শনাক্ত হয় দেরিতে। এ পরিস্থিতিতে ঝুঁকির কারণ নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
ন্যাশনাল লিভার ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী জানান, লিভার ক্যানসার প্রতিরোধ ও রোগীর মৃত্যুঝুঁকি কমাতে জনসচেতনতা বাড়ানো এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা জরুরি। অক্টোবর মাস বিশ্বজুড়ে লিভার ক্যানসার সচেতনতা মাস হিসেবে পালিত হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে বিশ্বে প্রায় ৯ লাখ মানুষ লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত হন। একই সময়ে এ রোগে মারা যান প্রায় ৮ লাখ ৩০ হাজার মানুষ। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে লিভার ক্যানসারে বছরে মৃত্যুর সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। বিশ্বে এ রোগের প্রায় ৭৫ শতাংশ ঘটনা ঘটে এশিয়ায়।
অধ্যাপক মোহাম্মদ আলীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে হেপাটাইটিস বি সংক্রমণের হার প্রায় ৫ দশমিক ৫ শতাংশ এবং হেপাটাইটিস সি সংক্রমণের হার শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ। এ দুই ভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় এক কোটি বলে ধারণা করা হয়।
দীর্ঘদিন হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাসে আক্রান্ত থাকলে লিভারে প্রদাহ ও ক্ষতি হতে পারে। একপর্যায়ে লিভার সিরোসিস তৈরি হলে ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়ে। এ ছাড়া ফ্যাটি লিভার, অতিরিক্ত ওজন, ডায়াবেটিস, রক্তে চর্বির অস্বাভাবিক মাত্রা এবং মদ্যপানও লিভার ক্যানসারের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত।
লিভার ক্যানসার শনাক্তে আল্ট্রাসনোগ্রাফি, রক্তে আলফা-ফেটোপ্রোটিন পরীক্ষা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সিটি স্ক্যান, এমআরআই বা বায়োপসি করা হয়। তবে শুধু একটি পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে সব ক্ষেত্রে ক্যানসার নিশ্চিত করা যায় না। রোগীর অবস্থা বিবেচনায় চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নির্ধারণ করেন।
রোগের পর্যায় অনুযায়ী অস্ত্রোপচার, লিভার প্রতিস্থাপন, টিউমারকেন্দ্রিক চিকিৎসা, টার্গেটেড থেরাপি ও ইমিউনোথেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, হেপাটাইটিস বি-এর টিকা নিতে হবে এবং হেপাটাইটিস বি ও সি সংক্রমণের ঝুঁকি থাকলে পরীক্ষা করাতে হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা, ওজন ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ এবং মদ্যপান পরিহার করা জরুরি। দীর্ঘমেয়াদি লিভার রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়মিত চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে থাকাও প্রয়োজন।
সচেতনতা, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং দ্রুত রোগ শনাক্তের মাধ্যমে লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি ও মৃত্যুহার কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

-6ae1ab356cecd.jpg)