আর্থ্রাইটিসের যন্ত্রণার অবসান জাফরানে! কী বলছে গবেষণা?
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৪ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আর্থাইট্রিস মানে হাড়ের জয়েন্টে অসহ্য যন্ত্রণা, ফোলা ভাব আর আড়ষ্টতা।বাতের ব্যথায় যারা ভুগছেন, তারাই জানেন এই কষ্ট কতটা মারাত্মক।
যুক্তরাষ্ট্রের সংস্থা 'সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেন্টশন' (CDC)-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২৪ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ এই রোগের শিকার। অস্টিওআর্থ্রাইটিস (OA) হোক বা রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস (RA), এই ব্যাধি জীবনকে পঙ্গু করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসার দীর্ঘমেয়াদী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এড়িয়ে কোনও প্রাকৃতিক উপায়ে কি এর সমাধান সম্ভব? বিজ্ঞানীরা বলছেন, উত্তরটা লুকিয়ে থাকতে পারে রান্নার অতি পরিচিত মশলা— জাফরান বা স্যাফরন-এর মধ্যে।
কেন জাফরান নিয়ে আশাবাদী গবেষকরা?
আর্থ্রাইটিসের চিকিৎসায় সাধারণত চিকিৎসকরা 'ডিজিজ-মডিফাইং অ্যান্টি-রিউম্যাটিক ড্রাগস' (DMARDs) প্রেসক্রাইব করেন। এগুলো প্রদাহ কমালেও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে অনেকটা কমিয়ে দেয়, ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। ঠিক এই জায়গাতেই জাফরান তার শক্তিশালী 'অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি' এবং 'অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট' গুণাবলি নিয়ে এক যুগান্তকারী বিকল্প হিসেবে উঠে আসছে।
ইরানের বিজ্ঞানীদের সাফল্য ও ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল
জাফরান নিয়ে গবেষণায় বর্তমানে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ইরান। ইরানের গবেষকরা 'ক্রোসিনা' (Krocina) নামক একটি জাফরান-ভিত্তিক ভেষজ ওষুধের ওপর ২০২০ এবং ২০২২ সালে পরীক্ষা চালিয়েছেন। অস্টিওআর্থ্রাইটিস রোগীদের ওপর করা এই পরীক্ষায় দেখা গেছে:
*শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিকারী রেগুলেটরি টি-সেল (Tregs) এবং GATA-3 জিন এক্সপ্রেশন বৃদ্ধি পেয়েছে।
*রক্তে সি-রিঅ্যাক্টিভ প্রোটিন (CRP)-এর মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
শুধু অস্টিওআর্থ্রাইটিস নয়, ২০২০ সালে ইরান ইউনিভার্সিটি অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেসের এক গবেষণায় দেখা গেছে, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস (RA) রোগীদের ক্ষেত্রেও জাফরান জাদুর মতো কাজ করে। দিনে ১০০ মিলিগ্রাম জাফরান নির্যাস ১২ সপ্তাহ ধরে সেবন করলে জয়েন্টের ফোলা ভাব এবং ব্যথার তীব্রতা অবিশ্বাস্যভাবে কমে যায়। তেহরান ইউনিভার্সিটি অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেসের রিভিউ রিপোর্টেও জাফরানকে রিউমাটয়েড ও অস্টিওআর্থ্রাইটিসের জন্য ‘যুগান্তকারী’ চিকিৎসা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
জাফরানের কার্যকারিতা নিয়ে চিনা বিজ্ঞানীরাও যথেষ্ট উৎসাহ দেখিয়েছেন। ২০১৭ সালে মার্কিন জার্নাল 'ইনফ্লামেশন'-এ প্রকাশিত একটি প্রবন্ধে জানানো হয়, জাফরানের অন্যতম প্রধান উপাদান 'ক্রোসিন' (Crocin) অক্সিডেটিভ স্ট্রেস এবং প্রদাহ কমিয়ে অস্টিওআর্থ্রাইটিসের উপসর্গ উপশম করে। ২০১৮ সালে চিনের হেবেই প্রদেশের একটি গবেষণাতেও রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের চিকিৎসায় 'ক্রোসিন'-কে অত্যন্ত প্রতিশ্রুতিমান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। ফরাসি এবং গ্রীক গবেষকরা জাফরানের এই গুণকে স্বীকার করলেও তথ্যের সীমাবদ্ধতা নিয়ে সরব হয়েছেন। ২০২১ সালে গ্রীক বিজ্ঞানীদের একটি সিস্টেমেটিক রিভিউতে দাবি করা হয়েছে যে, ইরানের ট্রায়ালগুলোতে হয়তো কিছু বায়াস বা পক্ষপাত থাকতে পারে। তাদের মতে, বাত নিরাময়ে জাফরানের চূড়ান্ত কার্যকারিতা প্রমাণ করতে আরও বড় পরিসরে আন্তর্জাতিক গবেষণার প্রয়োজন।
