গবেষণা
অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়ি-পাতিল ব্যবহারে ভয়ংকর তথ্য!
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:১০ পিএম
ছবি: এআই দিয়ে তৈরি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাংলাদেশে তৈরি অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়ি-পাতিল থেকে রান্না করা খাবারে বিষাক্ত সিসা (লেড) মিশে যাচ্ছে। বিশেষ করে পুরোনো ধাতু বা ভাঙারি গলিয়ে তৈরি এসব তৈজসপত্র শিশুদের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। নতুন হাঁড়ি-পাতিলে সিসা নির্গমনের পরিমাণ বেশি। আবার হাঁড়ি ঘষে পরিষ্কার করলেও খাবারে সিসা মেশার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
সম্প্রতি এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় বাংলাদেশে প্রচলিত হাতে তৈরি অ্যালুমিনিয়ামের রান্নার পাত্র থেকে খাবারে কতটা সিসা মিশছে, তা পরীক্ষা করা হয়েছে। গবেষকদের মতে, দৈনন্দিন রান্নার মধ্য দিয়ে সিসার সংস্পর্শে আসার বিষয়টি জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক।
গবেষণায় দুটি পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। প্রথমে তরল খাবারের প্রভাব বোঝার জন্য ৪ শতাংশ অ্যাসিটিক অ্যাসিড ব্যবহার করে সিসা নির্গমনের পরীক্ষা করা হয়। পাশাপাশি এসব পাত্রে সাদা ভাত ও খিচুড়ি রান্না করে খাবারে সিসার পরিমাণ পরিমাপ করা হয়।
পরীক্ষায় দেখা গেছে, খাবারের অম্লতা, হাঁড়ির ব্যবহারের ইতিহাস এবং নাড়াচাড়া বা ঘষাঘষির ওপর সিসা নির্গমনের পরিমাণ নির্ভর করে। নতুন হাঁড়ি প্রথমবার ব্যবহারের সময় ঘষে পরিষ্কার করলে ঘষা ছাড়া ব্যবহারের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি সিসা নির্গত হয়। দ্বিতীয়বার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ঘষে পরিষ্কার করলে প্রায় তিন গুণ বেশি সিসা পাওয়া যায়।
নতুন হাঁড়িতে প্রথমবার রান্নার সময় খাবারে সিসার পরিমাণ ছিল সবচেয়ে বেশি। এসব পাত্রে রান্না করা ভাতে প্রতি কেজিতে গড়ে ৩০৫ মাইক্রোগ্রাম এবং খিচুড়িতে ৪২০ মাইক্রোগ্রাম সিসা পাওয়া যায়।
বারবার ব্যবহারের পরও নতুন ও আগে থেকে ব্যবহৃত হাঁড়িতে রান্না করা খাবারে সিসার মাত্রা শিশুদের খাবারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করেছে। এফডিএর এই সীমা প্রতি কেজি খাবারে ১০ মাইক্রোগ্রাম।
গবেষকদের মতে, নতুন হাঁড়ির উপরিভাগে সহজে নির্গত হওয়ার মতো সিসা বেশি থাকে। ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে এর পরিমাণ কমতে থাকে। তবে ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয় না।
গবেষণায় বলা হয়েছে, অ্যালুমিনিয়ামের এসব পাত্র সিসার সংস্পর্শে আসার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও উপেক্ষিত উৎস। এ ঝুঁকি কমাতে উৎপাদনমান উন্নত করা, কার্যকর নিয়ন্ত্রণ এবং জনসচেতনতামূলক উদ্যোগ প্রয়োজন।
সূত্র: ন্যাচার

-6aec9058636fc.jpg)