মৃত্যুঝুঁকি কমাতে মিনিটে কত কদম হাঁটা জরুরি?
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৬ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
হাঁটার গতি শুধু শারীরিক সক্ষমতার পরিচয় দেয় না, এটি মানুষের আয়ু ও মৃত্যুঝুঁকিরও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক হতে পারে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা তুলনামূলক দ্রুত হাঁটেন, তাদের যেকোনো কারণে মৃত্যুর ঝুঁকি ধীরগতিতে হাঁটা ব্যক্তিদের তুলনায় কম। এমনকি চিকিৎসকের কাছে নির্দিষ্ট দূরত্ব হাঁটার পরীক্ষার পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনে হাঁটার গতিও মৃত্যুঝুঁকি নির্ধারণে কার্যকর তথ্য দিতে পারে।
গত ২৩ অক্টোবর চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী ‘জেএএমএ নেটওয়ার্ক ওপেন’-এ প্রকাশিত গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। গবেষকদের মতে, হাঁটার গতি পরিমাপের দুটি পদ্ধতিই মৃত্যুঝুঁকি অনুমানের ক্ষেত্রে প্রায় একই রকম কার্যকর।
যেভাবে করা হয়েছে গবেষণা
যুক্তরাজ্যের হোয়াইটহল-২ গবেষণার অংশ হিসেবে পরিচালিত এ গবেষণায় অংশ নেন ৪ হাজার ৬৭ জন। তাদের অধিকাংশই পুরুষ। অংশগ্রহণকারীদের গড় বয়স ছিল প্রায় ৬৯ বছর। তাদের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নারী।
২০১২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এরপর ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত তাদের স্বাস্থ্য ও মৃত্যুর তথ্য পর্যবেক্ষণ করেন গবেষকরা।
অংশগ্রহণকারীদের প্রথমে ২ দশমিক ৪৪ মিটার দূরত্ব স্বাভাবিক গতিতে হাঁটতে দেওয়া হয়। এ পরীক্ষা তিনবার নেওয়া হয় এবং গড় গতি হিসাব করা হয়। অন্যদিকে, দৈনন্দিন হাঁটার গতি পরিমাপ করতে তাদের টানা নয় দিন হাতে বিশেষ যন্ত্র পরিয়ে রাখা হয়। এর মাধ্যমে প্রতি মিনিটে পদক্ষেপের সংখ্যা এবং প্রতিদিনের মোট পদক্ষেপ হিসাব করা হয়।
দ্রুত হাঁটলে মৃত্যুঝুঁকি ২৩ শতাংশ কম
প্রায় ১২ বছরের পর্যবেক্ষণে ৭৩৯ জন অংশগ্রহণকারীর মৃত্যু হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, বয়স, জীবনযাপন ও শারীরিক স্বাস্থ্যের বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়ার পরও হাঁটার গতির সঙ্গে মৃত্যুঝুঁকির স্পষ্ট সম্পর্ক রয়েছে।
গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় হাঁটার গতির প্রতিটি মানক বিচ্যুতি বৃদ্ধির সঙ্গে মৃত্যুঝুঁকি ২৩ শতাংশ কমে। অন্যদিকে, দৈনন্দিন জীবনে হাঁটার মধ্যম গতির সঙ্গে মৃত্যুঝুঁকি ১৭ শতাংশ এবং দ্রুত হাঁটার গতির সঙ্গে ১৮ শতাংশ কম হওয়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষ ও নারী উভয়ের ক্ষেত্রেই হাঁটার গতি মৃত্যুঝুঁকি অনুমানে কার্যকর।
হাঁটার গতি কমে গেলে কী করবেন
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাঁটার জন্য হৃদযন্ত্র, ফুসফুস, পেশি ও মস্তিষ্কের সমন্বিত কাজ প্রয়োজন। তাই আগের তুলনায় হাঁটার গতি কমে যাওয়া পেশির দুর্বলতা, ব্যথা, ভারসাম্যহীনতা কিংবা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, হাঁটার সময় হঠাৎ শ্বাসকষ্ট, নতুন কোনো ব্যথা কিংবা চলাফেরায় সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।
ব্যায়ামের জন্য প্রতিদিন ১০ হাজার পদক্ষেপ হাঁটতেই হবে, এমন নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, দৈনিক ৭ হাজার থেকে ৮ হাজার পদক্ষেপও যথেষ্ট হতে পারে। তবে একবারে বেশি হাঁটার চেষ্টা না করে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী ধীরে ধীরে পদক্ষেপের সংখ্যা বাড়ানো ভালো।
হাঁটার ভারসাম্য, পেশির শক্তি কিংবা চলাফেরায় সমস্যা থাকলে ফিজিওথেরাপিও উপকারী হতে পারে। পাশাপাশি ব্যায়ামের আগে ও পরে পেশি প্রসারণ, পর্যাপ্ত পানি পান এবং পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে গবেষকরা সতর্ক করেছেন, শুধু দ্রুত হাঁটলেই আয়ু বাড়বে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। বরং স্বাভাবিক হাঁটার গতি কমে যাচ্ছে কি না, সেটি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করাও স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: হেলথ লাইন

-6aec8743eb82e.jpg)