অস্ত্রোপচারের পর নারী ডাক্তারের সামনে পুরুষ রোগীদের ব্যথা কমে যাওয়ার রহস্য কী?
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৬ এএম
প্রতীকী ছবি।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঘুম বা কাজের ফাঁকে একটু শারীরিক কষ্ট কিংবা অস্ত্রোপচারের পর ব্যথা—এই অনুভূতি কি যিনি সামনে আছেন তিনি কোন লিঙ্গের তার ওপরও নির্ভর করে? সুইডেনের লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় উঠে এসেছে এমনই এক চমকপ্রদ তথ্য।
গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষরা যখন কোনো নারী গবেষক বা চিকিৎসকের মুখোমুখি হন, তখন তাদের শারীরিক ব্যথা কিছুটা কম অনুভূত হয়।
লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষক এবং অ্যানেস্থেসিওলজি অ্যান্ড ইন্টেনসিভ কেয়ারের কনসালট্যান্ট আনা স্লেগ্রেন এংস্কভ এই গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন।
গবেষণার নেপথ্য কাহিনি
গবেষণাটির শুরুটা হয়েছিল কিছুটা আকস্মিকভাবেই। প্রথম ধাপে সুস্থ কিছু স্বেচ্ছাসেবকের পায়ে ছোট লেজার পালস দিয়ে ব্যথা সৃষ্টি করা হয়েছিল। তখনই গবেষকরা লক্ষ্য করেন, একজন পুরুষ স্বেচ্ছাসেবককে যখন নারী গবেষক ব্যথা দিচ্ছেন, তখন একই মাত্রার ব্যথা বোঝাতে পুরুষ গবেষকের তুলনার অনেক বেশি শক্তিশালী লেজার পালস প্রয়োগ করতে হচ্ছে।
এই ফল থেকেই গবেষকদের মাথায় জেন্ডারভিত্তিক এই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত খতিয়ে দেখার কৌতূহল জাগে।
ফলাফলটি সঠিকভাবে যাচাই করতে গবেষকরা একটি সুনির্দিষ্ট এবং নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষা চালান।
স্বেচ্ছাসেবকদের হাতে একটি ছোট্ট ডিভাইস দেওয়া হয়, যা থেকে ধীরে ধীরে হালকা বৈদ্যুতিক কারেন্ট প্রবাহিত হতে থাকে। ব্যথা অনুভব করলেই স্বেচ্ছাসেবকদের বোতামটি ছেড়ে দিতে বলা হয়।
পরীক্ষার নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে নারী ও পুরুষ—উভয় পরীক্ষকই একই ধরনের সাধারণ পোশাক পরেছিলেন এবং আগে থেকে ঠিক করে রাখা স্ক্রিপ্ট বা নির্দিষ্ট নির্দেশনা অনুসরণ করেছিলেন, যাতে অন্য কোনো বাহ্যিক কারণে ফলাফলে প্রভাব না পড়ে।
এই পরীক্ষায় দেখা যায়, নারী পরীক্ষকের সামনে থাকা অবস্থায় একই পরিমাণ ব্যথা অনুভব করাতে আগের চেয়ে অনেক বেশি মাত্রার উদ্দীপনা বা কারেন্টের প্রয়োজন হয়েছে।
রোগীদের ওপর পরীক্ষা
ল্যাবরেটরির এই ফল বাস্তবে কতটা কার্যকর, তা দেখতে স্ক্যান ইউনিভার্সিটি হসপিটালের তিনটি পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডের ২৪৫ জন সার্জারি রোগীর ওপর একটি জরিপ চালানো হয়। অস্ত্রোপচারের পরপরই একজন নারী ও একজন পুরুষ গবেষক রোগীদের কাছে তাদের ব্যথার অবস্থা জানতে চান।
সেখানে দেখা যায়, নারীদের ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য না থাকলেও পুরুষ রোগীরা নারী চিকিৎসকের কাছে ব্যথা প্রকাশের সময় তুলনামূলক কম ব্যথা অনুভব করার কথা জানান। বিশেষ করে যখন ব্যথা তীব্র আকার ধারণ করত এবং রোগীরা ব্যথানাশক ওষুধের দাবি করতেন, তখন এই ব্যবধানটি সবচেয়ে বেশি স্পষ্ট হতো।
কেন এমন হয়?
গবেষকদের মতে, নারীদের মধ্যে সহজাত সহমর্মিতা বা সমবেদনা প্রকাশের ক্ষমতা তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে। যেমন—চোখে চোখ রেখে কথা বলা কিংবা মৃদু হাসির মতো নীরব যোগাযোগমাধ্যম এক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এটিই একমাত্র কারণ কিনা, তা নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
গবেষণার প্রধান তত্ত্বাবধায়ক ও সিনিয়র ফিজিশিয়ান অধ্যাপক জোনাস ওকেসন মনে করেন, ব্যথা মূল্যায়নের সময় লিঙ্গভিত্তিক এই দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনা করা হলে ভবিষ্যতে রোগীদের আরও উন্নত ও নিখুঁত সেবা প্রদান করা সম্ভব হবে।
সূত্র: লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট

