টেস্টোস্টেরনের স্বাভাবিক মাত্রা বজায় রাখতে সহায়ক যেসব খাবার
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:০২ পিএম
সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
টেস্টোস্টেরনকে সাধারণত পুরুষদের হরমোন হিসেবে বিবেচনা করা হলেও নারীদের শরীরেও এই হরমোন নির্দিষ্ট মাত্রায় থাকে। নারী ও পুরুষ উভয়ের শরীরেই হাড়ের সুস্থতা, যৌন আকাঙ্ক্ষা এবং বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রমের জন্য টেস্টোস্টেরন গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে এই হরমোনের মাত্রা কমে গেলে হাড়ের স্বাস্থ্য দুর্বল হওয়া, যৌন আগ্রহ কমে যাওয়া এবং নারীদের ক্ষেত্রে মাসিক চক্রে অনিয়ম দেখা দিতে পারে।
স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট ‘ইট দিস, নট দ্যাট’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বিভিন্ন কারণে পরিবর্তিত হতে পারে। স্থূলতা, নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের ব্যবহার এবং থাইরয়েডের কার্যকারিতার সমস্যা এর অন্যতম কারণ। পাশাপাশি দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসও শরীরের এই হরমোনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
কিছু খাবার সরাসরি টেস্টোস্টেরন বাড়ায় না। তবে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে হরমোনের স্বাভাবিক মাত্রা বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও অস্বাস্থ্যকর খাবার এড়িয়ে প্রদাহরোধী পুষ্টিকর খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা উপকারী।
টেস্টোস্টেরনের স্বাভাবিক মাত্রা বজায় রাখতে সহায়ক কয়েকটি খাবার হলো—
১. কুমড়ার বীজ
কুমড়ার বীজ জিংকের ভালো প্রাকৃতিক উৎস। শরীরে টেস্টোস্টেরন তৈরির স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় জিংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের ওয়েন স্টেট ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, জিংকের ঘাটতিতে ভোগা বয়স্ক ব্যক্তিদের ছয় মাস জিংক সাপ্লিমেন্ট দেওয়ার পর তাদের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা দ্বিগুণ হয়েছিল।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের এক্সারসাইজ অ্যান্ড স্পোর্ট নিউট্রিশন ল্যাবের গবেষণায় দেখা যায়, আট সপ্তাহ ধরে রাতে জিংক সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা কলেজ ফুটবল খেলোয়াড়দের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ও পায়ের শক্তি বৃদ্ধি পেয়েছিল।
২. আদা
রান্নায় বহুল ব্যবহৃত আদাও টেস্টোস্টেরনের স্বাভাবিক মাত্রা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে। এতে রয়েছে জিংকসহ বিভিন্ন উপকারী উপাদান।
আদা শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এনজাইমের কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়তা করে। পাশাপাশি রক্তে শর্করার ভারসাম্য বজায় রাখা, নাইট্রিক অক্সাইড উৎপাদন এবং রক্তপ্রবাহ উন্নত করার ক্ষেত্রেও এর ভূমিকা রয়েছে। এসব প্রক্রিয়া হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
৩. ডালিমের রস
ডালিম পলিফেনল নামের প্রাকৃতিক উদ্ভিজ্জ অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ। এসব উপাদান শরীরের অক্সিডেটিভ চাপ কমাতে সহায়তা করে।
বিভিন্ন গবেষণায় ডালিমের রস গ্রহণের সঙ্গে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বৃদ্ধির সম্ভাব্য সম্পর্ক পাওয়া গেছে। পাশাপাশি এটি সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী হতে পারে।
৪. দুধ
দুধ শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের উৎস। এতে থাকা ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ও অন্যান্য খনিজ উপাদানের পাশাপাশি রয়েছে বোরন নামের একটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ।
ইসরাইলের আরিয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, বোরন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের সঙ্গে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বৃদ্ধির সম্পর্ক থাকতে পারে। যারা দুধের চর্বি এড়িয়ে চলতে চান, তারা রান্না করা মটর, আলুবোখারা, আলু ও বিভিন্ন শাকসবজি থেকেও বোরন পেতে পারেন।
৫. স্যামন মাছ
টেস্টোস্টেরনের স্বাভাবিক মাত্রা বজায় রাখতে স্যামন মাছও খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। এতে রয়েছে ভিটামিন ডি, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং সেলেনিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান।
ব্রাজিলের নর্থ ফ্লুমিনেন্স স্টেট ইউনিভার্সিটি এবং ইতালির ইউনিভার্সিটি অব পাডুয়ার যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, ৯০ দিন স্যামন মাছের তেল সাপ্লিমেন্ট হিসেবে গ্রহণকারী পুরুষদের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছিল।
সুস্থ হরমোনের জন্য সুষম খাদ্যাভ্যাস জরুরি
শরীরে টেস্টোস্টেরনের স্বাভাবিক মাত্রা বজায় রাখতে শুধু নির্দিষ্ট কয়েকটি খাবারের ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়। সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনও গুরুত্বপূর্ণ।
তবে টেস্টোস্টেরন কমে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দিলে নিজে থেকে কোনো হরমোন বা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ হরমোনের মাত্রা কমে যাওয়ার পেছনে একাধিক শারীরিক কারণ থাকতে পারে।

-6af0659b627be.jpg)