শরীরের যে পরিবর্তনে অজান্তেই বাড়ে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:১১ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শরীরের পেশি শুধু চলাফেরা, হাঁটাচলা কিংবা ভারী কাজ করার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও পেশির বড় ভূমিকা রয়েছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিংবা দীর্ঘদিন শারীরিক পরিশ্রম ও ব্যায়াম না করার কারণে ধীরে ধীরে পেশির পরিমাণ কমতে পারে। বাইরে থেকে শরীরের ওজন বা গড়ন স্বাভাবিক মনে হলেও শরীরে এই পরিবর্তন ঘটতে পারে। আর পেশি কমে যাওয়ার প্রভাব পড়তে পারে বিপাকীয় স্বাস্থ্যে। বাড়তে পারে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পেশি শরীরের গ্লুকোজ ব্যবহারের অন্যতম প্রধান স্থান। খাবার খাওয়ার পর শর্করা ভেঙে গ্লুকোজ তৈরি হয় এবং তা রক্তে প্রবেশ করে। ইনসুলিন এই গ্লুকোজকে শরীরের কোষে পৌঁছাতে সাহায্য করে। কোষ তখন গ্লুকোজ শক্তি হিসেবে ব্যবহার করে অথবা ভবিষ্যতের জন্য জমা রাখে। কিন্তু পেশির পরিমাণ কমে গেলে রক্ত থেকে গ্লুকোজ গ্রহণ ও ব্যবহারের সক্ষমতাও কমতে পারে।
গবেষণায় যা পাওয়া গেছে
পেশির পরিমাণ কমে যাওয়া ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকির মধ্যে সম্পর্কের বিষয়টি বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। ‘ডায়াবেটিস অ্যান্ড মেটাবলিজম জার্নাল’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় মধ্যবয়সি ও বয়স্ক কোরীয়দের গড় ৯ দশমিক ০৬ বছর পর্যবেক্ষণ করা হয়। এতে ১ হাজার ৩৩৬ জনের টাইপ-২ ডায়াবেটিস শনাক্ত হয়।
গবেষণায় দেখা যায়, যাদের পেশির পরিমাণ সবচেয়ে কম, তাদের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি পেশির অধিকারীদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। শরীরের চর্বি ও কোমরের পরিধির মতো বিষয় বিবেচনায় নেওয়ার পরও এ সম্পর্ক পাওয়া যায়।
এ ছাড়া ২ লাখ ৩ হাজার ৭৬৭ জন প্রাপ্তবয়স্ককে নিয়ে করা আরেকটি বড় গবেষণাতেও একই ধরনের ফল পাওয়া গেছে। এতে নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই পেশির পরিমাণ কম থাকলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেশি দেখা গেছে।
পেশি কমলে রক্তে শর্করা বাড়ে কেন?
শরীরের মোট ইনসুলিননির্ভর গ্লুকোজ ব্যবহারের প্রায় ৮০ শতাংশই কঙ্কালপেশির মাধ্যমে হয়ে থাকে। ফলে পেশির পরিমাণ কমে গেলে গ্লুকোজ গ্রহণ ও ব্যবহারের সক্ষমতা কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে পেশির কোষ ইনসুলিনের প্রতি কম সংবেদনশীল হয়ে পড়লে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ আরও কঠিন হয়। এ অবস্থাকে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বলা হয়।
অজান্তেই কমতে পারে পেশি
বয়স বৃদ্ধি, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকা কিংবা পর্যাপ্ত পুষ্টির অভাবে ধীরে ধীরে পেশির পরিমাণ কমতে পারে। সিঁড়ি দিয়ে ওঠা, বাজারের ব্যাগ বহন করা কিংবা চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ানোর মতো স্বাভাবিক কাজও কঠিন মনে হতে পারে। তবে শুধু শরীরের ওজন দেখে পেশির পরিমাণ কমছে কি না, তা বোঝা সম্ভব নয়। এমনকি শরীর পাতলা হলেও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি থাকতে পারে।
পেশি ধরে রাখতে করণীয়
পেশির শক্তি ও পরিমাণ বজায় রাখতে নিয়মিত শক্তিবর্ধক ব্যায়াম করা জরুরি। স্কোয়াট, রেজিস্ট্যান্স ব্যান্ডের ব্যায়াম, ওজন নিয়ে ব্যায়াম এবং নিজের সক্ষমতা অনুযায়ী পুশ-আপ করা যেতে পারে। পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটা ও শারীরিক পরিশ্রম বিপাকীয় স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে।
আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশনের ২০২৬ সালের চিকিৎসা নির্দেশিকায় প্রাপ্তবয়স্ক ডায়াবেটিস রোগীদের সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি থেকে তীব্র মাত্রার শারীরিক কর্মকাণ্ড এবং সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন শক্তিবর্ধক ব্যায়ামের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে শক্তিবর্ধক ব্যায়ামের দিনগুলো পরপর না রাখার কথা বলা হয়েছে।
পেশি সুস্থ রাখতে খাবারেও পর্যাপ্ত প্রোটিন থাকা প্রয়োজন। ডিম, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, ডাল, সয়াবিন, মাছ এবং চর্বিহীন মাংস প্রোটিনের ভালো উৎস। নিয়মিত শক্তিবর্ধক ব্যায়ামের পাশাপাশি পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণ পেশি গঠন, রক্ষণাবেক্ষণ ও ক্ষয়পূরণে সহায়তা করে।
তবে পেশি কমে গেলেই যে কারও ডায়াবেটিস হবে, এমন নয়। বয়স, বংশগত বৈশিষ্ট্য, শরীরে চর্বির পরিমাণ, খাদ্যাভ্যাসসহ বিভিন্ন বিষয় এ ঝুঁকিকে প্রভাবিত করে। তাই সুস্থ থাকতে শুধু ওজন নিয়ন্ত্রণ নয়, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পেশির শক্তি ও পরিমাণ ধরে রাখার দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

-6af0659b627be.jpg)
-6af0582c575ef.jpg)