সরকার গঠনে মরিয়া নেতানিয়াহু-আইজেনকোট, চলছে নানা সমীকরণ
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোট।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচনে কোনো পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় নতুন সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার প্রতিদ্বন্দ্বীরা পরবর্তী সরকার গঠনের লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে নানা কৌশল নিয়ে আলোচনা করেছেন। নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলের পর দীর্ঘ সময় ধরে জোট গঠনের আলোচনা চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ভোটের ফলে দেখা গেছে, নেতানিয়াহু ও তার মিত্ররা পেয়েছেন ৫৩টি আসন। অন্যদিকে জায়নবাদী বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। ইসরাইলের ১২০ আসনের পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। ফলে কোনো পক্ষই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। বাকি ১৯টি আসন পেয়েছে আরব দলগুলো।
এ অবস্থায় পরস্পরের সঙ্গে কিংবা আরব দলগুলোর সঙ্গে কাজ করতে রাজি না হলে কোনো পক্ষের জন্যই সরকার গঠনের সুস্পষ্ট পথ নেই। তবে এমন যেকোনো সমঝোতার জন্য নির্বাচনের আগে ভোটারদের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসতে হবে দলগুলোকে।
হিব্রু ভাষার সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যায় নেতানিয়াহু তার উগ্র ডানপন্থি জোটসঙ্গী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ও অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের সঙ্গে কথা বলেছেন। এ সময় ডানপন্থি ও অর্থোডক্স দলগুলোর জোট ঐক্যবদ্ধ রাখার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
সরকারপন্থি চ্যানেল ১৪ নেতানিয়াহুর বক্তব্য উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, তিনি উগ্র ডানপন্থি মিত্রদের বলেছেন, ‘আমরা একসঙ্গে আছি এবং একসঙ্গেই থাকব।’
এদিকে বিশ্লেষকদের মধ্যে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। এমন সরকার গঠিত হলে লিকুদ পার্টির নেতা নেতানিয়াহু তার বর্তমান জোটসঙ্গীদের ছেড়ে গাদি আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টিসহ অন্য দলগুলোর সঙ্গে জোট করতে পারেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর অর্থোডক্স দল ইউনাইটেড তোরাহ জুদাইজম ও শাসের নেতাদের সঙ্গেও কথা বলার কথা রয়েছে।
অন্যদিকে নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোট বলেছেন, নির্বাচনের ফলাফল বর্তমান সরকারের প্রতি জনগণের অনাস্থার প্রতিফলন। পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন থেকে তাদের জোট আরও দূরে থাকলেও সরকার পরিবর্তনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আইজেনকোট লেখেন, ‘এটি জনগণের ইচ্ছা। ৭ অক্টোবরের সরকার, বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ এড়িয়ে যাওয়া এবং সামগ্রিকভাবে সামরিক বাহিনীতে যোগদান এড়ানো ব্যক্তিদের জোটের প্রতি জনগণ অনাস্থা প্রকাশ করেছে।’
অর্থোডক্স দলগুলোর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নেতানিয়াহু ও তার মিত্ররা ইয়েশিভা শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ থেকে অব্যাহতি দিতে আইন প্রণয়নের চেষ্টা করছেন। এ প্রসঙ্গেই তিনি এমন মন্তব্য করেন।
দীর্ঘ দিনের বৈঠক শেষে আইজেনকোট আরও লেখেন, ‘সামনে আমাদের আরও দীর্ঘ কর্মব্যস্ত দিন রয়েছে। তবে ইসরাইলে পরিবর্তন আনা এবং সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ একটি জায়নবাদী সরকার প্রতিষ্ঠার গুরুদায়িত্ব পালনে আমরা মনোযোগী।’
সামনে থাকা বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলারও অঙ্গীকার করেন তিনি।
বামপন্থি দল দ্য ডেমোক্র্যাটসের প্রধান ইয়ার গোলান জানিয়েছেন, সরকার গঠনের বিষয়ে আলোচনার জন্য বুধবারের পরবর্তী সময়ে এবং আগামী কয়েক দিনে তিনটি দলের নেতার সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। তাদের মধ্যে রয়েছেন আইজেনকোট এবং বি'ইয়াখাদের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা ইয়ার লাপিদ।
ইয়াশার, বি’ইয়াখাদ ও দ্য ডেমোক্র্যাটসের পাশাপাশি জায়নবাদী বিরোধী জোটে রয়েছে আভিগদর লিবারম্যানের কট্টর অবস্থানের দল ইসরাইল বেইতেনু। তবে এসব দলের মধ্যে একসঙ্গে সরকার পরিচালনার বিষয়ে এখনো সমঝোতা হয়নি। ডেমোক্র্যাটস ছাড়া অন্য দলগুলো আরব দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনের সম্ভাবনাও নাকচ করে দিয়েছে।
নির্বাচনের পর প্রথম সাক্ষাৎকারে বুধবার লিবারম্যানের সঙ্গে বৈঠক হবে কি না, জানতে চাইলে গোলান নির্দিষ্ট কারও নাম বলতে রাজি হননি।
চ্যানেল ১২-কে তিনি বলেন, ‘রোববারের মধ্যে তাদের সবার সঙ্গে বৈঠক করতে পারব বলে আশা করছি।’ অন্য নেতাদের বোঝানোর চেষ্টা করবেন বলেও জানান তিনি। তার ভাষায়, তাদের সবার একটি অভিন্ন লক্ষ্য রয়েছে, আর তা হলো ‘ইসরাইলের জনগণের মধ্যে আশার সঞ্চার করা।’
গোলান বলেন, নিরাপত্তা উদ্বেগ মোকাবিলা, বর্তমান সরকারের বিচার বিভাগ সংস্কারসংক্রান্ত আইন বন্ধ করা এবং তরুণদের মধ্যে আশার সঞ্চার করতে সরকার গঠন জরুরি। তিনি বলেন, তরুণরা এখন প্রশ্ন তুলছে, তারা আদৌ এ দেশে থাকতে চায় কি না।
তবে গোলানের এই পরিকল্পনায় বিরোধী জোটের অন্য নেতারা কতটা একমত, তা এখনো স্পষ্ট নয়। চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, লিবারম্যান বিরোধী জোটের অন্য নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ প্রায় বন্ধ করে দিয়েছেন। যদিও তাদের নির্বাচনি প্রচার দলের মধ্যে কিছু যোগাযোগ রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইজেনকোট কিংবা বি’ইয়াখাদের প্রধান নাফতালি বেনেটের ফোনও ধরছেন না লিবারম্যান। নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকারে যোগ না দেওয়া কিংবা আরব দলগুলোর সমর্থননির্ভর সংখ্যালঘু সরকারকে সমর্থন না করার বিষয়ে নিজের আগের অবস্থানেই অনড় রয়েছেন ইসরাইল বেইতেনুর এ নেতা।
নেসেটের স্পিকার পরিবর্তনের উদ্যোগ
এদিকে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কান জানিয়েছে, সরকার গঠনের আলোচনা শুরুর আগেই নেসেটে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে স্পিকার আমির ওহানাকে সরিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদকে ওই পদে বসানোর বিষয়টি বিবেচনা করছেন বিরোধীরা।
ওহানার পরিবর্তে লাপিদ স্পিকার হলে নেতানিয়াহুবিরোধী জোট ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলা ঘিরে ব্যর্থতা তদন্তে রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের উদ্যোগ নিতে পারবে। পাশাপাশি বর্তমান সরকারের বিচার বিভাগ সংস্কারসংক্রান্ত আইনগুলো বাতিলের পথও তৈরি হতে পারে।
নেসেটের স্পিকার পদে বিবেচনায় থাকা অন্যদের মধ্যে রয়েছেন ইসরাইল বেইতেনুর সংসদ সদস্য ওদেদ ফোরার, ইয়াশার পার্টির এলাজার স্টার্ন ও ওরিত ফারকাশ-কোহেন এবং ডেমোক্র্যাটসের এফরাত রেইটেন। সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল


