Logo
Logo
×

Advertisement

জাতীয়

মৃত্যুবার্ষিকীতে আবদুল হাই শিকদার

মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামকে রাষ্ট্রীয় সম্মান দিন

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৮ পিএম

মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামকে রাষ্ট্রীয় সম্মান দিন

বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন যুগান্তর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার।

Advertisement

স্বাধীনতা যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশে বহু শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির কারিগর সফল শিল্প উদ্যোক্তা যমুনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের মতো গুণীকে মরণোত্তর রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানোর দাবি করেছেন যুগান্তর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার।

তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে একুশে পদক আছে, স্বাধীনতা পদক আছে। কিন্তু আমার কাছে অবাক লাগে, যিনি রণাঙ্গনে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন, স্বাধীনতার পর পর প্রায় অর্ধশত শিল্প প্রতিষ্ঠান তৈরি করে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান করেছেন, যিনি অর্থনৈতিকভাবে দেশের মেরুদণ্ড শক্ত করেছেন, তাকে এ ধরণের রাষ্ট্রীয় পদক কেন দেওয়া হলো না। আমি রাষ্ট্রকে বলব নুরুল ইসলাম বাবুলের মতো গুণীকে সম্মান করেন। 

 বীর মুক্তিযোদ্ধা ও যমুনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার দুপুরে যমুনা টেলিভিশন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত দোয়া অনুষ্ঠান ও স্মরণসভায় যুগান্তর সম্পাদক এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও যুগান্তর প্রকাশক অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম।

আবদুল হাই শিকদার বলেন, রবীন্দ্রনাথের কোনো এক জন্মদিনে শরৎ চন্দ্রকে মানপত্র লিখতে বলা হয়েছিল। তিনি এক সপ্তাহ গবেষণার পর একলাইনে লিখেছিলেন ‘কবিগুরু তোমার দিকে চাহিয়া আমাদের বিস্ময়ের সীমা নেই।’ তার এই এক লাইনের মানপত্রের অর্থ কত গভীর ছিল। আমিও সেভাবে বলছি, নুরুল ইসলামের দিকে তাকিয়ে আমার বিস্ময়ের সীমা নেই। তিনি অসাধারণ এবং অনন্য। বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য যারা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছিলেন, তিনি তাদেরই একজন। 

নুরুল ইসলামের সংগ্রামী জীবন প্রসঙ্গে যুগান্তর সম্পাদক বলেন, মুক্তিযুদ্ধ করে তিনি ক্ষ্যান্ত হলেও তার নাম ইতিহাসে লেখা থাকতো। কিন্তু নুরুল ইসলাম তা করেননি। দেশের দারিদ্র বিমোচন এবং বেকারত্ব দূরীকরণের চিন্তা ওইসময়ে তাকে ঘুমাতে দেয়নি। মানুষের কর্মসংস্থানের জন্য তিনি একে একে শিল্প প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছেন। গড়ে তুলেছেন যমুনা গ্রুপের মতো বিশাল শিল্প সাম্রাজ্য। 

আবদুল হাই শিকদার বলেন, ‘আমি অবাক হই, মাত্র ৭৪ বছরের জীবন। এরমধ্যে অর্ধেক সময় চলে গেছে রনাঙ্গনে। বাকি সময়ের মধ্যে এতকিছু করলেন কীভাবে। এটি আমার জন্য বিস্ময়ের। মনীষী আবুল ফজল একুশে ফেব্রুয়ারি নিয়ে লিখেছেন ‘একুশ মানে মাথা নত না করা।’ একইভাবে আমারও বলতে হয় ‘নুরুল ইসলাম মানে মাথা নত না করা।’ 

আবদুল হাই শিকদার বলেন, বাংলাদেশ এমন একটি জায়গা যেখানে ভিন্নমত একেবারে সহ্য করা হয় না। বিশেষ করে গত ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের যাতাকলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা তো ছিলই না। এ রকম একটি দেশে বিশাল প্রতাপশালী শাসকদের সামনে দাঁড়িয়ে নুরুল ইসলাম বলতেন আমার পত্রিকা ও টেলিভিশন কারো কাছে মাথা নত করে না। তার এই শিক্ষা যুগান্তর ও যমুনা টেলিভিশন প্রতিষ্ঠান দুটিকে আলোকিত করেছে। যেমন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যমুনা টেলিভিশন যে অবদান রেখেছে, তা বাংলাদেশের মানুষ কোনোদিন ভুলতে পারবে না। যমুনা টেলিভিশনের কারণে আবু সাঈদের বুকে গুলি লাগার দৃশ্য আমরা দেখতে পেয়েছি। এ কারণে যমুনা টিভির প্রতি আমাদের ঋণের শেষ নেই।  

আবদুল হাই শিকদার আরও বলেন, বাংলাদেশে অনেক শিল্পপতি আছেন, যারা ঋণ খেলাপি, টাকা পাচারসহ হেন কোনো অন্যায় নেই, যা তারা করেননি। কিন্তু নুরুল ইসলামের দিকে তাকান, যার হাতে কোনো পাপ বা অন্যায়ের দাগ নেই। যা করেছেন নিজের মেধা ও পরিশ্রম দিয়ে করেছেন। নুরুল ইসলাম যেই আলো আমাদেরকে দেখিয়েছেন, সেই আলোরপথের যাত্রী আমরা। তার চেতনা ধারণ করে রেখে যাওয়া কাজগুলো করতে পারলেই নুরুল ইসলামকে স্মরণ করা হবে। 

যমুনা গ্রুপের গ্রুপ পরিচালক মনিকা নাজনীন ইসলাম, গ্রুপ পরিচালক এসএম আবদুল ওয়াদুদ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। 

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন- যুগান্তরের সাবেক সম্পাদক সাইফুল আলম, যমুনা টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফাহিম আহমেদ, যুগান্তরের নির্বাহী সম্পাদক এনাম আবেদীন, যুগ্ম সম্পাদক বিএম জাহাঙ্গীর এবং যমুনা টেলিভিশনের হেড অব নিউজ তৌহিদুল ইসলাম। 

উপস্থিত ছিলেন— যুগান্তরের ডেপুটি এডিটর আসিফ রশীদ, বার্তা সম্পাদক জোহায়ের ইবনে কলিম, নগর সম্পাদক মিজান মালিক, সম্পাদকীয় ও ফিচার বিভাগের প্রধান হাসান শরীফ, যুগ্ম বার্তা সম্পাদক (মফস্বর ইনচার্জ) নাঈমুল কবির, যুগ্ম বার্তা সম্পাদক (অনলাইন ইনচার্জ) আতাউর রহমান, বিশেষ প্রতিনিধি সিরাজুল ইসলাম, কাজী জেবেল ও শাহেদ সিদ্দিকী, সহযোগী সম্পাদক মাহবুব কামাল, সহকারী সম্পাদক জুন্নু রাইন, ফিচার ইনচার্জ সেলিম কামাল, মাল্টিমিডিয়া ইনচার্জ অমিত হাসান রবিন প্রমুখ। 

আলোচনাসভা শেষে দোয়া পরিচালনা করেন যুগান্তরের সহ-সম্পাদক মুফতি মাওলানা তোফায়েল গাজালি।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

জাগরিত চোখে স্বপ্ন দেখার নামই জীবন: কবি আবদুল হাই শিকদার

মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীনবরণ জাগরিত চোখে স্বপ্ন দেখার নামই জীবন: কবি আবদুল হাই শিকদার

জুলাইয়ের শক্তি বিভক্ত হয়ে গেলে ভারত আসল কার্ড খেলবে: আবদুল হাই শিকদার

জুলাইয়ের শক্তি বিভক্ত হয়ে গেলে ভারত আসল কার্ড খেলবে: আবদুল হাই শিকদার

ঐতিহ্য প্রকাশ করবে কবি ও সম্পাদক ‘আবদুল হাই শিকদার-রচনাবলী’

ঐতিহ্য প্রকাশ করবে কবি ও সম্পাদক ‘আবদুল হাই শিকদার-রচনাবলী’

দেহের সঙ্গে আত্মার যে সম্পর্ক, নজরুলের সঙ্গে বাংলাদেশের সেই সম্পর্ক

আবদুল হাই শিকদার দেহের সঙ্গে আত্মার যে সম্পর্ক, নজরুলের সঙ্গে বাংলাদেশের সেই সম্পর্ক

বাংলাদেশের ইতিহাসে জিয়ার সমকক্ষ কোনো রাষ্ট্রনায়ক আসেননি: আবদুল হাই শিকদার

বাংলাদেশের ইতিহাসে জিয়ার সমকক্ষ কোনো রাষ্ট্রনায়ক আসেননি: আবদুল হাই শিকদার

নজরুল পদক পেলেন আবদুল হাই শিকদার ও শবনম মুশতারী

নজরুল পদক পেলেন আবদুল হাই শিকদার ও শবনম মুশতারী

আরও পড়ুন

ইতালি পাঠানোর কথা বলে লিবিয়ায় পাচার, গ্রেফতার ২

ইতালি পাঠানোর কথা বলে লিবিয়ায় পাচার, গ্রেফতার ২

প্রধান শিক্ষক নিয়োগের রায় স্থগিত

প্রধান শিক্ষক নিয়োগের রায় স্থগিত

আ.লীগের সঙ্গে মীমাংসার প্রশ্নে যা বললেন উপদেষ্টা জাহেদ

আ.লীগের সঙ্গে মীমাংসার প্রশ্নে যা বললেন উপদেষ্টা জাহেদ

‘ফ্যামিলি কার্ড’ নিয়ে যা বলল বিশ্বব্যাংক

‘ফ্যামিলি কার্ড’ নিয়ে যা বলল বিশ্বব্যাংক

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম