৫১তম বিশেষ বিসিএসে যেভাবে আবেদন করবেন
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৩ এএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
৫১তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষার অনলাইন আবেদন, আবেদন ফি পরিশোধ ও প্রবেশপত্র সংগ্রহের প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (বিপিএসসি)। বিপিএসসির নির্ধারিত ওয়েবসাইটের পাশাপাশি টেলিটকের ওয়েবসাইটেও এসব নির্দেশনা পাওয়া যাচ্ছে।
আবেদন প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের তদবির করলে তা প্রার্থীর অযোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে। সাধারণ প্রার্থীদের জন্য আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ২০৫ টাকা।
নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদন করতে প্রথমে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে অনলাইন আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। প্রার্থীর পরিচয় ও শিক্ষাগত তথ্য যাচাইয়ের জন্য এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার রোল ও নিবন্ধন নম্বর, শিক্ষা বোর্ড এবং পাসের সাল দিতে হবে। এসব তথ্য শিক্ষা বোর্ডের ডাটাবেসের সঙ্গে মিলিয়ে প্রার্থীর নাম, বাবা-মায়ের নামসহ অন্যান্য তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফরমে যুক্ত হবে। একবার যুক্ত হওয়ার পর এসব তথ্য আর পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে না।
অনলাইন আবেদন ফরমটি মূলত তিনটি অংশে বিভক্ত—ব্যক্তিগত তথ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং ক্যাডার পছন্দ। ব্যক্তিগত তথ্যের অংশে জন্মতারিখ, লিঙ্গ, বর্তমান চাকরির অবস্থা, কোটা, বৈবাহিক অবস্থা, জাতীয়তা, জাতীয় পরিচয়পত্র/জন্মনিবন্ধন/পাসপোর্ট নম্বরসহ উচ্চতা, ওজন ও বুকের মাপ উল্লেখ করতে হবে। আবেদনকারীর জাতীয়তা অবশ্যই বাংলাদেশি হতে হবে।
শারীরিক যোগ্যতার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে। পুরুষ প্রার্থীর ন্যূনতম উচ্চতা হতে হবে ১৫২ দশমিক ৪০ সেন্টিমিটার এবং ওজন ৪৮ দশমিক ৯৯ কেজি। নারী প্রার্থীর ক্ষেত্রে ন্যূনতম উচ্চতা ১৪৭ দশমিক ৩২ সেন্টিমিটার এবং ওজন ৪০ দশমিক ৮২ কেজি নির্ধারণ করা হয়েছে।
শিক্ষাগত যোগ্যতার অংশে এইচএসসি ও স্নাতক পর্যায়ের প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে। ৫১তম বিশেষ বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে নিয়োগের জন্য আয়োজন করা হচ্ছে। এতে দুটি পদে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে—বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের সহকারী সার্জন (ক্যাডার কোড ৪১০) এবং সহকারী ডেন্টাল সার্জন (ক্যাডার কোড ৪৫০)। প্রার্থীদের এমবিবিএস বা বিডিএস ডিগ্রির বিষয় ও সংশ্লিষ্ট কোড অনুযায়ী তথ্য পূরণ করতে হবে। জিপিএ বা বিভাগ উল্লেখের ক্ষেত্রে সরকারি প্রজ্ঞাপনে দেওয়া নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।
ফরমের সব তথ্য পূরণ করার পর ‘অ্যাপ্লিকেশন প্রিভিউ’ দেখে আবেদনপত্র যাচাই করা যাবে। এ পর্যায়ে কোনো ভুল ধরা পড়লে তা সংশোধনের সুযোগ থাকবে। তবে আবেদন ফি পরিশোধের পর ফরমে কোনো ধরনের পরিবর্তন বা সংশোধন করা যাবে না।
তথ্য যাচাই ও চূড়ান্ত করার পর নির্ধারিত নিয়মে ছবি ও স্বাক্ষর আপলোড করতে হবে। ছবির আকার ৩০০×৩০০ পিক্সেল এবং সর্বোচ্চ ১০০ কিলোবাইট হতে হবে। ছবিটি অবশ্যই রঙিন এবং তিন মাসের মধ্যে তোলা হতে হবে। অন্যদিকে স্বাক্ষরের মাপ ৩০০×৮০ পিক্সেল এবং ফাইলের আকার সর্বোচ্চ ৬০ কিলোবাইট হতে হবে।
আবেদন সফলভাবে জমা দেওয়ার পর ছবি ও স্বাক্ষরসহ একটি আবেদনকারীর কপি পাওয়া যাবে। সেখানে একটি ইউজার আইডি থাকবে। পরবর্তী প্রয়োজনের জন্য কপিটি প্রিন্ট করে বা সংরক্ষণ করে রাখতে হবে।
যেভাবে দিতে হবে আবেদন ফি
আবেদন ফি পরিশোধের জন্য টেলিটকের প্রিপেইড নম্বর থেকে নির্ধারিত নিয়মে দুটি এসএমএস পাঠাতে হবে। সাধারণ প্রার্থীদের মূল আবেদন ফি ২০০ টাকা। এর সঙ্গে শিক্ষা বোর্ডের তথ্য যাচাইয়ের চার্জ ও ভ্যাট যুক্ত হয়ে মোট ২০৫ টাকা দিতে হবে।
অন্যদিকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীদের আবেদন ফি ৫০ টাকা। যাচাই চার্জসহ তাদের মোট ৫৫ টাকা পরিশোধ করতে হবে।
ফি পরিশোধের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে প্রার্থীকে একটি পাসওয়ার্ড দেওয়া হবে। এই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেই পরবর্তী সময়ে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করতে হবে। পাসওয়ার্ড হারিয়ে গেলে এসএমএসের মাধ্যমে তা পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
অনলাইনে আবেদন করার সময় কোনো ধরনের সমস্যায় পড়লে টেলিটক নম্বর থেকে ১২১-এ কল করে প্রথমে ৮ এবং পরে ১ চাপলে হেল্পলাইনের মাধ্যমে সরাসরি সহায়তা নেওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পিএসসি।
