৪৯তম বিসিএস
বাদ পড়া ৪৬ জনের নিয়োগ সোমবার
রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কেউ বৈষম্যের শিকার হবে না -স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নানা আলোচনা-সমালোচনার পর অবশেষে ৪৯তম বিসিএসের (বিশেষ) শিক্ষা ক্যাডারে চূড়ান্ত গেজেট থেকে বাদ পড়া ৪৬ জন নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন। সাময়িকভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও চূড়ান্ত গেজেটে নাম না থাকা ৪৬ জনের নিয়োগের প্রজ্ঞাপন সোমবার প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার নিজ দপ্তরে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সবাইকে নিশ্চয়তা দিচ্ছি, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কাউকে কোনো ধরনের বৈষম্যের শিকার হতে হবে না। নিয়োগপত্র ইস্যুর জন্য প্রজ্ঞাপন জারির কিছু নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। রাষ্ট্রপতি পর্যন্ত নথি উপস্থাপনের কাজ শেষ করেই সোমবার বাকি ৪৬ জনের প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ৪৯তম বিসিএসে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন কয়েক ধাপে জারি করা হয়েছে।
এদিকে বাদ পড়াদের অনেকের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় বা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে পুলিশ ভেরিফিকেশনের পর তাদের গেজেট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কারও কারও ক্ষেত্রে পরিবারের রাজনৈতিক পরিচয়ও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিয়োগের আগে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।
বুধবার ৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষা-২০২৫-এর চূড়ান্ত নিয়োগের গেজেট প্রকাশ করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এতে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের প্রবেশ পদে ৬১১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। পিএসসির চূড়ান্ত ফলে সাময়িকভাবে সুপারিশ পাওয়া প্রার্থী ছিলেন ৬৬৮ জন। ফলে প্রথম দফার প্রজ্ঞাপনে ৫৭ জনের নাম না থাকায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, বাদ পড়া ৫৭ জনের মধ্যে তিনজন প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেট জমা দিতে পারেননি এবং আটজন মেডিকেল পরীক্ষায় উপস্থিত হননি। ফলে প্রকৃতপক্ষে নিয়োগের অপেক্ষায় থাকা প্রার্থীর সংখ্যা ৪৬ জন। গত বছরের ১১ নভেম্বর ৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষা-২০২৫-এর চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। এতে সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের বিভিন্ন পদে ৬৮৩টি শূন্য পদের বিপরীতে ৬৬৮ জনকে সাময়িকভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়। পিএসসি জানিয়েছিল, যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ায় ১৫টি পদে কাউকে মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব হয়নি।
এদিকে গেজেটে নাম না থাকা প্রার্থীদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন বেলালও রয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, ৪৯তম বিসিএসে সমাজকল্যাণ বিষয়ে তিনি প্রথম হয়েছিলেন। বুধবার গেজেট প্রকাশের পর ফেসবুক পোস্টে বেলাল লেখেন, ‘৪৯তম বিসিএসে সমাজকল্যাণে ১ম হয়েও গেজেটে আমার নাম এলো না।’ জুলাইয়ের আন্দোলনে সক্রিয় থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, তার অপরাধ কী। সাময়িকভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও গেজেটে নাম না থাকা প্রার্থীদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী বুশরা জাহান ঐশীও রয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, ইংরেজি বিষয়ে তার মেধাক্রম ছিল ১৪তম। তার আগে ১৩তম এবং পরে ১৫তম মেধাক্রমের প্রার্থীর নাম গেজেটে থাকলেও তার নাম নেই। ফেসবুক পোস্টে ঐশী দাবি করেন, তিনি বা তার পরিবারের কেউ কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন এবং তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলাও নেই। কেন তাকে গেজেট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সরকারের কাছে ব্যাখ্যাও দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে চূড়ান্ত গেজেটে নাম না থাকায় ১২ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে ‘আত্মাহুতি’র ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. জসিম উদ্দিন। বুধবার রাতে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন। জসিম উদ্দিন দাবি করেন, প্রায় ১০ মাস ধরে ভেরিফিকেশন ও রিভেরিফিকেশনের পরও তাকে চূড়ান্ত গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়াকে হয়রানিমূলক বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার এ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সহপাঠী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
গেজেটের দাবি নিয়ে ডাকসুর বিক্ষোভ : ৪৯তম বিসিএসের চূড়ান্ত গেজেট থেকে প্রার্থীদের নাম বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে কর্মসূচি শুরু হয়। সেখান থেকে মিছিলটি কলাভবন ও মধুর ক্যানটিন ঘুরে ডাকসু ভবন প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
পিএসসি যা বলছে : গেজেটে নাম না থাকার বিষয়ে পিএসসির জনসংযোগ কর্মকর্তা এসএম মতিউর রহমান বলেন, পিএসসি সুপারিশকারী কর্তৃপক্ষ। নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সব ধরনের যাচাই-বাছাই শেষে মন্ত্রণালয় যোগ্য প্রার্থীকে নিয়োগ দিয়ে থাকে। নিয়োগের বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। সোমবার ৪৬ জনের নিয়োগের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ হলে ৪৯তম বিসিএসের সাময়িকভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের নিয়োগসংক্রান্ত জটিলতার একটি বড় অংশের অবসান হবে।
