রাঙামাটিতে এলপিজির তীব্র সংকট, ভোগান্তিতে চালকরা
Advertisement
রাঙামাটি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪১ পিএম
রাঙামাটি শহরের ভেদভেদী এলাকায় মা পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড এলপিজি অটোগ্যাস ফিলিং স্টেশনে গ্যাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা চালকদের দীর্ঘ অটোরিকশার সারি। ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাঙামাটিতে এলপিজির (গ্যাস) তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকরা। গ্যাসের আশায় শহরের এলপিজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়েছে।
অন্যদিকে শহরে গৃহস্থালির কাজে ব্যবহৃত প্রতিটি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৬০০ টাকায়।
জানা গেছে, শনিবার (৩ অক্টোবর) শহরের একটি এলপিজি ফিলিং স্টেশনে সীমিত পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ করা হলেও রোববার সকাল থেকে শহরের মোট চারটি ফিলিং স্টেশনের সবটিতেই সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। রাতে গ্যাস সরবরাহের আশ্বাসে ফিলিং স্টেশনগুলোর সামনে চালকদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।
রোববার বিকালে শহরের ভেদভেদী এলাকার ‘মা পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড এলপিজি অটোগ্যাস ফিলিং স্টেশনে’ গিয়ে দেখা যায়, বিপণন কেন্দ্রে তালা ঝুলছে। কথা বলার মতো সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে গ্যাস নিতে আসা অটোরিকশার লাইন প্রায় এক কিলোমিটার ছাড়িয়ে গেছে।
লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা চালকরা জানান, স্টেশন থেকে রাতে গ্যাস দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তাই তারা সকাল থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। শহরে ৪-৫ দিন ধরে এ গ্যাস সংকট চলছে।
এদিকে শহরের রাঙাপানি এলাকার ‘হাজী আব্দুল বারী মাতুব্বর অটোগ্যাস অ্যান্ড ফিলিং স্টেশনে’ গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ‘গ্যাস নাই’ লেখা নোটিশ ঝোলানো।
স্টেশনটির বিক্রয়কর্মী শিমুল চাকমা বলেন, আমাদের স্টেশনে গ্যাস মজুত আছে, তবে মেশিন নষ্ট হওয়ায় সরবরাহ দেওয়া যাচ্ছে না। নষ্ট যন্ত্রাংশ মেরামতের জন্য চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে। সেটি ঠিক হয়ে এলে রাতেই প্রতি লিটার সাড়ে ৭৩ টাকা দরে গ্যাস সরবরাহ করা হবে।
তবে চালকদের অভিযোগ, অতিরিক্ত দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হচ্ছে। মজুত থাকার পরও নানা অজুহাতে গ্যাস দেওয়া হচ্ছে না। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে শহরে অভ্যন্তরীণ গণপরিবহণের সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করবে।
সরেজমিন দেখা যায়, রোববার সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে অটোরিকশা নিয়ে চালকরা ফিলিং স্টেশনের সামনে জড়ো হন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে গ্যাস না পেয়ে অনেককেই হতাশ হয়ে ফিরে যেতে দেখা যায়।
চালকরা জানান, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকায় তাদের কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে এবং দৈনন্দিন আয়-রোজগারেও এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
