রাজী ফখরুলের ‘গ্রিন সিগন্যালেই’ মিলত টেন্ডার জমার সুযোগ
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৯ পিএম
কুমিল্লার দেবিদ্বারের সাবেক সংসদ-সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুল।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে কুমিল্লার দেবিদ্বারের সাবেক সংসদ-সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুলের বিরুদ্ধে। সাবেক বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ঘনিষ্ঠ সিন্ডিকেটের সদস্য হিসেবে কাজ করে তার সম্মতি ছাড়া ঠিকাদারদের টেন্ডার জমা দেওয়ার সুযোগ পাওয়া কঠিন ছিল বলে দাবি সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের। সরকারি প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেওয়া, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ ও তদবিরের মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি সেই অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন লাভজনক প্রকল্প ঘিরে গড়ে ওঠা একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন রাজী ফখরুল। এ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কোন ঠিকাদার কাজ পাবেন, কারা টেন্ডারে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন এবং কোন প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়া হবে—এসব ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। তার ‘গ্রিন সিগন্যাল’ ছাড়া ঠিকাদারদের পক্ষে টেন্ডার জমা দেওয়াও কঠিন ছিল বলে দাবি সূত্রটির।
অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি প্রকল্পের কাজ বণ্টন এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিল সংশ্লিষ্ট চক্রটি। এর মাধ্যমে বিভিন্ন লাভজনক কাজ পাইয়ে দেওয়া ও তদবিরের বিনিময়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হতো। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে নির্দিষ্ট টেন্ডার নথি, আর্থিক লেনদেনের দলিল কিংবা স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।
রাজী ফখরুলের বিরুদ্ধে শুধু টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ নয়, ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগও রয়েছে। একাধিক সূত্রের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশ ছাড়েন তিনি। প্রথমে মালয়েশিয়ায় এবং পরে থাইল্যান্ডে অবস্থান নেন। বর্তমানে সেখানে বসে ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি রাজনৈতিক যোগাযোগ ও সিন্ডিকেটের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
তবে বিদ্যুৎ খাতের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, অর্থ আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের এসব অভিযোগের বিষয়ে রাজী মোহাম্মদ ফখরুলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া মেলেনি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

