বিশ্বকাপের ৭ ম্যাচে বাজি কারচুপির অভিযোগ, সন্দেহের তির স্পেনের খেলাতেও
Advertisement
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬, ০২:০৯ পিএম
সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
২০২৬ বিশ্বকাপে সাতটি ম্যাচে সন্দেহজনক বাজির অনিয়মের মাধ্যমে ফলাফল প্রভাবিত করার সম্ভাবনা আছে বলে জানিয়েছে একটি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠান। ফিফা যদিও ম্যাচ গড়াপেটার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছিল, তবে এই প্রতিবেদন সরাসরি বিরোধিতা করছে ফিফার আগের এই ঘোষণার সঙ্গে।
খেলাধুলার প্রতিযোগিতায় কারচুপি পর্যবেক্ষণ ও প্রতিরোধ করা স্বাধীন আন্তর্জাতিক সংস্থা কোপেনহেগেন গ্রুপ টুর্নামেন্টের ১০৪টি ম্যাচ পর্যালোচনা করার পর এই সাতটি সতর্কতা জারি করেছে।
এখনো পুরো প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। কাউন্সিল অব ইউরোপ তাদের গবেষণার সারসংক্ষেপ প্রকাশ করেছে। দ্য অ্যাথলেটিকের তথ্য অনুযায়ী, টুর্নামেন্টে সন্দেহ তৈরি করা উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলোর মধ্যে আছে কয়েকটি বিষয়।
মেক্সিকোর বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ম্যাচে ৮৪ মিনিটে থেম্বা জোয়ানের লাল কার্ড দেখাটি প্রথম ঘটনা। স্পেন কেপ ভার্দেকে হারাতে না পারা নিয়ে আমেরিকার ক্রিপ্টোকারেন্সি ভিত্তিক প্রেডিকশন প্ল্যাটফর্ম ‘পলিমার্কেট’-এ ৪৮ লাখ ডলারের (৩৬ লাখ পাউন্ড) বাজি ধরা হয়। গ্রুপ পর্বের এই ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়েছিল।
সৌদি আরবের বিপক্ষে ৪-০ গোলে জয়ে স্পেনের ফেররান তরেসের একটি গোল বাতিল করার আগে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) প্রযুক্তি সাড়ে তিন মিনিট সময় নেয়, যা তৃতীয় সন্দেহজনক ঘটনা।
যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের ঘটনাতেও চমকে দেওয়ার মতো তথ্য উঠে এসেছে। ২ জুলাই, শেষ বত্রিশে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ম্যাচে এই খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখার দিনই, ‘পলিমার্কেট’ প্ল্যাটফর্মে একটি বাজির বাজার খোলা হয়। প্রশ্ন ছিল, বালোগান কি বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলবেন।
ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি তার নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার পর ৫ জুলাই পর্যন্ত তার খেলার সম্ভাবনা নিশ্চিত করেনি। কোপেনহেগেন গ্রুপের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টুর্নামেন্টে লাল কার্ড দেখা বাকি ১৪ জন খেলোয়াড়ের কারো ক্ষেত্রেই এমন কোনো বাজার খোলা হয়নি, এবং তাদের কারো নিষেধাজ্ঞাও তোলা হয়নি।
কাউন্সিল অব ইউরোপের ম্যাচ ফলাফল কারচুপি বিষয়ক মাকোলিন কনভেনশনের অধীনে কাজ করা এই সংস্থা জানিয়েছে, বালোগুনের ঘটনায় লিখিত ব্যাখ্যা চেয়ে তারা ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠিয়েছে। দ্য অ্যাথলেটিক এই বিষয়ে ফিফা এবং পলিমার্কেটের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও এখনো পর্যন্ত কোনো জবাব পায়নি।
কোপেনহেগেন গ্রুপের এই তথ্য অনেকের কাছেই এসেছে বড় ধাক্কা হয়ে। মঙ্গলবার ফিফার ইন্টেগ্রিটি টাস্কফোর্স ঘোষণা দিয়েছিল, পুরো টুর্নামেন্টে কোনো ম্যাচেই সন্দেহজনক বাজি কার্যক্রম বা কারচুপির কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি। এর ঠিক একদিন পরই এই নতুন তথ্য সামনে এলো। উল্লেখ্য, কোপেনহেগেন গ্রুপ এবং কাউন্সিল অব ইউরোপ দুটোই ২০১৯ সালে গঠিত এই একই টাস্কফোর্সের স্বাধীন সদস্য।
এর বিপরীতে, কোপেনহেগেন গ্রুপ বুধবার জানায় যে তারা সাতটি ‘হলুদ সতর্কতা’ শনাক্ত করেছে। তাদের নিজস্ব সংজ্ঞা অনুযায়ী, ‘একাধিক অনিয়মের লক্ষণ’ দেখা গেলে হলুদ সতর্কতা জারি হয়। এর মধ্যে থাকতে পারে জয়ের সম্ভাবনায় অস্বাভাবিক ওঠানামা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব।
এই সংস্থার ব্যবস্থায় চারটি স্তর আছে। এগুলো হলো, সবুজ ‘স্বাভাবিক’, হলুদ ‘নিম্ন সতর্কতা’, কমলা ‘উচ্চ সতর্কতা’ এবং লাল ‘সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ স্তর’।
দ্য অ্যাথলেটিককে দেওয়া মন্তব্যে বেটিং বিশেষজ্ঞ ক্রিশ্চিয়ান কালব বলেন, এসব সতর্কতা মানেই কারচুপি হয়েছে, এমনটা নয়। কালব আগেও কোপেনহেগেন গ্রুপের সঙ্গে কাজ করেছেন।
কালব ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘এসব সতর্কতা অস্বাভাবিক আচরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে, যেমন সম্ভাবনার পরিবর্তন বা তারল্যের ঝুঁকি এড়ানোর কৌশল। বিশ্বকাপে বাজির পরিমাণ অনেক বেশি, প্রতিটি ম্যাচে শত শত কোটি পাউন্ড জড়িত থাকে, যা নির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন করে তোলে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মূল সমস্যা হলো স্বার্থের দ্বন্দ্ব এবং ভেতরের তথ্য। পলিমার্কেটের মতো প্রেডিকশন মার্কেটকে ঐতিহ্যবাহী বুকমেকাররা ঝুঁকি এড়াতে ব্যবহার করতে পারে। সবাই যখন ফেভারিট দলের ওপর বাজি ধরে, তখন তারা এর বিপরীত ফলাফলকে একধরনের বিমা হিসেবে ব্যবহার করে ক্ষতি কমাতে চায়।’
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশেষ করে গ্রুপ পর্বের শেষ রাউন্ডে ১৫টি ম্যাচ নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয় এবং ১২টি বিতর্কিত ঘটনা বিশ্লেষণ করা হয়।
এই সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, পুরো টুর্নামেন্টে মোট বাজির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে আনুমানিক ২৪ হাজার কোটি ডলার, যা ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
