বিওএতে ফের ভাঙন, পদত্যাগ করলেন উপমহাসচিব আমজাদ
Advertisement
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনে (বিওএ) ফের পদত্যাগের ঘটনা। প্রায় দু’সপ্তাহ আগে নির্বাহী কমিটির একাধিক সদস্যের পদত্যাগ ঘিরে তোলপাড় হয়েছিল দেশের অন্যতম শীর্ষ ক্রীড়া সংগঠন। আবার পদত্যাগ, এবার উপমহাসচিব আমজাদ হোসেন। বৃহস্পতিবার এ তথ্য দিয়েছেন বিওএ’র মহা পরিচালক শেফাউল কবির।
বিওএ’র তিন উপমহাসচিবের মধ্যে ইতোমধ্যেই পদ ছেড়েছেন দু’জন- এমএ কুদ্দুস ও আমজাদ হোসেন। এখনও দায়িত্বে রয়েছেন মাহবুবর রহমান শাহীন। পাঁচ সহ-সভাপতির মধ্যে পদত্যাগ করেছেন দু’জন—মেজর জেনারেল (অব.) নাঈম আশফাক চৌধুরী এবং বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভানেত্রী শুক্লা। নির্বাহী সদস্যদের মধ্যে সরে দাঁড়িয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমেদ, মাকসুদ আলম, হাবিবুর রহমান, ফারহাদ জেসমিন লিটি, হাবিবুর রহমান জামিল ও আব্দুল্লাহ হেল বাকী। তাদের মধ্যে লিটি মহাসচিব জোবায়েদুর রহমান রানা ও সহ-সভাপতি ইমরোজের অতিরিক্ত কর্তৃত্ববাদকে পদত্যাগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যেরা ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়েছেন।
পদত্যাগের তালিকা এখানেই শেষ নয়। বিওএর নির্বাহী কমিটিতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ও সেনা ক্রীড়া নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের প্রতিনিধিরাও থাকেন। চাকরি কিংবা অন্যত্র বদলির কারণে তাদের কেউ কেউ দায়িত্ব ছাড়েন। সেই ধারাবাহিকতায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কাজী নজরুল ইসলাম, ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সেলিম ফকির এবং সেনা ক্রীড়া নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের লেফটেন্যান্ট কর্নেল হুমায়ুন কবিরও পদত্যাগপত্র দিয়েছেন।
বিওএর নির্বাহী কমিটির মেয়াদ চার বছর। ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর গঠিত হয়েছিল নতুন কমিটি। ৩৭ সদস্যের সেই কমিটির মেয়াদ এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করেছেন ১৩ জন। এক-তৃতীয়াংশের কাছাকাছি সদস্যের সরে দাঁড়ানোয় কমিটির স্থায়িত্ব এবং কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তারউপর গত ১৮ জুলাই ২৮টি ক্রীড়া ফেডারেশনে কমিটি পরিবর্তন হয়েছে। নতুন কমিটির অনেকেই বিওএর নির্বাহী কমিটিতে নেই। ফলে বিভিন্ন ফেডারেশনের প্রতিনিধিত্ব নিয়েও তৈরি হয়েছে জটিলতা।
নতুন কমিটির শুরু থেকেই বিতর্কের কেন্দ্রে ছিলেন মহাসচিব জোবায়েদুর রহমান রানা ও সহ-সভাপতি মেজর ইমরোজ। ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে তারা দু’জনেই ফেডারেশন পুনর্গঠনের জন্য গঠিত সার্চ কমিটিতে ছিলেন। রানা ছিলেন সেই কমিটির আহবায়ক। ফুটবল ও ক্রিকেট বাদে অন্য ফেডারেশনগুলোর কমিটি পুনর্গঠনের দায়িত্ব পালন করে ওই সার্চ কমিটি। অভিযোগ সার্চ কমিটির মনোনীত ব্যক্তিদের সিংহভাগই পরে বিওএর কাউন্সিলর হন। ফলে একই ব্যক্তিদের ফেডারেশন পুনর্গঠন এবং অলিম্পিকের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকা নিয়ে স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন ওঠে। বিষয়টি নিয়ে বিওএর নির্বাচন কমিশনকে চিঠিও দিয়েছিলেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সাবেক পরিচালক ক্রীড়া আমিনুল এহসান।
পদত্যাগের পর পদত্যাগ। নতুন কমিটি গঠনের এক বছরের মধ্যেই এমন পরিস্থিতি বিওএর সাংগঠনিক স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো করেছে। ব্যক্তিগত কারণ, প্রশাসনিক বদলি কিংবা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অসন্তোষ—পদত্যাগের কারণ আলাদা হলেও, একের পর এক সদস্যের সরে যাওয়া দেশের অলিম্পিক প্রশাসনের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
